Dear Friends,
Thanks for your interest in the YouTube channel "Bhromon India" (ভ্রমণ ইন্ডিয়া).

This is my primary YouTube channel to share my travel vlog, and my experience with Indian life, and try to help people by providing useful information based on my experience. If you like this information, please thank me by subscribing to the channel or making a like or let me know by commenting.

In this channel you will get videos in the following categories:

1. Travel Guide and Travel Vlog
2. Jobs and Career related information and advice
3. Hospitals and Medical systems in Bangalore
4. Bangalore update
5. Moto Vlog


For any query/suggestion please email me at "bhro.india@gmail.com".

Find "Bhromon India" at
Website: bhromon.in


Thank you,
Bhromon India


Bhromon India

GCC বনাম IT সার্ভিস কোম্পানি, আগামীকাল (26-May-2026) সন্ধ্যা ৭ টায় থাকছে এই ভিডিওটি।

4 days ago | [YT] | 19

Bhromon India

আয়ুষ্মান ভারত নিয়ে একটি খবর দেখে আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। এই খবর অনুসারে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন যে সাস্থ্য সাথী কার্ডের সকলে আয়ুষ্মান এর সুবিধা পাবেন। তবে এটাও খবরে বলেছে সেক্ষেত্রে আয়ুষ্মান এর নিয়ম এর বদল আনতে হবে। তবে এখনও পর্যন্ত সঠিক কি হতে চলেছে তা পরিষ্কার নয়। অর্থাৎ আমি ভিডিওতে যেটা জানিয়েছিলাম এখনও পর্যন্ত সেখানেই রয়েছে বিষয়টি। প্রকৃতপক্ষে কি হচ্ছে সেটা জানতে আমাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

www.anandabazar.com/photogallery/who-will-get-ayus…

4 days ago | [YT] | 9

Bhromon India

অনেকের অনুরোধে ভ্রমণ ইন্ডিয়া চ্যানেলের ইনস্টাগ্রাম একাউন্ট'টি আবার চালু করছি। রীল - ছোট ভিডিও ও দ্রুত নতুন ভিডিওয়ের স্বাদ পেতে ভ্রমণ ইন্ডিয়ার ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেল ঘুরে দেখতে পারেন।

www.instagram.com/bhromon.india/

5 days ago | [YT] | 8

Bhromon India

মাত্র চার দিনে ১২-১৩ মিলিয়ন অর্থাৎ ১.২-১.৩ কোটি মানুষ follow করছেন আরশোলা 🪳 পার্টি কে! ইতিমধ্যেই আমাদের দেশের সব চেয়ে বড় পার্টি বিজেপি এর থেকে বেশি মানুষ follow করছে! এরা সবাই যুবক, লেখাপড়া করছে বা বেকার। আসলে এটাই দেখায় আমাদের দেশের বর্তমানে বেকারত্বের অবস্থা। যুবক যুবতীদের বেকারত্বের হতাশা, প্রশ্নপত্র লক্ষ লক্ষ টাকায় চুরি, আর তার প্রতিবাদ জানলে, সর্বাধিকারী কর্মকর্তারা নিজেদের অসফলতা স্বীকার না করে এদের আরশোলা 🪳 বা ককরোচ বলে দাগিয়ে দেয়ার প্রতিবাদ - এই নতুন পার্টির বুনিয়াদ।
আপনি কি বলবেন এই জেন- জি মুভমেন্ট কে?

1 week ago | [YT] | 52

Bhromon India

এই বিষয়ে কি কিছু আলোচনা করা যায়? আজ সন্ধ্যা ৭ টায় একটু সময় নিয়ে দেখুন।

2 weeks ago | [YT] | 19

Bhromon India

আজ দুপুরে

2 weeks ago | [YT] | 26

Bhromon India

চ্যানেলের সকল বন্ধুকে জানাই নতুন বছরের আন্তরিক শুভেচ্ছা। নতুন বছর আপনাদের জীবনে নিয়ে আসুক অফুরন্ত সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। আপনার সমস্ত স্বপ্ন সত্যি হোক এবং নতুন বছরটি হোক সাফল্য, আনন্দ ও ভালোবাসায় ভরা।
শুভ নববর্ষ!

1 month ago | [YT] | 96

Bhromon India

কুর্গ এর ময়ুরা হোটেল এর সামনে আমার মা ও বাবা। পশ্চিমবঙ্গ থেকে গাড়িতে ব্যাঙ্গালোর এসে তারপর সেখানের থেকে মহিশুর- উটি ঘুরে এখন কুর্গ এ। পশ্চিমবঙ্গের বাড়ি থেকে আসবার মাত্র কয়েকদিন আগে রাস্তায় পড়ে গিয়ে ডান হাত ভেঙে যায়। যার জন্য অপরেশন করে স্টিল প্লেট বসায় ডাক্তারবাবুরা। আর তার জাস্ট ৩/৪ সপ্তাহ পরেই অপারেশন করা হাত বেঁধে ঘুরতে বেরিয়ে পড়া। ৭০ পার করেও ঘুরবার এমন উৎসাহ কয় জনের থাকে?

2 months ago | [YT] | 146

Bhromon India

প্রিয় বন্ধুরা,
আমার নতুন ভিলার ভিডিওতে বহু মানুষ বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করেছেন। অনেকের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি তবে এত প্রশ্নের উত্তর দেয়া সত্যিই খুবই কঠিন। আগামীতে একটা ভিডিও করে সেসব প্রশ্নের উত্তর দেবার চেষ্টা করব।

বর্তমানে এনাদের ফেজ ৫ এর বিক্রি চলছে, শুনেছি ₹৩২০০ / sq ফিট জমি ও ₹২৫০০ / sq ফুট তৈরি খরচ নিচ্ছে এরা। ইন্টেরিয়র আলাদা। জমি ১২০০/১৫০০/১৮০০ sq ft এর প্লট রয়েছে যা যা আমি জানি।

আপনারা যারা এই প্রজেক্ট ভিজিট করতে ইন্টারেস্টেড তাদের বলব আমায় একটা ইমেল করে আপনার ফোন নম্বর দিয়ে দেবেন। এরাই আপনার সাথে যোগাযোগ করে নেবে। এখানে কিছু অসুবিধাও রয়েছে, সেসব সম্পর্কে আপনাকে জানিয়ে দেবো, যে গুলি নিয়ে সরাসরি sales টিম এর সাথে কথা বলে নেবেন।

ইমেল করুন bhro.india@gamil.com

ধন্যবাদ
সুমন

2 months ago | [YT] | 16

Bhromon India

ফুলের স্বর্গরাজ্য “ভার্সে” একদিন - পোস্ট ২/২
আগের অংশটি এই লিংকে - youtube.com/post/UgkxFV08mSRg5_y57DBwjQmvPaXc7qp2C…

—--------------------------------------


মঙ্গলবার , ১৩ এপ্রিল ২০২১

পরের দিন বেশ ভোরে ঘুম ভেঙে গেলো, রাত্রে খুব ভাল ঘুম হয়নি। খুবই ঠান্ডা লাগছিল। রাত্রে হয়ত শূন্যের নিচে চলে গিয়েছিল তাপমাত্রা। সকালে রিনচেন চা দেবার সময় জানাল গতকাল রাত্রে সম্ভবত লেপার্ড এসেছিল। এখানে মাঝে মাঝেই লেপার্ড চলে আসে। আর সে এও জানাল এই কারণেই সন্ধ্যার পর আমাদের গ্রামের মনেস্ট্রি নিয়ে যায়নি। তবে খুব ভোরে গৌতমদা একাই মনেস্ট্রি ঘুরে এসেছে। গৌতমদা বরাবরই খুব ভরে ঘুম থেকে ওঠে এখানেও সেই অভ্যাস।

আজ আমরা রডোডেনড্রন ফুলের স্বর্গ ভার্সে দেখতে যাব। রিনচেনদের গ্রাম থেকে সেখানে যাবার জন্য শেয়ার গাড়ি চলে না, প্রাইভেট গাড়ি বুক করতে হয়। আমরা গতকাল রাত্রেই রিনচেনদের মাধ্যমে একটা ছোট গাড়ি ও গাইড বুক করে নিয়েছিলাম। সকালের খাবার খেতে খেতেই তারা চলে এলো। রিনচেনদের হোমস্টে থেকে আমাদের যেতে হবে হিলে নামক একটা জায়গায়। মোট দূরত্ব ১২/১৩ কিলিমিটার মতো। জায়গাটা গভীর জঙ্গলের মধ্যে।

চটপট সকালের খাবার খেয়ে আমরা বেরিয়ে পড়লাম। একটু পরেই জঙ্গলের রাস্তা শুরু হলো। জঙ্গলের মধ্যে দেখলাম রংবেরঙের অতি সুন্দর এক বনমোরগ, আমাদের গাড়ির সামনে দিয়ে ছুটে চলে গেল। আরেকটু যাবার পরই যেখানে পাহাড়ের ছায়া পড়ছে সেখানে দেখতে পেলাম জমে থাকা বরফ। আজও বরফ রয়েছে এখানে! বরফের কাছে যাবার কথা বলতে আমাদের গাইড বারণ করলো। সে জানাল এই সব জায়গায় অনেক জংলী জানোয়ার রয়েছে তাই তারা কেউ এখানে খুব দরকার না হলে গাড়ি থেকে নামেনা। কিছুক্ষন পরে আমরা পৌঁছলাম হিলে।

হিলে জঙ্গলের মধ্যে একটা ছোট জায়গা। যেখানে রয়েছে দুই-তিনটি হোটেল, চা বা ম্যাগি জাতীয় খাবারের দোকান ও ভার্সে যাবার টিকিট কাউন্টার। এখানে কেউ স্থায়ী ভাবে থাকে না। সকালে সবাই আসে ভার্স ঘুরে আবার বিকালের আগে ফিরে যায়। তবে হোটেলগুলোতে মানুষ থাকে। কিন্তু গরমের সময় বাদে সেভাবে ভিড় হয়না।

নিমা আমাদের এই সফরের গাইড। রোগা চেহেরার ছোট আকৃতির নিমার প্রধান জীবিকা টুরিস্ট গাইড। সারা বছর টুরিস্ট দের গাইড করেই তার দিন চলে। নিমা আমাদের জানালো টিকিট কাউন্টার থেকে আমাদের দুই জনের টিকিট নিতে কারণ এখানে গাইডদের টিকিট লাগে না।

ভার্সের টিকিট কেটে আমাদের যাত্রা শুরু। প্রায় ৪ কিলোমিটার হেটে যেতে হবে এই পাহাড়ি জঙ্গল পথে তবেই দেখা মিলবে রডোডেনড্রন ফুলের স্বর্গ। এমন একটা জায়গা যেখানে চারি দিক চেয়ে রয়েছে লাল হলুদ আরও অনেক রঙের ফুলে। গেট পার হয়ে একটু দূর এসেই দেখা পেলাম প্রথম গুরুঞ্চ বা রডোডেনড্রন ফুলের। জঙ্গলের মধ্যে চারিদিক একেবারে নিস্তব্দ, রয়েছে শুধু হাওয়ার জন্য পাতায় পাতায় ঘষা লাগবার শব্দ আর তারসাথে পাখিদের মিষ্টি সুরের ডাক। প্রথমে কিছুটা সিঁড়ি ভেঙে উঠে তারপর মরম বিছানো রাস্তা। রাস্তা সরু তার একদিকে পাহাড়ের ঢাল অন্য দিকে গভীর গিরিখাত। জায়গায় জায়গায় জঙ্গল খুবই গভীর, যেন সূর্যের আলোও এখানে ঢুকতে পারে না। এই জঙ্গলে বিভিন্ন ধরণের গাছ রয়েছে। তারমধ্যে পাইন, সেগুন, রডোডেনড্রন ও বাঁশ এর বন। রাস্তার ওপর দিয়েই বয়ে চলেছে বরফগলা ছোট ঝর্ণার জল আবার কোথাও মরা গাছ ভেঙে রাস্তার ওপর পড়ে রয়েছে। পাইন বনের মধ্যে কুয়াশা যেন খেলে জায়গাটা যেন মায়াবী করে তুলেছে।

আমাদের গাইড হটাৎ রাস্তা থেকে একটা ফল তুলে আমাদের দেখিয়ে বলল, এই ফল ভাল্লুরকের খুবই পছন্দ। আর একটা দেখে মনে হচ্ছে ভাল্লুকই খেয়েছে। আশেপাশে এই একই ফল অনেকগুলো পড়েছিল। ভাল্লুক ফল খেয়েছে মানে হতে তো পারে সে এখনো আশেপাশেই রয়েছে। বিষয়টা ভেবেই বেশ ভয় ভয় করে উঠলো। আমাদের গাইড আস্বস্ত করে বললো যে না ভাল্লুক থাকলেও দিনের বেলায় ভয় নেই। আর আরো জানালো এর মধ্যে হরিণ-লেপার্ড এর মতো জানোয়ারও থাকে। তবে এই জঙ্গলের সব চেয়ে আকর্ষণীয় হলো রেড পান্ডা। রেড পান্ডা বিলুপ্তপ্রায় এক প্রাণী তবে এখনও এই জঙ্গলে মাঝে মাঝে দেখা যায়। নিমা, সে নিজেও কয়েকবার রেড পান্ডা দেখেছে, বাঁশের পাতা রেড পান্ডার খুবই পছন্দ আর সেটা খেতেই পান্ডারা আসে এখানে।

জঙ্গলের মধ্যে হেঁটে চলেছি, কখনও খাড়াই কখনও উৎরাই। আবার মাঝে মাঝে কুয়াশ এসে আমাদের চলার পথ ঢেকে দিচ্ছে। এভাবে কিছুক্ষন চলবার পরে প্রথম একটা বসে বিশ্রামের জায়গা দেখলাম। পথ চলার শুরুতে বেশ কষ্ট হচ্ছিল তবে কিছুক্ষন চলবার পরে বেশ অভ্যাস হয়ে এলো। তবু বসবার জায়গা দেখে একটু আরাম করে বসে কিছুক্ষন বিশ্রাম নিলাম। এর মধ্যে কতকগুলি মানুষ মাথার ভারী বোঝা নিয়ে এসে দাঁড়াল। লোকাল লোক, এই জঙ্গলে মুটের কাজ করে। ওপরে একটা হোটেল রয়েছে সেখানে রাত্রিবাস করা যায়। এই লোকগুলি সেখানের জন্য মালপত্র মাথায় করে নিয়ে যাচ্ছে। কথায় কথায় জানালো এক একটি বোঝার ওজন ৫০ কিলোর বেশি। শুনে অবাক হলাম এটা ভেবে যে যেখানে আমরা শুধু হেঁটে উঠতেই হাপিয়ে যাচ্ছি সেখানে এরা এমন বোঝা নিয়ে কিভাবে যাচ্ছে! এখানে যাবার মতো এই একটাই রাস্তা তাও কোথাও উঁচু কোথাও নিচু কোথাও আবার পাথর কেটে সিড়ি আবার কোথায় গর্ত, রাস্তাটাও খুব বেশি হলে ৪ - ফুট চওড়া আবার কোথাও কোথাও তারও কম। ফলে এখানে গাড়ি চলবার কোনও উপায় নেই। ফলে এভাবেই মাল পত্র নিয়ে যাওয়া একমাত্র উপায়। এভাবেই বালি সিমেন্ট রড এসব নিয়ে গিয়ে হোটেল তৈরি হয়েছে, ভেবেই আশ্চর্য হলাম!

কিছুক্ষন বিশ্রামের পর আবার পথ চলা শুরু। রাস্তা তেমনই। একজায়গায় দাড়িয়ে আমাদের গাইড এক দিকে ইঙ্গিত করে বলল এখানের থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায় যদি আকাশ পরিষ্কার থাকে। কিন্তু আজ সেই সৌভাগ্য ছিলো না। আরেকটু পরে রাস্তার থেকে একটু উপরে দেখতে পেলাম মহাদেবের একটা ছোট মন্দির। সেখানে আশেপাশে কেউ না থাকলেও সেখানে তখনও ধুপ জ্বলছিল। হয়তো কেউ একটু আগেই এখানে পুজো দিয়েছে। এই পথেই দেখা পেলাম কলকাতার একটি পরিবারের সাথে। তারা উপরের হোটেল বুক করেছিল কিন্তু সেখানে পৌঁছে কাউকে না পেয়ে ফিরে আসছে। নেটওয়ার্ক নেই ফলে সেখানের থেকে ফোনেও যোগাযোগ করতে পারেনি। মোবাইল চেক করে দেখলাম আমাদের নেটওয়ার্ক এরও একই অবস্থা। নিমা বলল বিএসএনএল বাদে আর করো নেটওয়ার্ক এখানে পাবে না।

না রাস্তায় আর কোথাও আমাদের বিশ্রাম নেবার প্রয়োজন হলোনা। আমরা একেবারে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার হেঁটে পৌঁছে গেলাম ফুলের স্বর্গে ভার্সে । জায়গাটা পাহাড়ের একেবারে উপরে আর জায়গাটা বেশ সমতল। রাস্তায় যে জঙ্গল ছিলো এখানে সেটা নেই ফলে পরিস্কার আকাশ দেখা যাচ্ছে। এতক্ষণ যে জঙ্গলের রাস্তায় এলাম সেখানে আকাশ ঢেকে দিয়েছিল গাছের পাতা যা এখানে নেই। চারিদিক বিভিন্ন ধরনের রডোডেনড্রন বা গুরুঞ্চ ফুলের গাছ। নিমা বলল এখানে প্রায় ১২/১৪ ধরনের গুরুঞ্চ ফুল রয়েছে। কোনটা লাল কোনটা হলুদ আবার কোনটা বেগুনি বা আর কোনও রঙের।

আমাদের ভাগ্য খুব একটা সুপ্রসন্ন ছিল না। এতটা পথ এসে আমাদের কিছুটা নিরাশ হতে হলো। নিমা জানালো এখানে দুই তিন আগে এসেও সে অনেক ফুল দেখেছে। কিন্তু দুই দিন আগের বৃষ্টি হবার ফলে সেসব ফুল ঝরে গিয়েছে। গাছে নিচে সেসব ফুলের পাপড়ি এখনও দেখা যাচ্ছে। আর গাছে রয়েছে প্রচুর ফুলের কুড়ি যা ফুটতে আরও প্রায় এক সপ্তাহ লাগবে। তবে একেবারে ফুল নেই তাও নয়। অল্প কিছু ফুল আবার ফুটেছে কিন্তু ভার্সের যে ছবি দেখেছি যে লাল ফুল ফুটে একেবারে জঙ্গলে আগুন লেগে যাবার রূপ সেটা একেবারেই নেই এখন।

জায়গাটা এতই নির্জন যে যেন নিজেদের নিশ্বাসের শব্দও যেন শুনতে পারছিলাম। আশেপাশের থেকে ভেসে আসছিলো বিভিন্ন ধরনের পাখির সুমিষ্ট ডাক। কোনোটা দোয়েলের মতো পাখির আবার কোনোটা আচেনা কোনও সুর। এখানের পাখিগুলি বেশ মোটাসোটা গোলগাল চেহারার হয়তো ঠান্ডার কারণের।

এখানে খাবারের কোনো দোকানের কথা ভাবাই অসম্ভব। যে কারণে হোমস্টে থেকে আমাদের দুপুরের খাবার বানিয়ে দিয়েছিল যেটা আমরা এখানে বসে খেলাম। এতো সুন্দর এক পরিবেশে উষ্ণ চায়ের সাথে আলুপরোটা একেবারে নৈসর্গিক খাবার। বেশ কিছুক্ষন বসে তারপর সামনের দিকে আবার চলতে শুরু করলাম। আমাদের গাইড, নিমা বললো সামনে ফুল পাওয়া যাবে। আর সেই লোভেই চললাম। নিমা আমাদের বিভিন্ন ধরণের গুরুঞ্চ বা রডোডেনড্রন এর গাছ চিনিয়ে দিলো। জানলাম এখানে অনেক ধরণের এমন ফুলের গাছ রয়েছে যার কোনটা ছোট ঝোপের মতো তো কোনটা একটু বড়। ভেবে আশ্চর্য লাগলো যে এখানে এমন পাহাড় এর মাথায় কে এতো সুন্দর করে সব ফুলের গাছ লাগিয়েছে। সত্যি প্রকৃতি কতই না আশ্চর্যের! এই ফুলের বাগান, যেভাবে এখানে ফুলের গাছগুলি রয়েছে তাতে জঙ্গল না বলে বাগানই বলা চলে। সেই বাগান অনেকদূর পর্যন্ত বৃস্তিত। এই গাছগুলির মধ্যে থেকে পায়ে হাটা পথ চলে গিয়েছে সামনের দিকে। আমরা চললাম জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে সেই পথ ধরে। প্রায় আরো এক কিলোমিটার যাবার পর একটা জায়গা বেশ ফাঁকা। সেখানে রয়েছে একটি হোটেল, নাম গুরুজ-কুঞ্জ। জায়গার সাথে হোটেল এর নামের একেবারে উপযুক্ত।

হোটেলটি বেশ সুন্দর। সামনে লন এর মতো একটা জায়গা, অনেক ঘাস হয়ে আছে সেখানে। আশ্চর্যের যে এই হোটেল তৈরির সব জিনিস এখানে মানুষ মাথায় করে নিয়ে এসেছে এই সম্পূর্ণ ট্রেক এর রাস্তা দিয়ে! এমন কি এখানে থাকলে তার সব খাবার সব কিছুই আসে ওই রাস্তা দিয়ে। নিমা জানালো এখানে রাত্রে অনেক সময় জংলী জানোয়ার চলে আসে। তবে সে যাই আসুক আমি একবার কল্পনার চেস্ট করলাম এখানে এক জ্যোৎস্না আলোকিত রাত্রিতে বসে, এই জঙ্গলের রূপ উপভোগ করতে কতই না ভাল লাগবে। অথবা এখানে এক সূর্যোদ্বয়, সত্যি এসব যেমন একেবারে কোনো স্বর্গীয় অনুভূতি।

বেলা প্রায় চারটে, এবার ফিরতে হবে। অনেকটা রাস্তা হেঁটে হিলে পৌঁছে তারপর গাড়ি চড়ে হোমস্টে ফেরা। পাহাড়ি জঙ্গলে অন্ধকার নাম খুব দ্রুত। আসবার সময় রাস্তায় দুই চার জনের সাথে দেখা হয়েছিল কিন্তু ফিরবার সময় কাউকে পেলাম না। অন্ধকার না হলেও বিকাল থেকে ঠান্ডা, কুয়াশা আর হাওয়া - এসব মিলিয়ে ফিরবার সময় যেন এক ভয়ঙ্কর পরিবেশ হয়ে উঠলো এই জঙ্গলের রাস্তা। আমরা যখন গাড়ির কাছে ফিরলাম তখন প্রায় অন্ধকার। যদিও সময় মাত্র পাঁচ’টার একটু বেশি কিন্তু পাহাড়ি জায়গায় এর মধ্যেই দিনের আলো ফুরিয়ে গিয়েছে। ড্রাইভার মৃদু ধমক দিলো দেরি করবার জন্য। দেখলাম হিলে’তে যে কয়েকটি দোকান ছিল তারা সবাই দোকান বন্ধ করে ইতিমধ্যেই ফিরে গিয়েছে। শুধু ড্রাইভার গাড়ির দরজা-জানালা বন্ধ করে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলো। ড্রাইভার জঙ্গলের রাস্তায় আর একটাও কথা বললো না, জঙ্গলের পথে বেশ জোরে গাড়ি হাঁকিয়ে দ্রুত জঙ্গল পার করলো। জঙ্গল পেরিয়ে আসবার পরে জানালো ওই জঙ্গলে রয়েছে প্রচুর জংলী জানোয়ার যা সন্ধ্যার পরে জেগে ওঠে। আমরা যে রাস্তা দিয়ে আমরা গিয়েছি এমনকি হিলের গাড়ি রাখার জায়গা বা টিকিট কাউন্টার এর আশেপাশেও ওরা চলে আসে। আমরা এতটা দেরি করে খুবই ভুল করেছি। সন্ধ্যার একটু পরে আমরা রিনচেনদের হোমস্টে তে পৌঁছে গেলাম।
বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১

গতকালের সারা দিনের অনেকটা পাহাড়ি পথচলা আমাদের খুবই ক্লান্ত করে দিয়েছিলো। রাত্রে তাড়াতাড়ি খেয়ে শুয়ে পড়েছিলাম আর উঠেছি প্রায় সকাল ৮ টা নাগাদ। ইতিমধ্যেই সব শেয়ার গাড়ি ওখরে থেকে চলে গিয়েছে জোড়থাং এর পথে। শেষ উপায় সকাল ৯ টার বাস নইলে এবার হয় প্রাইভেট গাড়ি বুক করতে হবে । পকেটের চাপ কমাতে আমরা বাসেই চড়ে বসলাম আর চললাম সেই প্রথম দিনের রাস্তা ধরে, প্রথমে জোড়থাং তার পর রুট বদলে দার্জিলিং হয়ে মিরিকের এর দিকে। সে অবশ্য আলাদা গল্প, সেটা না হয় আরো কোনোদিন বলবো।

3 months ago (edited) | [YT] | 3