আজ একজন এই ছবিটা হোয়াটসঅ্যাপ করেছে—ইয়েরেভান স্টেট ইউনিভার্সিটির (YSU) অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে আমার ছবি! বুকটা এক অদ্ভুত আবেগে ভরে গেল। এক বছর ক্যাম্পাস ড্রপআউট আরেক বছর করোনার জন্য ৪ বছরের ডিপ্লোমা শেষ করলাম ৬ বছরে 😎। ২০২২ সালে তখন আমি সবেমাত্র ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেছি, চোখে স্বপ্ন। চারপাশে বন্ধুরা সবাই যখন দেশের টপ ইউনিভার্সিটিগুলোতে অ্যাডমিশনের জন্য তীব্র প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত। আমার মন তখন পড়ে ছিল দেশের বাইরে, উচ্চশিক্ষার জন্য। কিন্তু বাংলা মিডিয়াম, বিশেষ করে ডিপ্লোমা ব্যাকগ্রাউন্ডের ছাত্র হওয়ার কারণে স্বভাবতই আমাদের ইংলিশের ভিত তেমন স্ট্রং না। আর বাইরে যেতে হলে তো আইইএলটিএস (IELTS) লাগবে, এখানেই আসে প্রথম বাধা। এরপর সাথে লাগবে প্রচুর টাকা। আমার কাছে তখন এর কোনোটিই ছিল না। কী করবো বুঝতে না পেরে একটা চাকরির খোঁজ শুরু করলাম। জীবনের প্রথম ইন্টারভিউ ক্র্যাক করে মাল্টিন্যাশনাল আমেরিকান কোম্পানি শেভরন (Chevron)-এর বিবিয়ানা গ্যাস প্ল্যান্ট প্রজেক্টে অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকরিটা পেয়ে গেলাম। ভোর ৫:০০টায় ঘুম থেকে উঠতাম, আর সকাল ৬:০০টার মধ্যে প্রজেক্ট ফিল্ডে হাজির হতে হতো। গ্যাস প্ল্যান্টের ভেতরের সেই প্রচণ্ড গরমে বিকেল ৫:০০টা পর্যন্ত ডিউটি করতাম। কাজ ভালোই চলছিল, কিন্তু ভেতরের সেই স্বপ্নটা মাঝে মধ্যে মাথাচাড়া দিতো। একদিন রাতে অনলাইন থেকে ক্যামব্রিজ আইইএলটিএস-এর বই অর্ডার করে বসলাম। অফিস শেষ করে এসে ক্লান্ত শরীরে পড়তে বসতাম। কিন্তু এক week পরেই বুঝলাম—এভাবে দুই নৌকায় পা দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে না। "আমি চাকরিটা ছেড়ে দিলাম।" ফিরে গেলাম ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের লতিফ ছাত্রবাসে। বন্ধুরা বলল, "বেক্কল, এই চাকরি কেউ ছাড়ে?" কান দিলাম না। 😏 রুমের দরজা লক করে নিজেকে পুরো ২ মাসের জন্য দুনিয়া থেকে আলাদা করে ফেললাম। কোনো coaching center না, কিচ্ছু না। শুধু পড়ালেখা, খাওয়া আর ৫ ওয়াক্ত সালাত আদায়। ২ মাস পর যখন ফাইনাল এক্সাম দিলাম, স্কোর আসলো ৬.৫! (রাইটিংয়ে ধরাটা খাইছিলাম ভাই , মাত্র ৫.৫ 😎) আইইএলটিএস তো হলো, এরপর? জানেনই তো বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে ভিসা পাওয়া কতখানি কঠিন। আবার ডিপ্রেশনে গেলাম। এমন একটা দেশ খুঁজছিলাম যেখানে ভিসা প্রসেস দ্রুত হয়, বাজেট কম এবং বাংলাদেশি মানুষের সংখ্যা কম কিন্তু সুযোগ বেশি। খুঁজতে খুঁজতে কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, রাশিয়ার পাশাপাশি আর্মেনিয়ার সন্ধান পেলাম। সত্যি বলতে, আমার কোনো বাজেটই ছিল না কারণ পরিবারের সাথে একটা কমপ্লিকেশন চলতেছিল। যোগাযোগ নেই বললেই চলে। আমার হোস্টেলের এক বড় ভাই (রুমমেট) টাকাটার ব্যবস্থা করে দেয়। পড়তে যখন যাব ভালো ইউনিভার্সিটিতেই যাব—তাই এদেশের টপ ইউনিভার্সিটি, ইয়েরেভান স্টেট ইউনিভার্সিটি (Yerevan State University) বেছে নিলাম। ইউনিভার্সিটির ইন্টারন্যাশনাল অফিস বেশ ধীরগতির ছিল, মেইলের রিপ্লাই আসতে দেরি হতো। কিন্তু ভাগ্যবশত আর্মেনিয়াতে থাকা এক বাংলাদেশি ভাই আমাকে অনেক হেল্প করেছিলেন, তিনি একাধিকবার ইউনিভার্সিটিতে গিয়ে আমার অ্যাপ্লিকেশনের খোঁজখবর নিয়েছিলেন। একদিন মাগরিবের নামাজ শেষ করার ঠিক পরপরই ইউনিভার্সিটি থেকে মেইল করে বলল—ভিসা অ্যাপ্রুভড! সময় নষ্ট না করে, ঢাকা থেকে কলকাতা বাই রোডে গেলাম। এক রাত কাটালাম নিউ মার্কেট এরিয়ার সস্তা হোটেলে। তারপর কলকাতা থেকে দিল্লি ট্রেনে। যাওয়ার সময় এয়ারে যাইনি কারণ অ্যাডভেঞ্চার!! ব্যাস, এমবেসি থেকে ভিসা কালেক্ট করে রাতেই ফিরে এলাম ঢাকার হোস্টেলে। একটা ছোট্ট ব্যাগে আমার পুরো জীবনটাকে গুছিয়ে নিয়ে আমি বেরিয়ে পড়লাম অচেনা গন্তব্যে। সেই দিনগুলোতে লাইফে জটিলতা এত বেশি ছিল যে, দুর্ভাগ্যবশত বাবা-মায়ের সাথে শেষবার দেখা করাও হয়নি। প্লেনের জানলা দিয়ে ঢাকার কোলাহল আস্তে আস্তে ঝাপসা হয়ে গেল, খুব খারাপ লেগেছিল চেনা শহর ছেড়ে যেতে। আর্মেনিয়াতে ল্যান্ড করার পর রিয়েলিটি যেন আমাকে বড় একটা ধাক্কা দিল। ইউনিভার্সিটি আর আমার মধ্যে একটা বিশাল ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল—সেখানে কোনো ইংলিশ মিডিয়াম প্রোগ্রাম অ্যাভেইলেবল ছিল না! তারা আমাকে জানালো, আমাকে এক বছরের মধ্যে আর্মেনিয়ান ভাষা একদম নেটিভদের মতো শিখতে হবে এবং তারপর সেই ভাষাতেই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে। একবার কল্পনা করে দেখুন, সম্পূর্ণ নতুন একটা দেশে এসে মাত্র আট মাসে তাদের কঠিন ভাষাটা আয়ত্ত করা! এটা আমার কাছে রকেট সায়েন্সের মতো মনে হয়েছিল। আমি প্রায় হাল ছেড়েই দিচ্ছিলাম। কিন্তু নিজেকে শেষ একটা সুযোগ দিলাম। একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে আবার প্রস্তুতি শুরু করলাম। সৌভাগ্যবশত আমি পৃথিবীর সেরা শিক্ষক পেয়েছিলাম। তবে জীবন এত সহজ ছিল না। পকেট খালি, আর আর্মেনিয়াতে পার্ট-টাইম জব পাওয়া মানে আসমানের চাঁদ, সবই ফুল টাইম। ফুল টাইম কাজ করলে পড়াশোনা চাঙ্গে, আবার ফুল টাইম স্টাডি করলে কোনটা চাঙ্গে তা তো বুঝতেই পারতেছেন 😎! বুঝলাম ব্যালান্স করতে হবে। ঢাকায় রাজনীতি করা ছেলে, দুই নৌকায় পা দেওয়া আমাদের স্বভাবেই আছে 😏। সন্ধ্যার শিফটে কাজ শুরু করলাম—রেস্টুরেন্ট ক্লিনার থেকে শুরু করে টিকে থাকার জন্য যা যা করা সম্ভব, তার সবকিছুই করেছি। এমন অনেক কাজ করেছি যা করতে খুব কষ্ট হয়েছে, প্রকাশ করার মতো নয়। ভোররাত পর্যন্ত কাজ, এরপর খাওয়া-দাওয়াসহ জীবনের বাকি সব শেষ করে সকালে আবার ৯টা থেকে ক্লাস। অনেক দিন দুচোখ ভরে ঘুমাইনি। লাইফ প্রচণ্ড কঠিন ছিল, কিন্তু আমি মাঠ ছেড়ে যাব কোথায়? জীবনে অনেক ওঠানামার মধ্য দিয়ে গিয়েছি। একসময় খেলায় আমি টিকে গিয়েছিলাম। এক বছরের কঠোর পরিশ্রমের পর আল্লাহর রহমতে ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স শেষ করলাম। আর আজ? আজ আমি আর্মেনিয়াতে একটা খুব ভালো কর্পোরেট জবে আছি। শুধু কি আমি? আমার দুইজন বন্ধু, তারাও আমার সাথে স্ট্রাগল করেছে, আমরা একসাথেই আছি। বিদেশে কর্পোরেট জব করা বুঝেন তো? বিরল 😎! আর আজকে যখন YSU-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট খুললাম, সেখানে ফরেন স্টুডেন্টদের রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে নিজেদের দেখলাম। ভালো লাগল, এত ভালো লাগল যে এখন রাত পৌনে ৪টা বাজে এবং সকালে কাজ আছে, তাও না ঘুমিয়ে এই রচনা লিখতেছি। জানি না এই পর্যন্ত পড়ার ধৈর্য কারো আছে কিনা। তবে যে এই পর্যন্ত পড়েছে, সে তার জীবনে এগিয়ে যাক। দোয়া রইল। এই পুরো জার্নি থেকে আপনাদের জন্য আমার ৩টি ছোট্ট শিক্ষা: ১. কয়েকবার এটলিস্ট চেষ্টা করো হাল ছাড়ার আগে! ভাই ট্রাস্ট মি, তোমার ফুল পোটেনশিয়াল তুমি নিজে জানো না। ২. অন্য কাউকে তোমার জীবনের সিদ্ধান্ত নিতে দিও না। ৩. শুধু স্বপ্নের পেছনে ছুটো না, নিজের ভেতরের সত্ত্বাকে খোঁজো। 🇧🇩❤️🇦🇲 #ronyswanderlust#StudyInArmenia#yerevanstateuniversity#nevergiveup#inspirational#selfmotivation#BangladeshiStudents#studyabroad#ArmeniaNews#armeniavisa
সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি — বাংলাদেশে কিছু অসাধু এজেন্সি বর্তমানে ভুয়া (Fake) আর্মেনিয়া ভিসা তৈরি করে ক্লায়েন্টদের হাতে দিচ্ছে। অনেক মানুষ ইতিমধ্যে প্রতারিত হচ্ছেন এবং বিমানবন্দরে গিয়ে বড় সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
⚠️ নিচে দেওয়া ছবিগুলো দেখুন — এগুলো নকল ভিসার নমুনা, যেগুলো ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।
👉 দয়া করে মনে রাখবেন: ❌ অস্বাভাবিক কম দামে ভিসার অফার ❌ কোনো অফিসিয়াল ইমেইল বা এম্বাসি ভেরিফিকেশন ছাড়া ভিসা দেওয়া ❌ সফট কপি দেখিয়ে দ্রুত টাকা দাবি করা ❌ রিসিট বা চুক্তিপত্র না দেওয়া
এসবই প্রতারণার লক্ষণ।
✅ ভিসা নেওয়ার আগে অবশ্যই: • এম্বাসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে তথ্য যাচাই করুন • ভিসা নম্বর ভেরিফাই করুন • বিশ্বস্ত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত এজেন্সি ব্যবহার করুন • সন্দেহ হলে সরাসরি এম্বাসির সাথে যোগাযোগ করুন
🙏 অনুরোধ করছি, এই পোস্টটি শেয়ার করুন যাতে অন্য কেউ প্রতারিত না হয়। একটু সচেতনতা অনেক মানুষের কষ্ট বাঁচাতে পারে।
কিরগীস্থান এর বর্তমান অবস্থা। লোকাল রেসিডেন্ট দের সাথে মিশরীয় স্টুডেন্টদের ঝামেলা রূপান্তরিত হয়েছে রণক্ষেত্রে। মিশরীয়দের পাশাপাশি লোকালরা পাকিস্তানি এবং বাংলাদেশিদের উপরেও চড়াও হয়েছে এবং ঘটনা একটি আন্তর্জাতিক ইস্যুত্যে মোড় নিয়েছে। একজকে ঘটনা স্থলে মেরে ফেলা হয়েছে। এরা মেয়েদের ডরমিটরীতে ঢুকে রেপও করেছে। ছেলেদের বাধ্য করেছে ডর্ম থেকে বেরিয়ে যেতে। বেশ কিছু বাংলাদেশিদের সাথেও হতাহতের ঘটনা ঘটছে। আশা করি দ্রুত দেশগুলোর সরকার এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। আল্লাহ সবাইকে নিরাপদ রাখুক।
সতর্ক হউন। আর্মেনীয়া তে ওয়ার্ক ভিসা/ট্যুরিস্ট ভিসা একটা ফাঁদ। এই ফাঁদ এড়িয়ে চলুন। নিজের অর্থ এবং সময়ের মূল্য দিতে শিখুন। আল্লাহ সবার উত্তম রিজিকের ব্যবস্থা করুক(আমিন)
মানুষের অবস্থা। প্রতিদিন ২/৩টা ফেইস করতে হয় এরকম। এখন বুঝতেছি ইউটিউবাররা কেনো চ্যানেলে পেজে নিজের কন্টাক্ট/এক্সেস শেয়ার করে না। ভিডিও দেখবে না,পেইজ ঘাটবে না। সরাসরি নক নিয়া ননসেন্স কোয়েশ্চেন ছুড়ে মারবে। আপনারা দয়াকরে পার্সোনালি রিচ করার আগে একটু খুঁজে দেখবেন আপনার অনুসন্ধান সম্পর্কিত ভিডিও/পোস্ট আলরেডি এভেইলএবোল আছে কিনা। খেটে খাইতে শিখেন। কন্টাক্ট দেয়া আছে বলেই, অপ্রয়োজনে রিচ করা থেকে বিরত থাকুন। ধন্যবাদ।
Rony's Wanderlust
আজ একজন এই ছবিটা হোয়াটসঅ্যাপ করেছে—ইয়েরেভান স্টেট ইউনিভার্সিটির (YSU) অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে আমার ছবি!
বুকটা এক অদ্ভুত আবেগে ভরে গেল।
এক বছর ক্যাম্পাস ড্রপআউট আরেক বছর করোনার জন্য ৪ বছরের ডিপ্লোমা শেষ করলাম ৬ বছরে 😎।
২০২২ সালে তখন আমি সবেমাত্র ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেছি, চোখে স্বপ্ন।
চারপাশে বন্ধুরা সবাই যখন দেশের টপ ইউনিভার্সিটিগুলোতে অ্যাডমিশনের জন্য তীব্র প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত।
আমার মন তখন পড়ে ছিল দেশের বাইরে, উচ্চশিক্ষার জন্য।
কিন্তু বাংলা মিডিয়াম, বিশেষ করে ডিপ্লোমা ব্যাকগ্রাউন্ডের ছাত্র হওয়ার কারণে স্বভাবতই আমাদের ইংলিশের ভিত তেমন স্ট্রং না।
আর বাইরে যেতে হলে তো আইইএলটিএস (IELTS) লাগবে, এখানেই আসে প্রথম বাধা।
এরপর সাথে লাগবে প্রচুর টাকা।
আমার কাছে তখন এর কোনোটিই ছিল না।
কী করবো বুঝতে না পেরে একটা চাকরির খোঁজ শুরু করলাম।
জীবনের প্রথম ইন্টারভিউ ক্র্যাক করে মাল্টিন্যাশনাল আমেরিকান কোম্পানি শেভরন (Chevron)-এর বিবিয়ানা গ্যাস প্ল্যান্ট প্রজেক্টে অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকরিটা পেয়ে গেলাম।
ভোর ৫:০০টায় ঘুম থেকে উঠতাম, আর সকাল ৬:০০টার মধ্যে প্রজেক্ট ফিল্ডে হাজির হতে হতো।
গ্যাস প্ল্যান্টের ভেতরের সেই প্রচণ্ড গরমে বিকেল ৫:০০টা পর্যন্ত ডিউটি করতাম।
কাজ ভালোই চলছিল, কিন্তু ভেতরের সেই স্বপ্নটা মাঝে মধ্যে মাথাচাড়া দিতো।
একদিন রাতে অনলাইন থেকে ক্যামব্রিজ আইইএলটিএস-এর বই অর্ডার করে বসলাম।
অফিস শেষ করে এসে ক্লান্ত শরীরে পড়তে বসতাম।
কিন্তু এক week পরেই বুঝলাম—এভাবে দুই নৌকায় পা দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে না।
"আমি চাকরিটা ছেড়ে দিলাম।"
ফিরে গেলাম ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের লতিফ ছাত্রবাসে।
বন্ধুরা বলল, "বেক্কল, এই চাকরি কেউ ছাড়ে?"
কান দিলাম না। 😏
রুমের দরজা লক করে নিজেকে পুরো ২ মাসের জন্য দুনিয়া থেকে আলাদা করে ফেললাম।
কোনো coaching center না, কিচ্ছু না।
শুধু পড়ালেখা, খাওয়া আর ৫ ওয়াক্ত সালাত আদায়।
২ মাস পর যখন ফাইনাল এক্সাম দিলাম, স্কোর আসলো ৬.৫! (রাইটিংয়ে ধরাটা খাইছিলাম ভাই , মাত্র ৫.৫ 😎)
আইইএলটিএস তো হলো, এরপর?
জানেনই তো বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে ভিসা পাওয়া কতখানি কঠিন। আবার ডিপ্রেশনে গেলাম।
এমন একটা দেশ খুঁজছিলাম যেখানে ভিসা প্রসেস দ্রুত হয়, বাজেট কম এবং বাংলাদেশি মানুষের সংখ্যা কম কিন্তু সুযোগ বেশি।
খুঁজতে খুঁজতে কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, রাশিয়ার পাশাপাশি আর্মেনিয়ার সন্ধান পেলাম।
সত্যি বলতে, আমার কোনো বাজেটই ছিল না কারণ পরিবারের সাথে একটা কমপ্লিকেশন চলতেছিল।
যোগাযোগ নেই বললেই চলে।
আমার হোস্টেলের এক বড় ভাই (রুমমেট) টাকাটার ব্যবস্থা করে দেয়।
পড়তে যখন যাব ভালো ইউনিভার্সিটিতেই যাব—তাই এদেশের টপ ইউনিভার্সিটি, ইয়েরেভান স্টেট ইউনিভার্সিটি (Yerevan State University) বেছে নিলাম।
ইউনিভার্সিটির ইন্টারন্যাশনাল অফিস বেশ ধীরগতির ছিল, মেইলের রিপ্লাই আসতে দেরি হতো।
কিন্তু ভাগ্যবশত আর্মেনিয়াতে থাকা এক বাংলাদেশি ভাই আমাকে অনেক হেল্প করেছিলেন,
তিনি একাধিকবার ইউনিভার্সিটিতে গিয়ে আমার অ্যাপ্লিকেশনের খোঁজখবর নিয়েছিলেন।
একদিন মাগরিবের নামাজ শেষ করার ঠিক পরপরই ইউনিভার্সিটি থেকে মেইল করে বলল—ভিসা অ্যাপ্রুভড!
সময় নষ্ট না করে, ঢাকা থেকে কলকাতা বাই রোডে গেলাম।
এক রাত কাটালাম নিউ মার্কেট এরিয়ার সস্তা হোটেলে।
তারপর কলকাতা থেকে দিল্লি ট্রেনে।
যাওয়ার সময় এয়ারে যাইনি কারণ অ্যাডভেঞ্চার!!
ব্যাস, এমবেসি থেকে ভিসা কালেক্ট করে রাতেই ফিরে এলাম ঢাকার হোস্টেলে।
একটা ছোট্ট ব্যাগে আমার পুরো জীবনটাকে গুছিয়ে নিয়ে আমি বেরিয়ে পড়লাম অচেনা গন্তব্যে।
সেই দিনগুলোতে লাইফে জটিলতা এত বেশি ছিল যে, দুর্ভাগ্যবশত বাবা-মায়ের সাথে শেষবার দেখা করাও হয়নি।
প্লেনের জানলা দিয়ে ঢাকার কোলাহল আস্তে আস্তে ঝাপসা হয়ে গেল,
খুব খারাপ লেগেছিল চেনা শহর ছেড়ে যেতে।
আর্মেনিয়াতে ল্যান্ড করার পর রিয়েলিটি যেন আমাকে বড় একটা ধাক্কা দিল। ইউনিভার্সিটি আর আমার মধ্যে একটা বিশাল ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল—সেখানে কোনো ইংলিশ মিডিয়াম প্রোগ্রাম অ্যাভেইলেবল ছিল না!
তারা আমাকে জানালো, আমাকে এক বছরের মধ্যে আর্মেনিয়ান ভাষা একদম নেটিভদের মতো শিখতে হবে এবং তারপর সেই ভাষাতেই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে।
একবার কল্পনা করে দেখুন, সম্পূর্ণ নতুন একটা দেশে এসে মাত্র আট মাসে তাদের কঠিন ভাষাটা আয়ত্ত করা!
এটা আমার কাছে রকেট সায়েন্সের মতো মনে হয়েছিল।
আমি প্রায় হাল ছেড়েই দিচ্ছিলাম।
কিন্তু নিজেকে শেষ একটা সুযোগ দিলাম।
একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে আবার প্রস্তুতি শুরু করলাম।
সৌভাগ্যবশত আমি পৃথিবীর সেরা শিক্ষক পেয়েছিলাম।
তবে জীবন এত সহজ ছিল না।
পকেট খালি, আর আর্মেনিয়াতে পার্ট-টাইম জব পাওয়া মানে আসমানের চাঁদ, সবই ফুল টাইম।
ফুল টাইম কাজ করলে পড়াশোনা চাঙ্গে,
আবার ফুল টাইম স্টাডি করলে কোনটা চাঙ্গে তা তো বুঝতেই পারতেছেন 😎!
বুঝলাম ব্যালান্স করতে হবে।
ঢাকায় রাজনীতি করা ছেলে, দুই নৌকায় পা দেওয়া আমাদের স্বভাবেই আছে 😏।
সন্ধ্যার শিফটে কাজ শুরু করলাম—রেস্টুরেন্ট ক্লিনার থেকে শুরু করে টিকে থাকার জন্য যা যা করা সম্ভব, তার সবকিছুই করেছি।
এমন অনেক কাজ করেছি যা করতে খুব কষ্ট হয়েছে, প্রকাশ করার মতো নয়। ভোররাত পর্যন্ত কাজ, এরপর খাওয়া-দাওয়াসহ জীবনের বাকি সব শেষ করে সকালে আবার ৯টা থেকে ক্লাস।
অনেক দিন দুচোখ ভরে ঘুমাইনি।
লাইফ প্রচণ্ড কঠিন ছিল, কিন্তু আমি মাঠ ছেড়ে যাব কোথায়?
জীবনে অনেক ওঠানামার মধ্য দিয়ে গিয়েছি।
একসময় খেলায় আমি টিকে গিয়েছিলাম।
এক বছরের কঠোর পরিশ্রমের পর আল্লাহর রহমতে ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স শেষ করলাম।
আর আজ?
আজ আমি আর্মেনিয়াতে একটা খুব ভালো কর্পোরেট জবে আছি।
শুধু কি আমি?
আমার দুইজন বন্ধু, তারাও আমার সাথে স্ট্রাগল করেছে,
আমরা একসাথেই আছি।
বিদেশে কর্পোরেট জব করা বুঝেন তো? বিরল 😎!
আর আজকে যখন YSU-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট খুললাম,
সেখানে ফরেন স্টুডেন্টদের রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে নিজেদের দেখলাম। ভালো লাগল,
এত ভালো লাগল যে এখন রাত পৌনে ৪টা বাজে এবং সকালে কাজ আছে, তাও না ঘুমিয়ে এই রচনা লিখতেছি।
জানি না এই পর্যন্ত পড়ার ধৈর্য কারো আছে কিনা।
তবে যে এই পর্যন্ত পড়েছে, সে তার জীবনে এগিয়ে যাক।
দোয়া রইল।
এই পুরো জার্নি থেকে আপনাদের জন্য আমার ৩টি ছোট্ট শিক্ষা:
১. কয়েকবার এটলিস্ট চেষ্টা করো হাল ছাড়ার আগে!
ভাই ট্রাস্ট মি, তোমার ফুল পোটেনশিয়াল তুমি নিজে জানো না।
২. অন্য কাউকে তোমার জীবনের সিদ্ধান্ত নিতে দিও না।
৩. শুধু স্বপ্নের পেছনে ছুটো না, নিজের ভেতরের সত্ত্বাকে খোঁজো।
🇧🇩❤️🇦🇲
#ronyswanderlust #StudyInArmenia #yerevanstateuniversity #nevergiveup #inspirational #selfmotivation #BangladeshiStudents #studyabroad #ArmeniaNews #armeniavisa
3 weeks ago | [YT] | 37
View 14 replies
Rony's Wanderlust
আপনার যেকোনো প্রশ্ন কমেন্টে জানান। 💬
আপনার করা প্রশ্নগুলো নিয়ে পরবর্তী ডেডিকেটেড ভিডিও আসবে।
Stay tuned ! ❤️
3 months ago | [YT] | 7
View 16 replies
Rony's Wanderlust
আগামী কাল বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪ টায় ফেসবুক লাইভ-এ আসছি ।
যার যা প্রশ্ন আছে নোট করে রাখতে পারেন।
Facebook:www.facebook.com/share/17KDvHQsfS/?mibextid=wwXIfr
দেখা হচ্ছে আগামী কাল ইনশাআল্লাহ ।
4 months ago | [YT] | 12
View 3 replies
Rony's Wanderlust
🚨 জরুরি সতর্কবার্তা | Armenian Visa Scam Alert 🚨
সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি — বাংলাদেশে কিছু অসাধু এজেন্সি বর্তমানে ভুয়া (Fake) আর্মেনিয়া ভিসা তৈরি করে ক্লায়েন্টদের হাতে দিচ্ছে। অনেক মানুষ ইতিমধ্যে প্রতারিত হচ্ছেন এবং বিমানবন্দরে গিয়ে বড় সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
⚠️ নিচে দেওয়া ছবিগুলো দেখুন — এগুলো নকল ভিসার নমুনা, যেগুলো ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।
👉 দয়া করে মনে রাখবেন:
❌ অস্বাভাবিক কম দামে ভিসার অফার
❌ কোনো অফিসিয়াল ইমেইল বা এম্বাসি ভেরিফিকেশন ছাড়া ভিসা দেওয়া
❌ সফট কপি দেখিয়ে দ্রুত টাকা দাবি করা
❌ রিসিট বা চুক্তিপত্র না দেওয়া
এসবই প্রতারণার লক্ষণ।
✅ ভিসা নেওয়ার আগে অবশ্যই:
• এম্বাসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে তথ্য যাচাই করুন
• ভিসা নম্বর ভেরিফাই করুন
• বিশ্বস্ত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত এজেন্সি ব্যবহার করুন
• সন্দেহ হলে সরাসরি এম্বাসির সাথে যোগাযোগ করুন
🙏 অনুরোধ করছি, এই পোস্টটি শেয়ার করুন যাতে অন্য কেউ প্রতারিত না হয়।
একটু সচেতনতা অনেক মানুষের কষ্ট বাঁচাতে পারে।
#VisaScamAlert #FakeVisa #ArmeniaVisa #TravelWarning #BangladeshAlert #StaySafe
4 months ago | [YT] | 15
View 1 reply
Rony's Wanderlust
তুর্কমেনিস্থান এর কেউ থাকলে দয়াকরে একটু সারা দিন ।
ধন্যবাদ ।
9 months ago | [YT] | 15
View 8 replies
Rony's Wanderlust
মিডেল ইস্ট থেকে আর্মেনিয়াতে আসার ব্যপারে কি আরও একটা ভিডিও দেয়া উচিত?
উত্তর “হ্যাঁ” হলে ভিডিওর আলোচ্য বিষয় সাজেস্ট করুন ।
9 months ago | [YT] | 28
View 26 replies
Rony's Wanderlust
কিরগীস্থান এর বর্তমান অবস্থা।
লোকাল রেসিডেন্ট দের সাথে মিশরীয় স্টুডেন্টদের ঝামেলা রূপান্তরিত হয়েছে রণক্ষেত্রে।
মিশরীয়দের পাশাপাশি লোকালরা পাকিস্তানি এবং বাংলাদেশিদের উপরেও চড়াও হয়েছে এবং ঘটনা একটি আন্তর্জাতিক ইস্যুত্যে মোড় নিয়েছে।
একজকে ঘটনা স্থলে মেরে ফেলা হয়েছে।
এরা মেয়েদের ডরমিটরীতে ঢুকে রেপও করেছে।
ছেলেদের বাধ্য করেছে ডর্ম থেকে বেরিয়ে যেতে।
বেশ কিছু বাংলাদেশিদের সাথেও হতাহতের ঘটনা ঘটছে।
আশা করি দ্রুত দেশগুলোর সরকার এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
আল্লাহ সবাইকে নিরাপদ রাখুক।
2 years ago | [YT] | 16
View 0 replies
Rony's Wanderlust
সতর্ক হউন।
আর্মেনীয়া তে ওয়ার্ক ভিসা/ট্যুরিস্ট ভিসা একটা ফাঁদ।
এই ফাঁদ এড়িয়ে চলুন।
নিজের অর্থ এবং সময়ের মূল্য দিতে শিখুন।
আল্লাহ সবার উত্তম রিজিকের ব্যবস্থা করুক(আমিন)
2 years ago | [YT] | 14
View 2 replies
Rony's Wanderlust
মানুষের অবস্থা।
প্রতিদিন ২/৩টা ফেইস করতে হয় এরকম।
এখন বুঝতেছি ইউটিউবাররা কেনো চ্যানেলে পেজে নিজের কন্টাক্ট/এক্সেস শেয়ার করে না।
ভিডিও দেখবে না,পেইজ ঘাটবে না।
সরাসরি নক নিয়া ননসেন্স কোয়েশ্চেন ছুড়ে মারবে।
আপনারা দয়াকরে পার্সোনালি রিচ করার আগে একটু খুঁজে দেখবেন আপনার অনুসন্ধান সম্পর্কিত ভিডিও/পোস্ট আলরেডি এভেইলএবোল আছে কিনা।
খেটে খাইতে শিখেন।
কন্টাক্ট দেয়া আছে বলেই, অপ্রয়োজনে রিচ করা থেকে বিরত থাকুন।
ধন্যবাদ।
2 years ago (edited) | [YT] | 11
View 0 replies
Rony's Wanderlust
Sending heartfelt wishes for a radiant Eid, overflowing with love and joy from my side to yours,EID MUBARAK!🌸
2 years ago | [YT] | 19
View 3 replies
Load more