#সোমনাথবাবু_ও_তাঁর_পতন বিখ্যাত শিল্পপতি সোমনাথ বাবু সোফায় হেলান দিয়ে বসে চুরুট টানছিলেন। আজ তার মন খুব খুশি। নিজের ভাই, স্ত্রী আর দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত বন্ধুদের ব্যবসা এবং সম্পত্তি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে দিতে পেরেছেন তিনি। এখন পুরো মল্লিক সাম্রাজ্যের একক মালিক তিনি।তার এই সফলতার পেছনে অবদান রয়েছে একজন বহিরাগত তরুণ পরামর্শদাতার। নাম তার বিকাশ। বছরখানেক আগে বিকাশ সোমনাথ বাবুর ব্যবসায়িক উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেয়। সে ছিল উচ্চশিক্ষিত এবং মুখে তার মিষ্টি কথা। যোগ দিয়েই সে সোমনাথ বাবুর মনে সন্দেহের বীজ বোনা শুরু করে। একদিন অফিসে কফি খেতে খেতে বিকাশ বলেছিল, "সোমনাথ বাবু, আপনার ছোট ভাই অমিতকে দেখলাম নতুন প্রজেক্টের ফাইলগুলো খুব গোপনে দেখছে। আপনার সই জাল করার চেষ্টা করছে না তো?"সোমনাথ বাবু প্রথম দিকে পাত্তা দেননি। কিন্তু বিকাশ ধীরে ধীরে চাল চালতে থাকে। সে কিছু ভুয়া অডিও ক্লিপ আর জাল নথিপত্র তৈরি করে সোমনাথ বাবুকে দেখায়। সোমনাথ বাবুর স্ত্রী অলকা দেবী যখনই স্বামীর এই অতিরিক্ত কাজের চাপ নিয়ে চিন্তা প্রকাশ করতেন, বিকাশ আড়ালে গিয়ে সোমনাথ বাবুকে বলত, "বউদি কিন্তু আপনার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিচ্ছেন না, উনি আসলে আপনার সম্পত্তির ওপর নজর রাখছেন।" এমনকি ৩০ বছরের পুরনো বন্ধু ও ব্যবসার অংশীদার সুব্রত বাবু যখনই নতুন কোনো ব্যবসায়িক ঝুঁকিতে সোমনাথ বাবুকে সতর্ক করতেন, বিকাশ সেটাকে 'সুব্রতর হিংসা' বলে প্রমাণ করত।সোমনাথ বাবু নিজের রক্তের সম্পর্ক বা পুরনো বন্ধুদের ওপর ভরসা না করে বিকাশের প্রতিটি চাল, প্রতিটি পরামর্শ অন্ধের মতো বিশ্বাস করলেন। একদিন মাঝরাতে তীব্র ঝগড়া করে ভাই অমিতকে বাড়ি থেকে বের করে দিলেন। স্ত্রীকে পাঠালেন বাপের বাড়ি। আর দীর্ঘদিনের বন্ধু সুব্রত বাবুকে অপমান করে পার্টনারশিপ থেকে তাড়িয়ে দিলেন। তিনি ভাবলেন, চারপাশের সব শত্রু পরিষ্কার করে তিনি এখন সবচেয়ে শক্তিশালী রাজা।এক সন্ধ্যায় সোমনাথ বাবু যখন তার নতুন সাফল্যের আনন্দ উদযাপন করছেন, তখন বিকাশ তার কেবিনে ঢুকল। তবে আজ তার পরনে সাধারণ কর্মচারীর পোশাক ছিল না, সে দামি স্যুট পরে এসেছিল। তার মুখে আগের সেই চাটুকারিতার হাসি ছিল না, ছিল এক পিশাচিক তৃপ্তি। সে সোমনাথ বাবুর টেবিলের ওপর একটা আইনি নোটিশ ছুড়ে দিল।সোমনাথ বাবু চমকে উঠে চশমাটা ঠিক করতে করতে বললেন, "এটা কী বিকাশ? কোনো নতুন প্রজেক্টের চুক্তি?"বিকাশ ঠান্ডা গলায় হাসল। চেয়ার টেনে সোমনাথ বাবুর মুখোমুখি বসে বলল, "না সোমনাথ বাবু, এটা মল্লিক ইন্ডাস্ট্রির নতুন মালিকানার কাগজ। গত কয়েক মাসে আপনি নিজের লোকেদের তাড়াতে গিয়ে এবং সম্পত্তি একা নিজের নামে করতে গিয়ে যেসব কাগজে সই করেছেন, সেগুলো ভালো করে পড়েছিলেন? আপনি আসলে নিজের অজান্তেই কোম্পানির ৭০ শতাংশ শেয়ার আমার নামে ট্রান্সফার করে দিয়েছেন। আপনার ভাই অমিত ফিন্যান্স ভালো বুঝত, আপনার স্ত্রী আপনার ভালো-মন্দ বুঝত, আর সুব্রত বাবু আইনি মারপ্যাঁচ বুঝত। ওরা পাশে থাকলে এই জালিয়াতি আমি কোনোদিন করতে পারতাম না। আপনি নিজেই তো নিজের অহংকারে অন্ধ হয়ে দুর্গ খালি করে দিয়েছেন!"সোমনাথ বাবু মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন। তার চারপাশটা অন্ধকার হয়ে গেল। বুক ফেটে কান্না এলেও চোখের জল শুকিয়ে গেছে। আজ তার ব্যাংকে হয়তো কিছু টাকা অবশিষ্ট আছে, কিন্তু এই বিশাল জালিয়াতির বিরুদ্ধে আইনি লড়াই লড়ার জন্য বা এই কঠিন বিপদে মাথায় হাত রাখার মতো একটা মানুষও তার পাশে নেই। তিনি সম্পূর্ণ একা।তিনি ঘরের দেওয়ালের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলেন, আসল শত্রু বাইরে ছিল না। শত্রু ছিল তার নিজের মনের ভেতর—তার অহংকার আর সন্দেহ, যা তাকে অন্ধ করে দিয়েছিল। মানুষের পতন আসলে সেদিনই হয়ে যায়, যেদিন সে নিজের ভালোবাসার মানুষদের হারানোর জন্য বা দূরে ঠেলে দেওয়ার জন্য কোনো স্বার্থপর তৃতীয় ব্যক্তির দরজায় গিয়ে পরামর্শ খোঁজে। ✍️ @desiyoghorkonna @desiyoghorkonna2000
#গ্রীষ্মের দাবদাহে লেবুর জল সত্যিই আমাদের প্রাণ জুড়িয়ে দেয়। নিচে লেবুর জল নিয়ে একটি ছোট গল্প এবং এর অসাধারণ উপকারিতাগুলি দেওয়া হলো।
🍋 #দুপুরের এক গ্লাস শান্তি (ছোট গল্প) বৈশাখ মাসের দুপুর। সূর্য যেন আকাশ থেকে আগুন বর্ষণ করছে। পঁচিশ বছরের যুবক অয়ন পিঠে ভারী ব্যাগ নিয়ে ইন্টারভিউ দিয়ে বাড়ি ফিরছিল। বাস থেকে যখন নামল, তখন তার গলা শুকিয়ে কাঠ, শরীর ক্লান্তিতে ভেঙে পড়ছে। মনে হচ্ছিল, এখনই সে রাস্তায় বসে পড়বে। কোনো রকমে টেনে টেনে পা দুটোকে বাড়ির সদর দরজায় নিয়ে এলো সে। কলিং বেল বাজাতেই মা দরজা খুললেন। অয়নের ফ্যাকাশে মুখ আর কপালের ঘাম দেখে মা আর একটি কথাও বাড়ালেন না। তাকে ফ্যানের নিচে বসিয়ে দ্রুত রান্নাঘরে চলে গেলেন। মিনিট দুয়েকের মধ্যে মা ফিরে এলেন একটা কাঁচের গ্লাস হাতে। তাতে ঠাণ্ডা জলের সঙ্গে মেশানো টাটকা পাতিলেবুর রস, এক চিমটে বিট নুন আর সামান্য চিনি। অয়ন গ্লাসটা এক চুমুকে শেষ করল। প্রথম চুমুকেই যেন ম্যাজিক হলো। লেবুর তীব্র টক আর হালকা মিষ্টির সেই স্বাদ নিমেষেই তার জিভে জল এনে দিল। ঠাণ্ডা জলটা গলা দিয়ে নামতেই বুকের ভেতরের জ্বালাভাব এক লহমায় উধাও। কপালে জমে থাকা ক্লান্তির রেখাগুলো মুছে গিয়ে চোখে-মুখে এক অদ্ভুত তৃপ্তি ফুটে উঠল। অয়ন বড় একটা শ্বাস নিয়ে হাসল, "মা, এই রোদে পাঁচতারা হোটেলের দামি কোল্ড ড্রিংকসও এই এক গ্লাস লেবুর জলের কাছে নস্যি! আমার প্রাণটা একেবারে ঠাণ্ডা হয়ে গেল।" মা হেসে অয়নের মাথায় হাত রাখলেন। সত্যিই, সাধারণ এই লেবুর জল কোটি টাকার চেয়েও দামি সুখ এনে দিতে পারে।
🌟 লেবুর জলের অসাধারণ উপকারিতা খুব সামান্য এবং সস্তা এই পানীয়টি আমাদের শরীরের জন্য অমৃত সমান। এর মূল গুণাগুণ নিচে দেওয়া হলো:
#শরীরে জলের অভাব দূর করে: গরমের ঘামে শরীর থেকে যে জল ও খনিজ বেরিয়ে যায়, লেবুর জল তা দ্রুত পূরণ করে রিহাইড্রেট করে। #ভিটামিন সি-এর ভাণ্ডার: এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং যেকোনো ইনফেকশনের হাত থেকে রক্ষা করে। #হজম শক্তি বাড়ায়: দুপুরের ভারী খাবারের পর লেবুর জল খেলে তা লিভারকে সচল রাখে এবং বদহজম ও গ্যাস দূর করে। #তাৎক্ষণিক এনার্জি দেয়: ক্লান্ত শরীরে লেবুর জল ক্লান্তি দূর করে নিমেষের মধ্যে চনমনে ভাব এনে দেয়। #ত্বক উজ্জ্বল রাখে: এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রক্ত পরিষ্কার করে, ফলে গরমেও ত্বক সতেজ ও চকচকে থাকে। #ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে: সকালে হালকা গরম জলে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে শরীরের মেদ ঝরানো সহজ হয়।
এক গ্রামে কেশব নামের এক আদার ব্যাপারী ছিলেন। তিনি প্রতিদিন ভোরে সাইকেল নিয়ে পাইকারি বাজারে যেতেন। সেখান থেকে বস্তা মেপে আদা কিনে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বিক্রি করতেন। দিনশেষে সামান্য কিছু লাভ হতো, তাতেই তার সংসার চলত।একদিন বিকেলে কেশব গ্রামের এক চায়ের দোকানে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। সেখানে শহরের এক ভদ্রলোক খবরের কাগজ পড়ছিলেন। ভদ্রলোক হঠাৎ বলে উঠলেন, "আরে দূর! লোহিত সাগরে মালবাহী বড় জাহাজ আটকে গেছে। এবার তো বাজারে সব জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া হবে!"কেশব চায়ে চুমুক দিয়ে হেসে বললেন, "আরে দাদা! আমি হলাম আদার ব্যাপারী, ছোটখাটো মানুষ। সাইকেলে করে আদা বেচি। আমি কি করে সমুদ্রের সেই বড় জাহাজের খোঁজ রাখব বলো? তাদের বড় বড় জাহাজ কত মালপত্র নিয়ে আসে, তার খোঁজ রেখে আমি কি করব? আর আমার ঘটে ওইসব ঢুকবেও না। বড়লোকের বড় ব্যাপার!"দোকানে বসে থাকা স্কুলের শিক্ষক ধীরেনবাবু কেশবের কথা শুনে মুচকি হাসলেন। তিনি বললেন, "কেশব, তুমি ভুল ভাবছ। ওই বড় জাহাজটার খোঁজ রাখা তোমার মতো আদার ব্যাপারীর জন্যও খুব দরকার।"কেশব অবাক হয়ে বললেন, "সে কী মাস্টারমশাই! আমার ভাঙা সাইকেল আর আদার ঝুড়ির সাথে সমুদ্রের জাহাজের কী সম্পর্ক?"ধীরেনবাবু বুঝিয়ে বললেন, "সম্পর্ক আছে। এই যে তুমি পাইকারি বাজার থেকে আদা কেনো, সেই আদার একটা বড় অংশ কিন্তু সমুদ্রের জাহাজ দিয়েই অন্য দেশ থেকে আমাদের দেশে আসে। আবার আমাদের দেশের মসলাও ওই জাহাজে করে বিদেশে যায়। এখন যদি সমুদ্রের কোনো বড় জাহাজ আটকে যায় বা ঝড়ে ডুবে যায়, তবে বাজারে আদার জোগান কমে যাবে। পাইকারি বাজারে আদার দাম একলাফে দ্বিগুণ হয়ে যাবে।"কেশব চোখ বড় বড় করে শুনছিলেন। ধীরেনবাবু আবার বললেন, "তুমি যদি আগে থেকেই খবর রাখো যে জাহাজের মাল আসতে দেরি হচ্ছে, তবে তুমি কম দামে আগেই বেশি করে আদা কিনে রাখতে পারবে। আর যদি দেখো অনেক জাহাজ একসঙ্গে মাল নিয়ে বন্দরে এসে পৌঁছেছে, তবে বুঝবে আদার দাম কমবে। তখন বেশি আদা কিনলে তোমার লোকসান হবে। তাই জাহাজ কত মাল আনছে, সেই খোঁজ রাখা তোমার পকেটের লাভের জন্যই দরকার।"কেশব বুঝতে পারলেন, দুনিয়াটা কত বড় আর সব ব্যবসা কীভাবে একে অপরের সাথে জুড়ে আছে। তিনি মাথা চুলকে বললেন, "মাস্টারমশাই, আপনি তো আমার চোখ খুলে দিলেন! আমি ভাবতাম ওসব বড়লোকের ব্যাপার। এখন দেখছি আমার ছোট্ট আদার ঝুড়িটাও ওই সমুদ্রের বড় জাহাজের ওপর ভাসছে!"সেদিন থেকে কেশব আর নিজেকে শুধু 'ছোটখাটো আদার ব্যাপারী' ভাবতেন না। খবরের কাগজে জাহাজের কোনো খবর দেখলে তিনি কান খাড়া করে শুনতেন এবং সেই বুদ্ধি খাটিয়ে নিজের ব্যবসাকে আরও লাভজনক করে তুললেন। ✍️ #দেশীয়ঘরকন্না
#অসময়েরপ্রাপ্তি -: মানুষ যখন কোনো কিছু প্রচণ্ডভাবে চায় এবং না পায়, তখন তার হৃদয়ের সেই অংশটা ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে যায়। পরে যখন সেই না পাওয়া জিনিসটা উপচে পড়ে আসে, তখন তা গ্রহণ করার মতো আবেগটুকু আর অবশিষ্ট থাকে না।
#অয়ন যখন ছোট ছিল, ওর পরিবার খুব অভাবের মধ্যে চলত। অয়নের একটা বড্ড শখ ছিল—ওদের বাড়ির পাশের মস্ত বড় লাইব্রেরিটার মেম্বারশিপ নেওয়ার। ও ভাবত, একদিন বড় হয়ে অনেক বই পড়বে, আর বাড়িতে একটা ছোট লাইব্রেরি বানাবে। কিন্তু বাবার তখন বই কেনার বা মেম্বারশিপের টাকা দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না। অয়ন দিনের পর দিন লাইব্রেরির জানলার বাইরে দাঁড়িয়ে বই পড়া মানুষদের দেখত আর দীর্ঘশ্বাস ফেলত। সেই দীর্ঘশ্বাসটাই ওকে ধীরে ধীরে পাথর বানিয়েছিল, শিখিয়েছিল নিজের শখ বিসর্জন দিয়ে লড়ে যেতে। আজ অয়ন একজন সুপ্রতিষ্ঠিত ইঞ্জিনিয়ার। ওর ফ্ল্যাটে দামী বুকসেলফ আছে, তাতে সাজানো আছে হাজারো নামী-দামী বই। একদিন বাবা অয়নের ঘরে ঢুকে অপরাধীর মতো একটা পুরনো খাম ওর দিকে এগিয়ে দিলেন। অয়ন খুলে দেখল, সেটা সেই বহু বছর আগের লাইব্রেরির লাইফ-মেম্বারশিপ কার্ড। বাবা ধরা গলায় বললেন, "রেখে দিস বাবা, তখন পারিনি, আজ পেনশনের টাকাটা পেয়ে প্রথমেই এটা করতে ইচ্ছে হলো।" অয়ন কার্ডটার দিকে তাকিয়ে দেখল—একটুও আনন্দ হলো না। উল্টে ওর বুকটা ভারী হয়ে এল। আজ ওর আলমারি দামী বইয়ে ঠাসা, হাতে বই পড়ার বদলে ল্যাপটপের দামী প্রজেক্টের পাহাড়। আজ সেই লাইব্রেরির কার্ড ওর কাছে কেবল একটা প্লাস্টিকের টুকরো। ও বুঝল, ঈশ্বর অয়নকে সহ্য করার প্রখর শক্তি দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু যে সময়টাতে ওর একটু উৎসাহ বা একটা ছোট শখ পূরণ হওয়া দরকার ছিল, সেটা জোটেনি। এখন যেটা জুটেছে, সেটা কেবল একটা ‘অসময়ের উপহার’।
শহরের এক কোণে ছোট্ট একটা বইয়ের দোকান, নাম তার 'অক্ষর কুটির'। দোকানের মালিক বিকাশ বাবু বইয়ের চেয়েও বেশি ভালোবাসেন তার পোষা বিড়াল 'মিনি'-কে। মিনি সাধারণ কোনো বিড়াল নয়, সে নিজেকে এই দোকানের স্বঘোষিত প্রধান লাইব্রেরিয়ান মনে করে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দোকানে খুব ভিড় ছিল। সামনেই বড় পরীক্ষা, তাই স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েরা হন্যে হয়ে বই খুঁজছিল। মিনিও যেন তাদের সাথে একাত্ম হয়ে গিয়েছিল। সারাদিন ইলবার ওরতাইলি-র ইতিহাসের মোটা বই কিংবা দর্শনের বইগুলোর ওপর বসে সে পাহারা দিয়েছে। কখনো থাবা দিয়ে পাতা উল্টেছে, কখনো আবার গম্ভীর মুখে বইয়ের ঘ্রাণ নিয়েছে। দেখে মনে হতো, পরীক্ষাটা আসলে ওরই!
অবশেষে আজ সব পরীক্ষা শেষ। শহর শান্ত, দোকানও একদম নিরিবিলি। মিনি ভাবল, "অনেক তো হলো পড়াশোনা, এবার একটু নিজের দিকে তাকানো দরকার।" যেই ভাবা সেই কাজ! ইতিহাসের কঠিন সব বই আর মোটিভেশনাল বইয়ের মাঝখানে সে এমনভাবে শরীরটা এলিয়ে দিল, যেন ওটাই পৃথিবীর সবচেয়ে আরামদায়ক বিছানা।
বিকাশ বাবু ডাকলেন, "মিনি, মাছ দিয়ে ভাত মেখেছি, খাবি আয়!" মিনির কানে সে কথা পৌঁছালো কি না বোঝা গেল না। তার এখন গভীর ঘুম। তার নাক ডাকার আওয়াজে মনে হচ্ছে সে বলতে চাইছে— "পরীক্ষা শেষ, এখন আর একটা অক্ষরও পড়ার দরকার নেই! রেজাল্ট বেরোনোর পর দেখা যাবে পাস করলাম না ফেল, এখন শুধু এক টানা আটচল্লিশ ঘণ্টার নিশ্চিন্ত ঘুম চাই!"
দোকানের তাকে থাকা জ্ঞানগর্ভ বইগুলোও যেন আজ মিনির এই শান্তির কাছে হার মেনেছে। বইয়ের পাহাড়ের ওপর শুয়ে থাকা এই ছোট্ট প্রাণীটিই এখন জগতের সবচেয়ে সুখী 'সফল' পরীক্ষার্থী।
মায়ের মমতা এমন যে মৃত্যু ও তাঁদের আলাদা করতে পারেনি 😭😭😭😭😭😭😭 মধ্যপ্রদেশের জবলপুরের বার্গী ড্যামে (Bargi Dam) ঘটা এই মর্মান্তিক নৌকাডুবির ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
কবে ঘটেছে: ঘটনাটি গত ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ঘটেছে
কী ঘটেছিল: হঠাৎ করে আসা তীব্র আंधी ও ঝোড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে পর্যটক বোঝাই একটি বড় ক্রুজ (Cruise) ভারসাম্য হারিয়ে নর্মদা নদীর ব্যাকওয়াটারে ডুবে যায় । ক্রুজটিতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন যাত্রী ছিলেন ।
হৃদয়বিদারক দৃশ্য: উদ্ধারকাজ চলাকালীন উদ্ধারকারীরা দেখতে পান যে, একজন মা তাঁর ৪ বছরের সন্তানকে নিজের বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছেন । মৃত্যুর পরেও মা তাঁর সন্তানের হাত ছাড়েননি, যা উদ্ধারকারীদেরও স্তব্ধ করে দেয় । এই পরিবারের বাবা এবং কন্যাসন্তানটি কোনোমতে প্রাণে বেঁচে গেলেও মা ও পুত্র মারা যান ।
বর্তমান অবস্থা: সবশেষ খবর অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন । নিখোঁজদের সন্ধানে এসডিআরএফ (SDRF) এবং স্থানীয় প্রশাসন বড় আকারে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।
তদন্ত ও গাফিলতি: স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যটন কেন্দ্রটিতে সুরক্ষার যথেষ্ট অভাব ছিল এবং ঝড়ের সঙ্কেত থাকা সত্ত্বেও ক্রুজটি চালানো হচ্ছিল। জীবন রক্ষাকারী জ্যাকেটের অভাব এবং ক্রুজে অতিরিক্ত যাত্রী তোলার মতো গুরুতর বিষয়গুলো তদন্তাধীন রয়েছে ।😭😭😭😭😭😭😭
#স্মৃতিরকাঁঠালছায়া বাড়ির এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা কাঁঠাল গাছটার দিকে তাকালে আজও মায়া লাগে। ওপরের দিকে তাকিয়ে বড় বড় পাতাগুলোর আড়ালে লুকানো কাঁঠালগুলো দেখলে মনে হয়, মানুষ চলে গেলেও তার হাতের ছোঁয়া কীভাবে প্রকৃতিতে বেঁচে থাকে। আজ থেকে বহু বছর আগে, এক নিঝুম দুপুরে ভাত খাওয়ার পর শাশুড়ি মা নিজের শখের বাগান থেকে আনা একটা কাঁঠালের দানা অবহেলায় নয়, বরং পরম মমতায় মাটির গভীরে পুঁতে দিয়েছিলেন। তখন আমরা হেসেছিলাম, ভেবেছিলাম এভাবেও কি গাছ হয়? কিন্তু মা জানতেন, ভালোবাসার বীজ কখনো বিফলে যায় না। আজ মা নেই বছর চারেক হতে চলল, কিন্তু এই গাছটা যেন ঠিক তাঁর মতোই আমাদের আগলে রেখেছে। মা খুব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন মানুষ ছিলেন, এক মুহূর্ত হাত গুটিয়ে বসে থাকা তাঁর স্বভাবে ছিল না। বাড়ির আনাচ-কানাচ নিজের হাতে ঝকঝকে রাখতেন। বিয়ের পর যখন এই বাড়িতে আসি, আমি তখন রান্নাবান্নার ‘র’ জানতাম না। মা-ই হাত ধরে শিখিয়েছেন কোন মশলায় কী জাদু থাকে। বড় জা আর মেজ জাও আমায় অনেক কিছু শিখিয়েছেন, কিন্তু রান্নার আসল ঘরানাটা ছিল মায়েরই। আজ যখন রান্নাঘরে আমার হেল্পিং হ্যান্ডকে বলি, "জানিস, মা এই রান্নাটা এভাবে করতেন..." তখন ও অবাক হয়ে হাসে। বলে, "বউদি, নিজের মায়ের চেয়েও তো দেখি শাশুড়ি মায়ের গল্পই বেশি করো!" আমি মনে মনে হাসি। যে মানুষটার কাছে আমার জীবনের নতুন পাঠ শুরু হলো, যার হাতের স্বাদ আমার হেঁশেলে আজও মিশে আছে, তাকে কি ভোলা যায়? মানুষ তো আর চিরকাল থাকে না, কিন্তু সে যা দিয়ে যায়—সেটা রান্না হোক বা উঠোনের গাছ—তার স্মৃতি আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকে। বিকেলের রোদে যখন কাঁঠাল গাছের ছায়াটা আঙিনায় এসে পড়ে, মনে হয় মা যেন আজও সেই ছায়ার মতন আমাদের আশীর্বাদ করছেন। স্মৃতি তো শুধু মনে রাখার জন্য নয়, স্মৃতি হলো এক অদৃশ্য বাঁধন যা চলে যাওয়া মানুষকেও প্রতি মুহূর্তে জীবন্ত করে রাখে। ✍️#দেশীয়ঘরকন্না
#মেঘ-পাহাড়ের কাব্য: আমার লামাহাটা ভ্রমণ লামাহাটা—শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হলো 'বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বাসস্থান'। তাকদা মহকুমার অন্তর্গত এই ছোট্ট পাহাড়ি গ্রামটি যেন বিধাতার নিজের হাতে সাজানো এক নিস্তব্ধ স্বর্গ। যান্ত্রিক শহরের সব কোলাহল ছাড়িয়ে যখন এখানে এসে পৌঁছলাম, মনে হলো সময় যেন থমকে দাঁড়িয়েছে। এখানকার আবহাওয়া বড় বিচিত্র আর মায়াবী। কখনো হিমেল বাতাস শরীর ছুঁয়ে যায়, আবার পরক্ষণেই মেঘের আড়াল থেকে উঁকি দেওয়া মিষ্টি রোদের উষ্ণতা মনকে চনমনে করে তোলে। মেঘ আর সূর্যের এই লুকোচুরি খেলা এখানে এক অন্যরকম মাদকতা তৈরি করে। চারদিক এতটাই শান্ত যে, নিজের নিঃশ্বাসের শব্দও স্পষ্ট শোনা যায়। কোনো গাড়ির হর্ন নেই, মানুষের চিৎকার নেই; আছে শুধু পাইন বনের দীর্ঘশ্বাস আর দূরে বয়ে চলা রঙ্গীত নদীর ক্ষীণ কলতান। ভ্রমণের প্রধান আকর্ষণ ছিল লামাহাটা ইকোপার্ক। পার্কের ভেতরে প্রবেশ করতেই স্বাগত জানাল রঙিন রডোডেনড্রন পরিবার। কত যে তার প্রজাতি, আর কত যে তার রূপ! ফুল ভালোবাসেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার, আর সেই ফুল যদি হয় পাহাড়ের বুক চিরে ফোটা রডোডেনড্রন, তবে তো কথাই নেই। পার্কের ভেতরেই আছে একটি ওয়াচ টাওয়ার। সেখান থেকে তাকালে দেখা যায় এক অনন্য দৃশ্য—পাহাড়ের বুক চিরে রঙ্গীত নদী এসে মিশছে তিস্তার নীল জলরাশিতে। দুই নদীর সেই মিলনমেলা ওপর থেকে দেখলে চোখে পলক পড়ে না। তবে প্রকৃত রোমাঞ্চের শুরু হলো যখন পাহাড়ের চূড়ায় লামাদের ধ্যান করার পবিত্র স্থানটির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। সেই চূড়ায় যাওয়ার জন্য কোনো মসৃণ পথ নেই, আছে পাইন বনের বুক চিরে চলে যাওয়া পাথুরে ট্রেইল। প্রায় দুই কিলোমিটারের সেই পাহাড়ি পথ বা ট্রেকিং বেশ কষ্টসাধ্য, কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর পর সব ক্লান্তি যেন এক নিমেষে উবে গেল। পাহাড়ের ঠিক ওপরে পাইন বনের ছায়ায় ঢাকা এক শান্ত হ্রদ বা লেক। সেখানকার পরিবেশ এতটাই নির্জন যে, মাঝে মাঝে পাখির ডাক ছাড়া আর কিছুই কানে আসে না। চারপাশে শুধু মেঘেদের আনাগোনা। মনে হয় যেন আমি মাটির পৃথিবীতে নেই, বরং মেঘেদের রাজ্যে কোনো এক অপার্থিব দেশে এসে পড়েছি। সেই উচ্চতায় দাঁড়িয়ে দু হাত ছড়িয়ে দিয়ে মনে হচ্ছিল—‘যদি দুটো ডানা থাকত, তবে এই মেঘেদের ওপর দিয়ে একবার নিশ্চিত উড়ে আসতাম!’ পাথরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া নদীর কলকল ধ্বনি, পাইন বনের ভেতর দিয়ে বাতাসের সোঁ সোঁ শব্দ, শুকনো পাতার মর্মর আর ঝিঁঝিঁ পোকার একঘেয়ে ডাক—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত ঐকতান। এই আদিম ও শান্তিময় পরিবেশটি আপনি সেখানে না পৌঁছলে কখনোই মনে-প্রাণে অনুভব করতে পারবেন না। লামাহাটা শুধু একটি ভ্রমণের জায়গা নয়, এটি আত্মার শান্তির এক চিরস্থায়ী ঠিকানা।
নিস্তব্ধ পাহাড়ের সুর শহরের যান্ত্রিকতা থেকে বাঁচতে অয়ন এসে পৌঁছেছে উত্তরবঙ্গের এক নাম না জানা পাহাড়ের ওপর ছোট একটি হোম-স্টেতে। ঘর থেকে বেরোতেই এক অদ্ভুত প্রশান্তি তাকে ঘিরে ধরল। চারদিকে শুধু পাইন আর ওক গাছের মেলা। অয়ন সরু পাহাড়ি পথ বেয়ে নিচের দিকে নামতে শুরু করল। তার প্রতিটি পদক্ষেপে শুকনো পাতার ‘মড়মড়’ বা মর্মর ধ্বনি এক অদ্ভুত ছন্দ তৈরি করছে। বাতাসের ধাক্কায় লম্বা পাইন গাছের ডালগুলো যখন একে অপরের সঙ্গে ঘষা খাচ্ছে, তখন মনে হচ্ছে কেউ যেন বিউগল বাজাচ্ছে। কিছুটা নিচে নামতেই কানে এল সেই আকাঙ্ক্ষিত শব্দ— পাথরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর ‘কলকল’ গর্জন। জল সেখানে কাঁচের মতো স্বচ্ছ। বড় বড় কালো পাথরের ওপর দিয়ে সাদা ফেনার ঝালর তুলে নদীটি বয়ে চলেছে। অয়ন একটা শ্যাওলা ধরা পাথরের ওপর গিয়ে বসল। ঠিক তখনই ঝিঁঝিঁ পোকারা সমবেত স্বরে তাদের ডাক শুরু করল। অদ্ভুত সেই ঐক্যতান—একদিকে পানির জোরালো শব্দ, অন্যদিকে ঝিঁঝিঁ পোকার একঘেয়ে কিন্তু মায়াবী সুর। হঠাৎ করেই আকাশ থেকে এক ঝাঁক অচেনা পাখি ডানা ঝাপটে উড়ে গেল। তাদের ডাক প্রতিধ্বনিত হলো পাহাড়ের গায়ে। অয়ন চোখ বন্ধ করল। তার মনে হলো, প্রকৃতি যেন তাকে কিছু বলতে চাইছে। মানুষের তৈরি কোনো সংগীতই বোধহয় এই বন্য সুরের চেয়ে মধুর হতে পারে না। সেদিন বিকেলে অয়ন শুধু একলাই বসে ছিল না, তার সাথে ছিল পাইন বনের বাতাস, ঝরা পাতার গান আর ওই অবাধ্য নদী। তার মনে হলো, এই নির্জনতাই আসলে জীবনের সবচেয়ে বড় পূর্ণতা।
Desiyo Ghorkonna
#সোমনাথবাবু_ও_তাঁর_পতন
বিখ্যাত শিল্পপতি সোমনাথ বাবু সোফায় হেলান দিয়ে বসে চুরুট টানছিলেন। আজ তার মন খুব খুশি। নিজের ভাই, স্ত্রী আর দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত বন্ধুদের ব্যবসা এবং সম্পত্তি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে দিতে পেরেছেন তিনি। এখন পুরো মল্লিক সাম্রাজ্যের একক মালিক তিনি।তার এই সফলতার পেছনে অবদান রয়েছে একজন বহিরাগত তরুণ পরামর্শদাতার। নাম তার বিকাশ। বছরখানেক আগে বিকাশ সোমনাথ বাবুর ব্যবসায়িক উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেয়। সে ছিল উচ্চশিক্ষিত এবং মুখে তার মিষ্টি কথা। যোগ দিয়েই সে সোমনাথ বাবুর মনে সন্দেহের বীজ বোনা শুরু করে। একদিন অফিসে কফি খেতে খেতে বিকাশ বলেছিল, "সোমনাথ বাবু, আপনার ছোট ভাই অমিতকে দেখলাম নতুন প্রজেক্টের ফাইলগুলো খুব গোপনে দেখছে। আপনার সই জাল করার চেষ্টা করছে না তো?"সোমনাথ বাবু প্রথম দিকে পাত্তা দেননি। কিন্তু বিকাশ ধীরে ধীরে চাল চালতে থাকে। সে কিছু ভুয়া অডিও ক্লিপ আর জাল নথিপত্র তৈরি করে সোমনাথ বাবুকে দেখায়। সোমনাথ বাবুর স্ত্রী অলকা দেবী যখনই স্বামীর এই অতিরিক্ত কাজের চাপ নিয়ে চিন্তা প্রকাশ করতেন, বিকাশ আড়ালে গিয়ে সোমনাথ বাবুকে বলত, "বউদি কিন্তু আপনার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিচ্ছেন না, উনি আসলে আপনার সম্পত্তির ওপর নজর রাখছেন।" এমনকি ৩০ বছরের পুরনো বন্ধু ও ব্যবসার অংশীদার সুব্রত বাবু যখনই নতুন কোনো ব্যবসায়িক ঝুঁকিতে সোমনাথ বাবুকে সতর্ক করতেন, বিকাশ সেটাকে 'সুব্রতর হিংসা' বলে প্রমাণ করত।সোমনাথ বাবু নিজের রক্তের সম্পর্ক বা পুরনো বন্ধুদের ওপর ভরসা না করে বিকাশের প্রতিটি চাল, প্রতিটি পরামর্শ অন্ধের মতো বিশ্বাস করলেন। একদিন মাঝরাতে তীব্র ঝগড়া করে ভাই অমিতকে বাড়ি থেকে বের করে দিলেন। স্ত্রীকে পাঠালেন বাপের বাড়ি। আর দীর্ঘদিনের বন্ধু সুব্রত বাবুকে অপমান করে পার্টনারশিপ থেকে তাড়িয়ে দিলেন। তিনি ভাবলেন, চারপাশের সব শত্রু পরিষ্কার করে তিনি এখন সবচেয়ে শক্তিশালী রাজা।এক সন্ধ্যায় সোমনাথ বাবু যখন তার নতুন সাফল্যের আনন্দ উদযাপন করছেন, তখন বিকাশ তার কেবিনে ঢুকল। তবে আজ তার পরনে সাধারণ কর্মচারীর পোশাক ছিল না, সে দামি স্যুট পরে এসেছিল। তার মুখে আগের সেই চাটুকারিতার হাসি ছিল না, ছিল এক পিশাচিক তৃপ্তি। সে সোমনাথ বাবুর টেবিলের ওপর একটা আইনি নোটিশ ছুড়ে দিল।সোমনাথ বাবু চমকে উঠে চশমাটা ঠিক করতে করতে বললেন, "এটা কী বিকাশ? কোনো নতুন প্রজেক্টের চুক্তি?"বিকাশ ঠান্ডা গলায় হাসল। চেয়ার টেনে সোমনাথ বাবুর মুখোমুখি বসে বলল, "না সোমনাথ বাবু, এটা মল্লিক ইন্ডাস্ট্রির নতুন মালিকানার কাগজ। গত কয়েক মাসে আপনি নিজের লোকেদের তাড়াতে গিয়ে এবং সম্পত্তি একা নিজের নামে করতে গিয়ে যেসব কাগজে সই করেছেন, সেগুলো ভালো করে পড়েছিলেন? আপনি আসলে নিজের অজান্তেই কোম্পানির ৭০ শতাংশ শেয়ার আমার নামে ট্রান্সফার করে দিয়েছেন। আপনার ভাই অমিত ফিন্যান্স ভালো বুঝত, আপনার স্ত্রী আপনার ভালো-মন্দ বুঝত, আর সুব্রত বাবু আইনি মারপ্যাঁচ বুঝত। ওরা পাশে থাকলে এই জালিয়াতি আমি কোনোদিন করতে পারতাম না। আপনি নিজেই তো নিজের অহংকারে অন্ধ হয়ে দুর্গ খালি করে দিয়েছেন!"সোমনাথ বাবু মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন। তার চারপাশটা অন্ধকার হয়ে গেল। বুক ফেটে কান্না এলেও চোখের জল শুকিয়ে গেছে। আজ তার ব্যাংকে হয়তো কিছু টাকা অবশিষ্ট আছে, কিন্তু এই বিশাল জালিয়াতির বিরুদ্ধে আইনি লড়াই লড়ার জন্য বা এই কঠিন বিপদে মাথায় হাত রাখার মতো একটা মানুষও তার পাশে নেই। তিনি সম্পূর্ণ একা।তিনি ঘরের দেওয়ালের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলেন, আসল শত্রু বাইরে ছিল না। শত্রু ছিল তার নিজের মনের ভেতর—তার অহংকার আর সন্দেহ, যা তাকে অন্ধ করে দিয়েছিল। মানুষের পতন আসলে সেদিনই হয়ে যায়, যেদিন সে নিজের ভালোবাসার মানুষদের হারানোর জন্য বা দূরে ঠেলে দেওয়ার জন্য কোনো স্বার্থপর তৃতীয় ব্যক্তির দরজায় গিয়ে পরামর্শ খোঁজে।
✍️ @desiyoghorkonna
@desiyoghorkonna2000
2 weeks ago | [YT] | 0
View 0 replies
Desiyo Ghorkonna
#গ্রীষ্মের দাবদাহে লেবুর জল সত্যিই আমাদের প্রাণ জুড়িয়ে দেয়। নিচে লেবুর জল নিয়ে একটি ছোট গল্প এবং এর অসাধারণ উপকারিতাগুলি দেওয়া হলো।
🍋 #দুপুরের এক গ্লাস শান্তি (ছোট গল্প)
বৈশাখ মাসের দুপুর। সূর্য যেন আকাশ থেকে আগুন বর্ষণ করছে। পঁচিশ বছরের যুবক অয়ন পিঠে ভারী ব্যাগ নিয়ে ইন্টারভিউ দিয়ে বাড়ি ফিরছিল। বাস থেকে যখন নামল, তখন তার গলা শুকিয়ে কাঠ, শরীর ক্লান্তিতে ভেঙে পড়ছে। মনে হচ্ছিল, এখনই সে রাস্তায় বসে পড়বে।
কোনো রকমে টেনে টেনে পা দুটোকে বাড়ির সদর দরজায় নিয়ে এলো সে। কলিং বেল বাজাতেই মা দরজা খুললেন। অয়নের ফ্যাকাশে মুখ আর কপালের ঘাম দেখে মা আর একটি কথাও বাড়ালেন না। তাকে ফ্যানের নিচে বসিয়ে দ্রুত রান্নাঘরে চলে গেলেন।
মিনিট দুয়েকের মধ্যে মা ফিরে এলেন একটা কাঁচের গ্লাস হাতে। তাতে ঠাণ্ডা জলের সঙ্গে মেশানো টাটকা পাতিলেবুর রস, এক চিমটে বিট নুন আর সামান্য চিনি।
অয়ন গ্লাসটা এক চুমুকে শেষ করল। প্রথম চুমুকেই যেন ম্যাজিক হলো। লেবুর তীব্র টক আর হালকা মিষ্টির সেই স্বাদ নিমেষেই তার জিভে জল এনে দিল। ঠাণ্ডা জলটা গলা দিয়ে নামতেই বুকের ভেতরের জ্বালাভাব এক লহমায় উধাও। কপালে জমে থাকা ক্লান্তির রেখাগুলো মুছে গিয়ে চোখে-মুখে এক অদ্ভুত তৃপ্তি ফুটে উঠল।
অয়ন বড় একটা শ্বাস নিয়ে হাসল, "মা, এই রোদে পাঁচতারা হোটেলের দামি কোল্ড ড্রিংকসও এই এক গ্লাস লেবুর জলের কাছে নস্যি! আমার প্রাণটা একেবারে ঠাণ্ডা হয়ে গেল।" মা হেসে অয়নের মাথায় হাত রাখলেন। সত্যিই, সাধারণ এই লেবুর জল কোটি টাকার চেয়েও দামি সুখ এনে দিতে পারে।
🌟 লেবুর জলের অসাধারণ উপকারিতা
খুব সামান্য এবং সস্তা এই পানীয়টি আমাদের শরীরের জন্য অমৃত সমান। এর মূল গুণাগুণ নিচে দেওয়া হলো:
#শরীরে জলের অভাব দূর করে: গরমের ঘামে শরীর থেকে যে জল ও খনিজ বেরিয়ে যায়, লেবুর জল তা দ্রুত পূরণ করে রিহাইড্রেট করে।
#ভিটামিন সি-এর ভাণ্ডার: এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং যেকোনো ইনফেকশনের হাত থেকে রক্ষা করে।
#হজম শক্তি বাড়ায়: দুপুরের ভারী খাবারের পর লেবুর জল খেলে তা লিভারকে সচল রাখে এবং বদহজম ও গ্যাস দূর করে।
#তাৎক্ষণিক এনার্জি দেয়: ক্লান্ত শরীরে লেবুর জল ক্লান্তি দূর করে নিমেষের মধ্যে চনমনে ভাব এনে দেয়।
#ত্বক উজ্জ্বল রাখে: এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রক্ত পরিষ্কার করে, ফলে গরমেও ত্বক সতেজ ও চকচকে থাকে।
#ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে: সকালে হালকা গরম জলে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে শরীরের মেদ ঝরানো সহজ হয়।
✍️#দেশীয়ঘরকন্না Desiyo Ghorkonna - দেশীয় ঘরকন্না
2 weeks ago | [YT] | 2
View 0 replies
Desiyo Ghorkonna
#আদার_ব্যাপারী_ও_বড়_জাহাজ
এক গ্রামে কেশব নামের এক আদার ব্যাপারী ছিলেন। তিনি প্রতিদিন ভোরে সাইকেল নিয়ে পাইকারি বাজারে যেতেন। সেখান থেকে বস্তা মেপে আদা কিনে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বিক্রি করতেন। দিনশেষে সামান্য কিছু লাভ হতো, তাতেই তার সংসার চলত।একদিন বিকেলে কেশব গ্রামের এক চায়ের দোকানে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। সেখানে শহরের এক ভদ্রলোক খবরের কাগজ পড়ছিলেন। ভদ্রলোক হঠাৎ বলে উঠলেন, "আরে দূর! লোহিত সাগরে মালবাহী বড় জাহাজ আটকে গেছে। এবার তো বাজারে সব জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া হবে!"কেশব চায়ে চুমুক দিয়ে হেসে বললেন, "আরে দাদা! আমি হলাম আদার ব্যাপারী, ছোটখাটো মানুষ। সাইকেলে করে আদা বেচি। আমি কি করে সমুদ্রের সেই বড় জাহাজের খোঁজ রাখব বলো? তাদের বড় বড় জাহাজ কত মালপত্র নিয়ে আসে, তার খোঁজ রেখে আমি কি করব? আর আমার ঘটে ওইসব ঢুকবেও না। বড়লোকের বড় ব্যাপার!"দোকানে বসে থাকা স্কুলের শিক্ষক ধীরেনবাবু কেশবের কথা শুনে মুচকি হাসলেন। তিনি বললেন, "কেশব, তুমি ভুল ভাবছ। ওই বড় জাহাজটার খোঁজ রাখা তোমার মতো আদার ব্যাপারীর জন্যও খুব দরকার।"কেশব অবাক হয়ে বললেন, "সে কী মাস্টারমশাই! আমার ভাঙা সাইকেল আর আদার ঝুড়ির সাথে সমুদ্রের জাহাজের কী সম্পর্ক?"ধীরেনবাবু বুঝিয়ে বললেন, "সম্পর্ক আছে। এই যে তুমি পাইকারি বাজার থেকে আদা কেনো, সেই আদার একটা বড় অংশ কিন্তু সমুদ্রের জাহাজ দিয়েই অন্য দেশ থেকে আমাদের দেশে আসে। আবার আমাদের দেশের মসলাও ওই জাহাজে করে বিদেশে যায়। এখন যদি সমুদ্রের কোনো বড় জাহাজ আটকে যায় বা ঝড়ে ডুবে যায়, তবে বাজারে আদার জোগান কমে যাবে। পাইকারি বাজারে আদার দাম একলাফে দ্বিগুণ হয়ে যাবে।"কেশব চোখ বড় বড় করে শুনছিলেন। ধীরেনবাবু আবার বললেন, "তুমি যদি আগে থেকেই খবর রাখো যে জাহাজের মাল আসতে দেরি হচ্ছে, তবে তুমি কম দামে আগেই বেশি করে আদা কিনে রাখতে পারবে। আর যদি দেখো অনেক জাহাজ একসঙ্গে মাল নিয়ে বন্দরে এসে পৌঁছেছে, তবে বুঝবে আদার দাম কমবে। তখন বেশি আদা কিনলে তোমার লোকসান হবে। তাই জাহাজ কত মাল আনছে, সেই খোঁজ রাখা তোমার পকেটের লাভের জন্যই দরকার।"কেশব বুঝতে পারলেন, দুনিয়াটা কত বড় আর সব ব্যবসা কীভাবে একে অপরের সাথে জুড়ে আছে। তিনি মাথা চুলকে বললেন, "মাস্টারমশাই, আপনি তো আমার চোখ খুলে দিলেন! আমি ভাবতাম ওসব বড়লোকের ব্যাপার। এখন দেখছি আমার ছোট্ট আদার ঝুড়িটাও ওই সমুদ্রের বড় জাহাজের ওপর ভাসছে!"সেদিন থেকে কেশব আর নিজেকে শুধু 'ছোটখাটো আদার ব্যাপারী' ভাবতেন না। খবরের কাগজে জাহাজের কোনো খবর দেখলে তিনি কান খাড়া করে শুনতেন এবং সেই বুদ্ধি খাটিয়ে নিজের ব্যবসাকে আরও লাভজনক করে তুললেন।
✍️ #দেশীয়ঘরকন্না
2 weeks ago | [YT] | 1
View 0 replies
Desiyo Ghorkonna
#অসময়েরপ্রাপ্তি -:
মানুষ যখন কোনো কিছু প্রচণ্ডভাবে চায় এবং না পায়, তখন তার হৃদয়ের সেই অংশটা ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে যায়। পরে যখন সেই না পাওয়া জিনিসটা উপচে পড়ে আসে, তখন তা গ্রহণ করার মতো আবেগটুকু আর অবশিষ্ট থাকে না।
#অয়ন যখন ছোট ছিল, ওর পরিবার খুব অভাবের মধ্যে চলত। অয়নের একটা বড্ড শখ ছিল—ওদের বাড়ির পাশের মস্ত বড় লাইব্রেরিটার মেম্বারশিপ নেওয়ার। ও ভাবত, একদিন বড় হয়ে অনেক বই পড়বে, আর বাড়িতে একটা ছোট লাইব্রেরি বানাবে। কিন্তু বাবার তখন বই কেনার বা মেম্বারশিপের টাকা দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না। অয়ন দিনের পর দিন লাইব্রেরির জানলার বাইরে দাঁড়িয়ে বই পড়া মানুষদের দেখত আর দীর্ঘশ্বাস ফেলত। সেই দীর্ঘশ্বাসটাই ওকে ধীরে ধীরে পাথর বানিয়েছিল, শিখিয়েছিল নিজের শখ বিসর্জন দিয়ে লড়ে যেতে।
আজ অয়ন একজন সুপ্রতিষ্ঠিত ইঞ্জিনিয়ার। ওর ফ্ল্যাটে দামী বুকসেলফ আছে, তাতে সাজানো আছে হাজারো নামী-দামী বই। একদিন বাবা অয়নের ঘরে ঢুকে অপরাধীর মতো একটা পুরনো খাম ওর দিকে এগিয়ে দিলেন। অয়ন খুলে দেখল, সেটা সেই বহু বছর আগের লাইব্রেরির লাইফ-মেম্বারশিপ কার্ড। বাবা ধরা গলায় বললেন, "রেখে দিস বাবা, তখন পারিনি, আজ পেনশনের টাকাটা পেয়ে প্রথমেই এটা করতে ইচ্ছে হলো।"
অয়ন কার্ডটার দিকে তাকিয়ে দেখল—একটুও আনন্দ হলো না। উল্টে ওর বুকটা ভারী হয়ে এল। আজ ওর আলমারি দামী বইয়ে ঠাসা, হাতে বই পড়ার বদলে ল্যাপটপের দামী প্রজেক্টের পাহাড়। আজ সেই লাইব্রেরির কার্ড ওর কাছে কেবল একটা প্লাস্টিকের টুকরো।
ও বুঝল, ঈশ্বর অয়নকে সহ্য করার প্রখর শক্তি দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু যে সময়টাতে ওর একটু উৎসাহ বা একটা ছোট শখ পূরণ হওয়া দরকার ছিল, সেটা জোটেনি। এখন যেটা জুটেছে, সেটা কেবল একটা ‘অসময়ের উপহার’।
4 weeks ago | [YT] | 1
View 0 replies
Desiyo Ghorkonna
#পরীক্ষার্থীবন্ধু মিনি ও তার মহানিদ্রা❤️
শহরের এক কোণে ছোট্ট একটা বইয়ের দোকান, নাম তার 'অক্ষর কুটির'। দোকানের মালিক বিকাশ বাবু বইয়ের চেয়েও বেশি ভালোবাসেন তার পোষা বিড়াল 'মিনি'-কে। মিনি সাধারণ কোনো বিড়াল নয়, সে নিজেকে এই দোকানের স্বঘোষিত প্রধান লাইব্রেরিয়ান মনে করে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দোকানে খুব ভিড় ছিল। সামনেই বড় পরীক্ষা, তাই স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েরা হন্যে হয়ে বই খুঁজছিল। মিনিও যেন তাদের সাথে একাত্ম হয়ে গিয়েছিল। সারাদিন ইলবার ওরতাইলি-র ইতিহাসের মোটা বই কিংবা দর্শনের বইগুলোর ওপর বসে সে পাহারা দিয়েছে। কখনো থাবা দিয়ে পাতা উল্টেছে, কখনো আবার গম্ভীর মুখে বইয়ের ঘ্রাণ নিয়েছে। দেখে মনে হতো, পরীক্ষাটা আসলে ওরই!
অবশেষে আজ সব পরীক্ষা শেষ। শহর শান্ত, দোকানও একদম নিরিবিলি। মিনি ভাবল, "অনেক তো হলো পড়াশোনা, এবার একটু নিজের দিকে তাকানো দরকার।" যেই ভাবা সেই কাজ! ইতিহাসের কঠিন সব বই আর মোটিভেশনাল বইয়ের মাঝখানে সে এমনভাবে শরীরটা এলিয়ে দিল, যেন ওটাই পৃথিবীর সবচেয়ে আরামদায়ক বিছানা।
বিকাশ বাবু ডাকলেন, "মিনি, মাছ দিয়ে ভাত মেখেছি, খাবি আয়!" মিনির কানে সে কথা পৌঁছালো কি না বোঝা গেল না। তার এখন গভীর ঘুম। তার নাক ডাকার আওয়াজে মনে হচ্ছে সে বলতে চাইছে— "পরীক্ষা শেষ, এখন আর একটা অক্ষরও পড়ার দরকার নেই! রেজাল্ট বেরোনোর পর দেখা যাবে পাস করলাম না ফেল, এখন শুধু এক টানা আটচল্লিশ ঘণ্টার নিশ্চিন্ত ঘুম চাই!"
দোকানের তাকে থাকা জ্ঞানগর্ভ বইগুলোও যেন আজ মিনির এই শান্তির কাছে হার মেনেছে। বইয়ের পাহাড়ের ওপর শুয়ে থাকা এই ছোট্ট প্রাণীটিই এখন জগতের সবচেয়ে সুখী 'সফল' পরীক্ষার্থী।
✍️ #দেশীয়ঘরকন্না
1 month ago | [YT] | 3
View 0 replies
Desiyo Ghorkonna
মায়ের মমতা এমন যে মৃত্যু ও তাঁদের আলাদা করতে পারেনি 😭😭😭😭😭😭😭
মধ্যপ্রদেশের জবলপুরের বার্গী ড্যামে (Bargi Dam) ঘটা এই মর্মান্তিক নৌকাডুবির ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
কবে ঘটেছে: ঘটনাটি গত ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ঘটেছে
কী ঘটেছিল: হঠাৎ করে আসা তীব্র আंधी ও ঝোড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে পর্যটক বোঝাই একটি বড় ক্রুজ (Cruise) ভারসাম্য হারিয়ে নর্মদা নদীর ব্যাকওয়াটারে ডুবে যায় । ক্রুজটিতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন যাত্রী ছিলেন ।
হৃদয়বিদারক দৃশ্য: উদ্ধারকাজ চলাকালীন উদ্ধারকারীরা দেখতে পান যে, একজন মা তাঁর ৪ বছরের সন্তানকে নিজের বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছেন । মৃত্যুর পরেও মা তাঁর সন্তানের হাত ছাড়েননি, যা উদ্ধারকারীদেরও স্তব্ধ করে দেয় । এই পরিবারের বাবা এবং কন্যাসন্তানটি কোনোমতে প্রাণে বেঁচে গেলেও মা ও পুত্র মারা যান ।
বর্তমান অবস্থা: সবশেষ খবর অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন । নিখোঁজদের সন্ধানে এসডিআরএফ (SDRF) এবং স্থানীয় প্রশাসন বড় আকারে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।
তদন্ত ও গাফিলতি: স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যটন কেন্দ্রটিতে সুরক্ষার যথেষ্ট অভাব ছিল এবং ঝড়ের সঙ্কেত থাকা সত্ত্বেও ক্রুজটি চালানো হচ্ছিল। জীবন রক্ষাকারী জ্যাকেটের অভাব এবং ক্রুজে অতিরিক্ত যাত্রী তোলার মতো গুরুতর বিষয়গুলো তদন্তাধীন রয়েছে ।😭😭😭😭😭😭😭
1 month ago | [YT] | 4
View 0 replies
Desiyo Ghorkonna
#স্মৃতিরকাঁঠালছায়া
বাড়ির এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা কাঁঠাল গাছটার দিকে তাকালে আজও মায়া লাগে। ওপরের দিকে তাকিয়ে বড় বড় পাতাগুলোর আড়ালে লুকানো কাঁঠালগুলো দেখলে মনে হয়, মানুষ চলে গেলেও তার হাতের ছোঁয়া কীভাবে প্রকৃতিতে বেঁচে থাকে। আজ থেকে বহু বছর আগে, এক নিঝুম দুপুরে ভাত খাওয়ার পর শাশুড়ি মা নিজের শখের বাগান থেকে আনা একটা কাঁঠালের দানা অবহেলায় নয়, বরং পরম মমতায় মাটির গভীরে পুঁতে দিয়েছিলেন। তখন আমরা হেসেছিলাম, ভেবেছিলাম এভাবেও কি গাছ হয়? কিন্তু মা জানতেন, ভালোবাসার বীজ কখনো বিফলে যায় না।
আজ মা নেই বছর চারেক হতে চলল, কিন্তু এই গাছটা যেন ঠিক তাঁর মতোই আমাদের আগলে রেখেছে। মা খুব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন মানুষ ছিলেন, এক মুহূর্ত হাত গুটিয়ে বসে থাকা তাঁর স্বভাবে ছিল না। বাড়ির আনাচ-কানাচ নিজের হাতে ঝকঝকে রাখতেন। বিয়ের পর যখন এই বাড়িতে আসি, আমি তখন রান্নাবান্নার ‘র’ জানতাম না। মা-ই হাত ধরে শিখিয়েছেন কোন মশলায় কী জাদু থাকে। বড় জা আর মেজ জাও আমায় অনেক কিছু শিখিয়েছেন, কিন্তু রান্নার আসল ঘরানাটা ছিল মায়েরই।
আজ যখন রান্নাঘরে আমার হেল্পিং হ্যান্ডকে বলি, "জানিস, মা এই রান্নাটা এভাবে করতেন..." তখন ও অবাক হয়ে হাসে। বলে, "বউদি, নিজের মায়ের চেয়েও তো দেখি শাশুড়ি মায়ের গল্পই বেশি করো!" আমি মনে মনে হাসি। যে মানুষটার কাছে আমার জীবনের নতুন পাঠ শুরু হলো, যার হাতের স্বাদ আমার হেঁশেলে আজও মিশে আছে, তাকে কি ভোলা যায়?
মানুষ তো আর চিরকাল থাকে না, কিন্তু সে যা দিয়ে যায়—সেটা রান্না হোক বা উঠোনের গাছ—তার স্মৃতি আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকে। বিকেলের রোদে যখন কাঁঠাল গাছের ছায়াটা আঙিনায় এসে পড়ে, মনে হয় মা যেন আজও সেই ছায়ার মতন আমাদের আশীর্বাদ করছেন। স্মৃতি তো শুধু মনে রাখার জন্য নয়, স্মৃতি হলো এক অদৃশ্য বাঁধন যা চলে যাওয়া মানুষকেও প্রতি মুহূর্তে জীবন্ত করে রাখে।
✍️#দেশীয়ঘরকন্না
1 month ago (edited) | [YT] | 3
View 0 replies
Desiyo Ghorkonna
#মেঘ-পাহাড়ের কাব্য:
আমার লামাহাটা ভ্রমণ
লামাহাটা—শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হলো 'বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বাসস্থান'। তাকদা মহকুমার অন্তর্গত এই ছোট্ট পাহাড়ি গ্রামটি যেন বিধাতার নিজের হাতে সাজানো এক নিস্তব্ধ স্বর্গ। যান্ত্রিক শহরের সব কোলাহল ছাড়িয়ে যখন এখানে এসে পৌঁছলাম, মনে হলো সময় যেন থমকে দাঁড়িয়েছে।
এখানকার আবহাওয়া বড় বিচিত্র আর মায়াবী। কখনো হিমেল বাতাস শরীর ছুঁয়ে যায়, আবার পরক্ষণেই মেঘের আড়াল থেকে উঁকি দেওয়া মিষ্টি রোদের উষ্ণতা মনকে চনমনে করে তোলে। মেঘ আর সূর্যের এই লুকোচুরি খেলা এখানে এক অন্যরকম মাদকতা তৈরি করে। চারদিক এতটাই শান্ত যে, নিজের নিঃশ্বাসের শব্দও স্পষ্ট শোনা যায়। কোনো গাড়ির হর্ন নেই, মানুষের চিৎকার নেই; আছে শুধু পাইন বনের দীর্ঘশ্বাস আর দূরে বয়ে চলা রঙ্গীত নদীর ক্ষীণ কলতান।
ভ্রমণের প্রধান আকর্ষণ ছিল লামাহাটা ইকোপার্ক। পার্কের ভেতরে প্রবেশ করতেই স্বাগত জানাল রঙিন রডোডেনড্রন পরিবার। কত যে তার প্রজাতি, আর কত যে তার রূপ! ফুল ভালোবাসেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার, আর সেই ফুল যদি হয় পাহাড়ের বুক চিরে ফোটা রডোডেনড্রন, তবে তো কথাই নেই। পার্কের ভেতরেই আছে একটি ওয়াচ টাওয়ার। সেখান থেকে তাকালে দেখা যায় এক অনন্য দৃশ্য—পাহাড়ের বুক চিরে রঙ্গীত নদী এসে মিশছে তিস্তার নীল জলরাশিতে। দুই নদীর সেই মিলনমেলা ওপর থেকে দেখলে চোখে পলক পড়ে না।
তবে প্রকৃত রোমাঞ্চের শুরু হলো যখন পাহাড়ের চূড়ায় লামাদের ধ্যান করার পবিত্র স্থানটির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। সেই চূড়ায় যাওয়ার জন্য কোনো মসৃণ পথ নেই, আছে পাইন বনের বুক চিরে চলে যাওয়া পাথুরে ট্রেইল। প্রায় দুই কিলোমিটারের সেই পাহাড়ি পথ বা ট্রেকিং বেশ কষ্টসাধ্য, কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর পর সব ক্লান্তি যেন এক নিমেষে উবে গেল। পাহাড়ের ঠিক ওপরে পাইন বনের ছায়ায় ঢাকা এক শান্ত হ্রদ বা লেক।
সেখানকার পরিবেশ এতটাই নির্জন যে, মাঝে মাঝে পাখির ডাক ছাড়া আর কিছুই কানে আসে না। চারপাশে শুধু মেঘেদের আনাগোনা। মনে হয় যেন আমি মাটির পৃথিবীতে নেই, বরং মেঘেদের রাজ্যে কোনো এক অপার্থিব দেশে এসে পড়েছি। সেই উচ্চতায় দাঁড়িয়ে দু হাত ছড়িয়ে দিয়ে মনে হচ্ছিল—‘যদি দুটো ডানা থাকত, তবে এই মেঘেদের ওপর দিয়ে একবার নিশ্চিত উড়ে আসতাম!’
পাথরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া নদীর কলকল ধ্বনি, পাইন বনের ভেতর দিয়ে বাতাসের সোঁ সোঁ শব্দ, শুকনো পাতার মর্মর আর ঝিঁঝিঁ পোকার একঘেয়ে ডাক—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত ঐকতান। এই আদিম ও শান্তিময় পরিবেশটি আপনি সেখানে না পৌঁছলে কখনোই মনে-প্রাণে অনুভব করতে পারবেন না। লামাহাটা শুধু একটি ভ্রমণের জায়গা নয়, এটি আত্মার শান্তির এক চিরস্থায়ী ঠিকানা।
1 month ago | [YT] | 4
View 0 replies
Desiyo Ghorkonna
#অয়নেরসঙ্গেকিছুক্ষণ
নিস্তব্ধ পাহাড়ের সুর
শহরের যান্ত্রিকতা থেকে বাঁচতে অয়ন এসে পৌঁছেছে উত্তরবঙ্গের এক নাম না জানা পাহাড়ের ওপর ছোট একটি হোম-স্টেতে। ঘর থেকে বেরোতেই এক অদ্ভুত প্রশান্তি তাকে ঘিরে ধরল। চারদিকে শুধু পাইন আর ওক গাছের মেলা।
অয়ন সরু পাহাড়ি পথ বেয়ে নিচের দিকে নামতে শুরু করল। তার প্রতিটি পদক্ষেপে শুকনো পাতার ‘মড়মড়’ বা মর্মর ধ্বনি এক অদ্ভুত ছন্দ তৈরি করছে। বাতাসের ধাক্কায় লম্বা পাইন গাছের ডালগুলো যখন একে অপরের সঙ্গে ঘষা খাচ্ছে, তখন মনে হচ্ছে কেউ যেন বিউগল বাজাচ্ছে।
কিছুটা নিচে নামতেই কানে এল সেই আকাঙ্ক্ষিত শব্দ— পাথরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর ‘কলকল’ গর্জন। জল সেখানে কাঁচের মতো স্বচ্ছ। বড় বড় কালো পাথরের ওপর দিয়ে সাদা ফেনার ঝালর তুলে নদীটি বয়ে চলেছে। অয়ন একটা শ্যাওলা ধরা পাথরের ওপর গিয়ে বসল। ঠিক তখনই ঝিঁঝিঁ পোকারা সমবেত স্বরে তাদের ডাক শুরু করল। অদ্ভুত সেই ঐক্যতান—একদিকে পানির জোরালো শব্দ, অন্যদিকে ঝিঁঝিঁ পোকার একঘেয়ে কিন্তু মায়াবী সুর।
হঠাৎ করেই আকাশ থেকে এক ঝাঁক অচেনা পাখি ডানা ঝাপটে উড়ে গেল। তাদের ডাক প্রতিধ্বনিত হলো পাহাড়ের গায়ে। অয়ন চোখ বন্ধ করল। তার মনে হলো, প্রকৃতি যেন তাকে কিছু বলতে চাইছে। মানুষের তৈরি কোনো সংগীতই বোধহয় এই বন্য সুরের চেয়ে মধুর হতে পারে না।
সেদিন বিকেলে অয়ন শুধু একলাই বসে ছিল না, তার সাথে ছিল পাইন বনের বাতাস, ঝরা পাতার গান আর ওই অবাধ্য নদী। তার মনে হলো, এই নির্জনতাই আসলে জীবনের সবচেয়ে বড় পূর্ণতা।
1 month ago | [YT] | 0
View 0 replies
Desiyo Ghorkonna
👍
1 year ago | [YT] | 3
View 0 replies
Load more