Hello friends my channel name is KRI-alochona , here I discuss about Lord Krishna, Song of Lord Krishna, Bhagvat Path, Krishna Katha,Recent events, news, bollywood Songs, lifestyle, defferent temple view,etc.
"যেহেতু আজ ভগবান শ্রীহরির দিবস, তাই আজ আমরা আমাদের পারমার্থিক কার্যক্রম বাড়ানোর চেষ্টা করি। মহারাজ যুধিষ্ঠির ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে এই একাদশীর মাহাত্ম্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ব্যাখ্যা করেন, এই একাদশীর ইতিহাসে রয়েছে কিভাবে এটি পালনের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি সবচেয়ে গুরুতর পাপ থেকেও মুক্তি পেতে পারে।
শ্রীল প্রভুপাদের নির্দেশে আমরা এই দিনে কোন প্রকার শস্য, দানা বা ডাল গ্রহণ করি না।"
যুধিষ্ঠির শ্রীকৃষ্ণকে এই একাদশীর মাহাত্ম্য জিজ্ঞেস করলে শ্রীকৃষ্ণ বললেন যে, এই একাদশী সমস্ত সুখের আধার, সিদ্ধি প্রদানকারী ও পরম মঙ্গলময়। সমস্ত পাপ থেকে নিস্তার বা মোচন করে বলে এই তিথির নাম 'পাপমোচনী একাদশী।'
প্রাচীনকালে মেধাবী ঋষি চৈত্ররথ নামে পুষ্প উদ্যানে বসে তপস্যা করছিলেন। মঞ্জুঘোষা নামে এক সুন্দরী অপ্সরা তাঁকে বশীভূত করতে চাইলেও অভিশাপের ভয়ে আশ্রমের ২ মাইল দূরে বীণা বাজিয়ে গান গাইতে লাগলো। একদিন দুইজন দুইজনকে দেখে উভয়েই কামবাণে পীড়িত হলো। ঋষি তাঁর সাধন-ভজন ছেড়ে সেই অপ্সরার সাথে প্রায় ৫৬ বছর অবস্থান করলেন। যদিও তাঁরা বহু বছর একত্রে থাকলেন, ঋষির কাছে অর্ধরাত্রি বলে মনে হলো। যখন তিনি জানতে পারলেন প্রকৃতপক্ষে তাঁর ৫৬ বছর সহবাসে অতিবাহিত হয়েছে, তখন তিনি রেগে অপ্সরাকে পিশাচী হওয়ার অভিশাপ দিলেন। সে ক্ষমা চাইলে ঋষি তাকে শাপ মোচনের জন্য চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষীয়া পাপমোচনী একাদশী পালনের কথা বললেন। পিতার আশ্রমে ফিরে গিয়ে মেধাবী প্রায়শ্চিত্ত করতে চাইলে তাঁর পিতা তাঁকে চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষীয়া পাপমোচনী একাদশী পালনের কথা বললেন। এই একাদশী পালনে উভয়েই পাপ থেকে মুক্ত হলেন।
যারা এই একাদশী পালন করে, তাদের পূর্বকৃত সমস্ত পাপই ক্ষয় হয়। এই ব্রতকথা পাঠ ও শ্রবণে সহস্র গো-দানের ফল লাভ হয়।
📌একটি শিশু ঈশ্বরকে জিজ্ঞেস করল," সবাই বলছে যে, তুমি আমাকে আগামীকাল পৃথিবীতে পাঠাচ্ছো। কিন্তু আমি এতো ছোট এবং অসহায় হয়ে কীভাবে বাঁচব?" ঈশ্বর বললেন☝️, " তোমার দেবদূত তোমার জন্য অপেক্ষা করবে এবং তোমার যত্ন নেবে। "
তখন শিশুটি আবার জিজ্ঞাসা করল," তবে আমাকে বলুন, এখানে স্বর্গে আমি এতো খুশি আছি, সারাক্ষণ গান হাসি..... কতো আনন্দ..."
ঈশ্বর বললেন, ☝️" তোমার দেবদূত তোমার জন্য গান করবেন এবং তোমার জন্য হাসবেন। "
বাচ্চাটি বলল, " কিন্তু ভাষা না জানলে সবাই আমার সাথে কথা বলবে কীভাবে? আর আমিই বা তাদের ভাষা কীভাবে বুঝতে সক্ষম হব?"
ঈশ্বর বললেন,☝️" তোমার দেবদূত তোমাকে সবচেয়ে সুন্দর এবং মধুর শব্দগুলি শোনাবে যা তুমি শুনবে এবং খুব ধৈর্য্য এবং যত্ন সহকারে তোমার দেবদূত তোমাকে কীভাবে কথা বলতে হয় তা শিখিয়ে দেবে। "
" এবং আমি যখন আপনার সাথে কথা বলতে চাইব তখন কী করব?" -- বাচ্চাটি জিজ্ঞাসা করল ঈশ্বরকে।
ঈশ্বর বললেন,"☝️ তোমার দেবদূত তোমার হাত একসাথে রাখবেন এবং তোমাকে কীভাবে প্রার্থনা করতে হয় তা শিখিয়ে দেবেন। "
বাচ্চাটি জিজ্ঞেস করল," কে আমাকে রক্ষা করবে? "
ঈশ্বর বললেন," ☝️তোমার দেবদূত তোমাকে রক্ষা করবেন। দরকার পড়লে সে তার নিজের জীবন দিয়ে তোমাকে রক্ষা করবেন। "
ঈশ্বর বললেন,"☝️ আমি যাকে জন্ম দিই তার খাবারের ব্যবস্থা করেই রাখি। কিন্তু মনে রাখবে, আমি খাবারের ব্যবস্থা করি কিন্তু নিজের শরীরের রক্ত খাওয়াই না। কিন্তু তোমার দেবদূত নিজের শরীরের রক্ত পর্যন্ত তোমাকে খাওয়াতে প্রস্তুত। ভবিষ্যতেও দরকার পড়লে সে নিজে না খেয়ে তোমাকে খাওয়াবে। "
" কিন্তু তাও আমি সর্বদা দুঃখিত থাকব কারণ আপনাকে আর দেখতে পাব না। " বাচ্চাটি বলল।
ঈশ্বর বললেন,☝️" তোমার দেবদূত সর্বদা তোমার সাথে আমার সম্পর্কে কথা বলবেন এবং আমার কাছে ফিরে আসার উপায় তোমাকে শিখিয়ে দেবেন। যদিও আমি সর্বদাই তোমার পাশে থাকব "
সেই মুহুর্তে স্বর্গে অনেক শান্তি ছিল কিন্তু পৃথিবী থেকে ডাক শোনা গেল এবং শিশুটি তাড়াতাড়ি জিজ্ঞাসা করল, " ঈশ্বর, আমি যদি এখনই চলে যাই দয়া করে আমার দেবদূতের নাম তো বলুন। "
ঈশ্বর বললেন☝️, একজন নয় - দুজন। তুমি তাদের শুধু " মা " আর " বাবা "বলে ডাকবে। 🙏🙏 🙏🙏#হরে_কৃষ্ণ 🙏🙏
#যখন কলিযুগ দরজায় কড়া নাড়ল: পাঁচ পাণ্ডব ও পাঁচ ভবিষ্যদ্বাণী!!!
মহাভারতের সেই মহাবিধ্বংসী যুদ্ধ তখন সমাপ্ত। কুরুক্ষেত্রের প্রান্তর শান্ত, আর হস্তিনাপুরের সিংহাসনে ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির অধিষ্ঠিত। কিন্তু সময়ের চাকা কখনো থেমে থাকে না। দ্বাপরযুগ শেষ নিশ্বাস নিচ্ছিল, আর নিঃশব্দ পায়ে এগিয়ে আসছিল কলিযুগ।
এক শান্ত সন্ধ্যায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পাঁচ পাণ্ডবকে নিজের কাছে ডাকলেন। তাঁর মুখে ছিল এক রহস্যময় হাসি। তিনি বললেন— “হে পাণ্ডবগণ, আজ তোমাদের একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে বনে পাঠাচ্ছি। তোমরা পাঁচজন পাঁচটি ভিন্ন দিকে যাবে। যেখানে যা কিছু অদ্ভুত, বিস্ময়কর বা বোধগম্যতার বাইরে দেখবে, তা দেখে ফিরে আসবে। তার অন্তর্নিহিত অর্থ আমি তোমাদের বুঝিয়ে দেব।” প্রভুর আদেশ মাথায় নিয়ে পাঁচ ভাই বনের পথে রওনা হলেন। তাঁরা জানতেন না—আজ তাঁরা শুধু বনেই নয়, ভবিষ্যতের গর্ভে উঁকি দিতে চলেছেন।
প্রথম দৃশ্য: যুধিষ্ঠিরের বিস্ময় (দুটি শুঁড়ওয়ালা হাতি)
ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির গভীর অরণ্যে পৌঁছে এক ভয়ংকর দৃশ্য দেখলেন। সামনে দাঁড়িয়ে এক বিশাল হাতি—কিন্তু সে সাধারণ নয়। তার ছিল দুটি শুঁড়! আর সেই দুই শুঁড় দিয়েই সে দ্রুত খাবার তুলে তুলে খাচ্ছিল। প্রকৃতির এই বিকৃত রূপ দেখে যুধিষ্ঠির হতবাক হয়ে গেলেন।
অন্যদিকে মহারথী অর্জুন দেখলেন এক দীপ্তিমান পাখি। পাখিটির ডানায় খোদাই করা ছিল বেদের পবিত্র ঋচা— দেখে মনে হচ্ছিল সে যেন জ্ঞানের মূর্ত প্রতীক। কিন্তু অর্জুনের হৃদয় কেঁপে উঠল, যখন তিনি দেখলেন—বেদের মন্ত্রধারী সেই পাখিই পচা মৃত প্রাণীর মাংস ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাচ্ছে। পবিত্রতা আর নিষ্ঠুরতার এই অদ্ভুত মিল তাঁর বোধগম্য হলো না।
তৃতীয় দৃশ্য: ভীমের বেদনা (গাভী ও বাছুর)
মহাবলী ভীম দেখলেন এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। এক গাভী তার সদ্যোজাত বাছুরকে স্নেহভরে চাটছে। কিন্তু সে থামল না। চাটতেই থাকল… চাটতেই থাকল…এতটাই যে বাছুরের কোমল চামড়া উঠে গিয়ে রক্ত বেরিয়ে এলো। মায়ের অতিরিক্ত স্নেহই সন্তানের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠল। ভীমের হৃদয় গভীর বেদনায় ভরে উঠল।
চতুর্থ দৃশ্য: সহদেবের ধাঁধা (ভরা কুয়ো ও শুকনো কুয়ো)
সহদেব দেখলেন— বনে পাশাপাশি ছয়–সাতটি কুয়ো রয়েছে। সব কুয়োতেই টইটম্বুর মিষ্টি জল, কিন্তু মাঝখানের কুয়োটি—যেটি সবচেয়ে গভীর—সেটি পুরোপুরি শুকনো। চারপাশে জল উপচে পড়লেও মাঝের কুয়োর তৃষ্ণা মেটাতে পারছে না।
পঞ্চম দৃশ্য: নকুলের অভিজ্ঞতা (বিশাল শিলা ও ক্ষুদ্র চারাগাছ)
নকুল দেখলেন—পাহাড়ের চূড়া থেকে এক বিশাল, ভারী শিলা গড়িয়ে নিচে নামছে। তার গতি প্রবল। পথে এল বিশাল বৃক্ষ, বড় বড় পাথর—কিন্তু কেউই তাকে থামাতে পারল না। সবকিছু গুঁড়িয়ে সে এগিয়ে চলল। কিন্তু শেষে এক অতি ক্ষুদ্র ও কোমল চারাগাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে সেই বিশাল শিলাই থেমে গেল। যা বড় বড় বৃক্ষ পারল না, তা করে দেখাল এক নরম ছোট্ট গাছ।
শ্রীকৃষ্ণের মুখে ভবিষ্যতের উন্মোচন....
সন্ধ্যায় পাঁচ ভাই ব্যাকুল চিত্তে শ্রীকৃষ্ণের চরণে ফিরে এলেন। তাঁদের মুখে অসংখ্য প্রশ্ন।
কৃষ্ণ মৃদু হাসি দিয়ে বললেন—
“আমি জানি, তোমরা বিস্মিত। তোমরা যা দেখেছ, তা কেবল দৃশ্য নয়—এগুলো আসন্ন কলিযুগের ভবিষ্যদ্বাণী।”
১️⃣ দুটি শুঁড়ওয়ালা হাতি (শাসন ও শোষণ)
“যুধিষ্ঠির, কলিযুগে এমন শাসক আসবে যারা দুই শুঁড়ওয়ালা হাতির মতো হবে। বলবে এক কথা, করবে আরেক কথা। দুই হাতেই জনগণকে শোষণ করবে। নীতি ও নৈতিকতার মধ্যে থাকবে ফারাক। ক্ষমতার নেশায় তারা প্রজাদের লুণ্ঠন করবে।”
২️⃣ বেদলিপ্ত মাংসাশী পাখি (ভণ্ড ধার্মিক)
“পার্থ, কলিযুগে এমন মানুষ হবে যারা বাইরে থেকে সাধু, পণ্ডিত ও ধার্মিক বলে মনে হবে। মুখে থাকবে বেদ–শাস্ত্রের কথা, কিন্তু অন্তরে থাকবে লোভ আর ভোগের দুর্গন্ধ। ধর্ম হবে তাদের ব্যবসা।”
৩️⃣ গাভী ও বাছুর (অন্ধ মোহ)
“ভীম, এই গাভী সেইসব পিতা-মাতার প্রতীক যারা সন্তানকে অন্ধ মোহে বেঁধে রাখবে। প্রেমের নামে সন্তানের বিকাশই রুদ্ধ করে দেবে। সংগ্রাম করতে দেবে না, ফলে সন্তান দুর্বল হবে। ধর্মের পথে গেলে তারা কাঁদবে—এ প্রেম নয়, এ মোহ, যা সর্বনাশ ডেকে আনে।”
4️⃣ শুকনো কুয়ো (ঐশ্বর্য ও অসংবেদনশীলতা)
“সহদেব, ভরা কুয়োগুলো ধনী মানুষের প্রতীক। বিয়ে, উৎসব আর প্রদর্শনে তারা কোটি কোটি ব্যয় করবে। মদ ও ভোগে অর্থ ঢালবে। কিন্তু পাশে যদি কেউ ক্ষুধার্ত থাকে—তাকে এক পয়সাও দেবে না। মানবতা তৃষ্ণায় মারা যাবে।”
5️⃣ শিলা ও ক্ষুদ্র চারাগাছ (হরি নামই আশ্রয়)
নকুলের দিকে তাকিয়ে কৃষ্ণের চোখ দীপ্ত হয়ে উঠল— “তুমি কলিযুগের একমাত্র সমাধান দেখেছ। গড়িয়ে পড়া শিলা মানে মানুষের চরিত্রের পতন। কলিযুগে মানুষ দ্রুত অধঃপাতে যাবে। না ধন, না ক্ষমতা, না শক্তি—কিছুই তাকে থামাতে পারবে না। কিন্তু হরি নামের সেই ছোট্ট চারাগাছ, কীর্তনের সেই কোমল বীজ—মানুষকে পতন থেকে রক্ষা করবে। কলিযুগে একমাত্র ঈশ্বরের নামই মুক্তির পথ।”
পাঁচ পাণ্ডব স্তব্ধ হয়ে গেলেন। তাঁরা বুঝলেন—ভবিষ্যৎ অন্ধকারময় হলেও আলো নিভে যাবে না।
🌼 সারকথা 🌼
এই কাহিনি আজকের সমাজের জীবন্ত ছবি। সিদ্ধান্ত আমাদের— আমরা কি শিলার মতো গড়িয়ে পড়ব, নাকি হরি নামের আশ্রয়ে চারাগাছের মতো স্থির থাকব?
হাতি চলছিল, গাছ উপড়ে ফেলা হচ্ছিল, যুদ্ধের জন্য মাটি সমতল করা হচ্ছিল। সেই ভয়াবহ ব্যস্ততার মধ্যেই…একটি গাছে বাস করা একটি ছোট্ট গৌরেয়া পাখি তার চারটি নিষ্পাপ ছানাকে নিয়ে সর্বস্ব হারাল। বাসা ভেঙে পড়ল— ছানাগুলো বেঁচে গেল, কিন্তু তখনও তারা উড়তে পারে না। অসহায় মা… চারদিকে সাহায্যের খোঁজে ঘুরে বেড়াতে লাগল। ঠিক তখনই সে দেখল— শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনের সঙ্গেযুদ্ধভূমি পরিদর্শন করতে আসছেন। সাহস সঞ্চয় করে, কাঁপতে থাকা ডানায় ভর দিয়ে সে কৃষ্ণের রথের কাছে পৌঁছাল। “হে প্রভু, যুদ্ধ শুরু হলে আমার ছানারা পিষে মারা যাবে… দয়া করে তাদের রক্ষা করুন।” কৃষ্ণ বললেন—“আমি তোমার দুঃখ বুঝতে পারছি, কিন্তু আমি প্রকৃতির নিয়ম ভাঙতে পারি না।”
গৌরেয়া বলল—“প্রভু, আমি নিয়ম জানি না,আমি শুধু এটুকুই জানি—আপনিই সবকিছু। আমার সন্তানদের ভাগ্য আপনার চরণেই সমর্পিত।”
কৃষ্ণ শান্ত কণ্ঠে বললেন—“তোমার বাসায় তিন সপ্তাহের খাবার জড়ো করে রাখো।” সবকিছু দেখে অর্জুন বিস্মিত হয়ে গেল। কিন্তু মা গৌরেয়া— পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে নিঃশব্দে ফিরে গেল। দু’দিন পর যুদ্ধ শুরু হলো। শঙ্খনাদে আকাশ-বাতাস কেঁপে উঠল। হঠাৎ কৃষ্ণ বললেন— “অর্জুন, আমাকে তোমার ধনুক দাও।” অর্জুন চমকে উঠল, কারণ কৃষ্ণ তো অস্ত্র না ধরার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। তবুও তিনি ধনুক তুলে দিলেন।
কৃষ্ণ বাণ ছুড়লেন— কিন্তু বাণ হাতিকে লাগল না…তার গলায় বাঁধা ঘণ্টাটি ভেঙে পড়ল। অর্জুন হেসে বলল—“প্রভু, হাতিটা তো বেঁচে গেল!”কৃষ্ণ নীরব রইলেন। আঠারো দিন পর যুদ্ধ শেষ হলো। পাণ্ডবরা বিজয়ী হলেন। একদিন কৃষ্ণ অর্জুনকে যুদ্ধক্ষেত্রের এক প্রান্তে নিয়ে গেলেন। সেখানে পড়ে ছিল সেই ভাঙা ঘণ্টিটি। কৃষ্ণ বললেন—“অর্জুন, এটি তুলে নাও।” যেই না ঘণ্টিটি তোলা হলো— চারটি ছোট্ট পাখি আর তাদের মা ভেতর থেকে বেরিয়ে এল!
অর্জুনের চোখ অশ্রুতে ভরে গেল। টানা ১৮ দিন ধরে…ওই ভাঙা ঘণ্টিটিই ওই পাখি পরিবারের নিরাপদ আশ্রয় হয়ে ছিল। অর্জুন হাত জোড় করে বললেন—“প্রভু, আমি আপনাকে একজন সাধারণ মানুষ ভেবে ফেলেছিলাম…ভুলে গিয়েছিলাম আপনি তো কালেরও নিয়ন্তা।”
🌼 বার্তা 🌼 আজকের সময়টাও ওই ভাঙা ঘণ্টিটির মতো। ভয়, সংঘাত, অনিশ্চয়তা—সবই বাইরে। ভেতরে থেকে সংযম, বিশ্বাস আর ধৈর্য ধরে রাখুন।
🚪 যেদিন প্রভু চাইবেন— সেদিন তিনিই নিজ হাতেআমাদের নিরাপদে বাইরে নিয়ে আসবেন।
যুধিষ্ঠির বললেন- হে কৃষ্ণ! পৌষ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশীর নাম কি, বিধিই বা কি, কোন দেবতা ঐ দিনে পূজিত হন এবং আপনি কার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে সেই ব্রতফল প্রদান করেছিলেন কৃপা করে আমাকে সবিস্তারে তা বলুন।
শ্রীকৃষ্ণ বললেন- হে মাহারাজ! এই একাদশী ‘পুত্রদা’ নামে প্রসিদ্ধ। সর্বপাপবিনাশিনী এই একাদশীর অধিষ্ঠাতৃ দেবতা হলেন সিদ্ধিদাতা নারায়ণ। ত্রিলোকে এর মতো শ্রেষ্ঠ ব্রত নেই। এই ব্রতকারীকে নারায়ণ বিদ্ধান ও যশস্বী করে তোলেন। এখন আমার কাছে ব্রতের মাহাত্ম্য শ্রবণ করুন।
ভদ্রাবতী পুরীতে সুকেতুমান নামে এক রাজা ছিলেন। তার রানীর নাম ছিল শেব্যা। রাজদম্পতি বেশ সুখেই দিনযাপন করছিলেন। বংশরক্ষার জন্য বহুদিন ধরে ধর্ম-কর্মের অনুষ্ঠান করেও যখন পুত্রলাভ হল না, তখন রাজা দুশ্চিন্তায় কাতর হয়ে পড়লেন। তাই সকল ঐশ্বর্যবান হয়েও পুত্রহীন রাজার মনে কোন সুখ ছিল না। তিনি ভাবতেন পুত্রহীনের জন্ম বৃথা ও গৃহশূণ্য। পিতৃ-দেব মনুষ্যলোকের কাছে যে ঋণ শাস্ত্রে উল্লেখ আছে, তা পুত্র বিনা পরিশোধ হয় না। পুত্রবান জনের এ জগতে যশলাভ ও উত্তম গতি লাভ হয় এবং তাদের আয়ু, আরোগ্য, সম্পত্তি প্রভৃতি বিদ্যমান থাকে। নানা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত রাজা আত্মহত্যা করবেন বলে স্থির করলেন। কিন্তু পরে বিচার করে দেখলেন- ‘আত্মহত্যা মহাপাপ, এরফলে কেবল দেহের বিনাশমাত্র হবে, কিন্তু আমার পুত্রহীনতা তো দূর হবে না। তারপর একদিন রাজা নিবিড় বনে গমন করলেন। বন ভ্রমণ করতে করতে দ্বিপ্রহর অতিক্রান্ত হলে রাজা ক্ষুধা-তৃষ্ণায় অত্যন্ত কাতর হলেন। এদিক ওদিক জলাদির অনুসন্ধান করতে লাগলেন।
তিনি চক্রবাক, রাজহংস এবং নানারকম মাছে পরিপূর্ণ একটি মনোরম সরোবর দেখতে পেলেন। সরোবর দেখতে পেলেন। সরোবরের কাছে মুনিদের একটি আশ্রম ছিল। তিনি সেখানে উপস্থিত হলেন। সরোবর তীরে মুনিগণ বেদপাঠ করছিলেন। মুনিবৃন্দের শ্রীচরণে তিনি দন্ডবৎ প্রণাম করলেন।
মুনিগণ রাজাকে বললেন-হে মহারাজ! আমরা ‘বিশ্বদেব’ নামে প্রসিদ্ধ। এই সরোবরে স্নান করতে এসেছি। আজ থেকে পাাঁচদিন পরেই মাঘ মাস আরম্ভ হবে। আজ পুত্রদা একাদশী তিথি। পুত্র দান করে বলেই এই একাদশীর নাম ‘পুত্রদা’।
তাঁদের কথা শুনে রাজা বললেন-হে মুনিবৃন্দ! আমি অপুত্রক। তাই পুত্র কামনায় অধীর হয়ে পড়েছি। এখন আপনাদের দেখে আমার হৃদয়ে আশার সঞ্চার হয়ে। এ দুর্ভাগা পুত্রহীনের প্রতি অনুগ্রহ করে একটি পুত্র প্রদান করুন।
মুনিগণ বললেন- হে মহারাজ! আজ সেই পুত্রদা একাদশী তিথি। তাই এখনই আপনি এই ব্রত পাল করুন। ভগবান শ্রীকেশবের অনুগ্রহে অবশ্যই আপনার পুত্র লাভ হবে।
মুনিদের কথা শোনার পর যথাবিধানে রাজা কেবল ফলূমূলাদি আহার করে সেই ব্রত অনুষ্ঠান করলেন। দ্বাদশী দিনে উপযুক্ত সময়ে শস্যাদি সহযোগে পারণ করলেন। মুনিদের প্রণাম নিবেদন করে নিজগৃহে ফিরে এলেন। প্রতভাবে রাজার যথাসময়ে একটি তেজস্বী পুত্র লাভ হল।
হে মাহারাজ! এ ব্রত সকলেরই পালন করা কর্তব্য। মানব কল্যাণ কামনায় আপনার কাছে আমি এই ব্রত কথা বর্ণনা করলাম।
নিষ্ঠাসহকারে যারা এই পুত্রদা একাদশী ব্রত পালন করবে, তারা ‘পুত’ নামক নরক থেকে পরিত্রাণ লাভ করবে। আর এই ব্রত কথা শ্রবণ কীর্তনে অগ্নিষ্টোম যজ্ঞের ফল পাওয়া যায়। ব্রহ্মান্ডপুরাণে এই মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে।
🌿✨ আগামী ২৫শে ডিসেম্বর — পবিত্র তুলসী পূজা দিবস ✨🌿 শাস্ত্রে বলা হয়েছে — তুলসী সর্বমঙ্গলময়ী। তাঁর দর্শনে পাপ নাশ হয়, স্পর্শে শরীর শুদ্ধ হয়, জল সেচনে ভয় দূর হয়, রোপণে ভগবদ্ভক্তি বৃদ্ধি পায়, আর প্রণামে শ্রীকৃষ্ণচরণে অগাধ প্রেম লাভ হয়। 🙏 এইজন্য মা তুলসী কেবল একটি গাছ নন — তিনি ভক্তি, পবিত্রতা, শান্তি ও কল্যাণের জীবন্ত প্রতীক 🌿💛 যেখানে তুলসী থাকেন, সেখানে নারায়ণের কৃপা বিরাজ করে। আগামীকাল সকলে মিলে স্নান করে পবিত্র বস্ত্র ধারণ করে মা তুলসীকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে সকাল আটটা থেকে দশটা, কিংবা বিকাল সাড়ে পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা এই সময়ে পূজা করুন।
🕉 তুলসী প্রণাম মন্ত্র “ওঁম বৃন্দায়ৈ তুলসী দেব্যৈ প্রিয়ায়ৈ কেশবস্য চ। বিষ্ণুভক্তি প্রদে দেবী সত্যবত্যৈ নমো নমঃ॥” 🙏 এই ২৫শে ডিসেম্বর আমরা সকলে মিলে মা তুলসীর চরণে প্রণাম জানাই এবং প্রার্থনা করি — আমাদের ঘরে ঘরে শান্তি, সুস্থতা, ভক্তি ও মঙ্গল বর্ষিত হোক। ✨🌿 শুভ তুলসী পূজা দিবসের অগ্রিম প্রণাম 🌿✨
পক্ষবর্ধিনী মহাদ্বাদশীর ব্রতোপবাস ✨ শ্রীল উদ্ধারণ দত্ত ঠাকুর ও শ্রীল মহেশ পণ্ডিত ঠাকুরের তিরোভাব ✨ ১৬ ডিসেম্বর ,২০২৫ 📌 পারণ- পরের দিন দি ৯।৪৫ মিঃ মধ্যে মহাদ্বাদশী ব্রতের পারণ
উন্মীলনী ব্যঞ্জুলী চ ত্রিস্পৃশা পক্ষবর্ধিনী । জয়া চ বিজয়া চৈব জয়ন্তী পাপনাশিনী ।। দ্বাদশ্যোষ্টৌ মহাপুণ্যাঃ সর্বাপাপহরা দ্বিজ। তিথিযোগেন জায়ন্তে চতস্রশ্চাপরাস্তথা। নক্ষত্রযোগাচ্চ বলাৎ পাপং প্রশময়ন্তি তাঃ।। (হঃ ভঃ বিঃ ১৩।২৬৫-৬৬ ব্রহ্ম বৈবর্ত্ত পুরাণ বাক্য) ব্রহ্ম বৈবর্ত্ত পুরাণে সুতশৌনক সংবাদে যথা—হে দ্বিজ! উন্মীলনী, ব্যঙ্গুলী, ত্রিস্পৃশা, পক্ষবর্ধিনী, জয়া, বিজয়া, জয়ন্তী ও পাপনাশিনী-এই অষ্টদ্বাদশী মহাপুণ্যস্বরূপা ও নিখিল পাপনাশী। এই অষ্ট মহাদ্বাদশীর মধ্যে তিথিযোগে চারিটি ও নক্ষত্রযোগে অবশিষ্ট চারিটি হয়। এই সকল দ্বাদশী পাতকরাশি বিনাশিনী ।
পক্ষবর্ধিনী দ্বাদশী নিরূপণ—যে দ্বাদশীর পরে পূর্ণিমা বা অমাবস্যা ৬০ দণ্ড ভোগের পর পরের দিন কিঞ্চিৎ বৃদ্ধি হয়, তার পূর্বের দ্বাদশীকে পক্ষবর্ধিনী বলা হয়। একাদশীকে বৰ্জ্জনপূর্বক এই দ্বাদশীতে উপবাস করাই উচিত।
যুধিষ্ঠির বললেন, ''হে বিষ্ণু! আপনাকে আমি বন্দনা করি। আপনি ত্রিলোকের সুখ প্রদানকারী, বিশ্বেশ্বর, পুরুষোত্তম। আমার একটি সংশয় আছে। অগ্রহায়ণ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশীর নাম কী, বিধিই বা কী এবং কোন দেবতা এই একাদশীতে পূজিত হন, তা আমাকে বলুন।''
শ্রীকৃষ্ণ বললেন, "হে মহারাজ! আপনি উত্তম প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেছেন, যার মাধ্যমে আপনার যশ চতুর্দিকে বিস্তৃত হবে। এখন এই একাদশীর কথা বর্ণনা করছি যা শোনামাত্রেই বাজপেয় যজ্ঞের ফল লাভ হয়।
অগ্রহায়ণ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী 'মোক্ষদা' নামে পরিচিত। সর্বপাপবিনাশিনী ও ব্রত মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠা এই একাদশীর দেবতা শ্রী দামোদর। তুলসী, তুলসী মঞ্জরী, ধূপ, দীপ ইত্যাদি উপচারে শাস্ত্রবিধি অনুসারে শ্রী দামোদরের পূজা করতে হবে। পূর্ববর্ণিত বিধি অনুসারে দশমী ও একাদশী পালন করতে হবে। এই উপবাস দিনে স্তব-স্তুতি, নৃত্য-গীত আদি সহ রাত্রি জাগরণ করা কর্তব্য।
হে মহারাজ! প্রসঙ্গক্রমে একটি অলৌকিক কাহিনী আমি বলছি। মনোযোগ দিয়ে এই ইতিহাস শ্রবণ মাত্রই সর্বপাপ ক্ষয় হয়। যে পিতৃপুরুষেরা নিজ নিজ পাপে অধঃযোনি প্রাপ্ত হয়েছে, এই ব্রত পালনের পুণ্যফল বিন্দুমাত্র তাদেরকে দান করলে তারাও মুক্তিলাভের যোগ্য হন। কোন এক সময় মনোরম চম্পক নগরে বৈখানস নামে এক রাজা ছিলেন। তিনি ছিলেন সমস্ত বৈষ্ণব সদ্গুণে বিভূষিত। প্রজাদের তিনি পুত্রের মতো পালন করতেন। তার রাজ্যে বহু বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণ বাস করতেন। রাজ্যের সকলেই ছিল বেশ সমৃদ্ধশালী। একবার রাজা স্বপ্নে দেখলেন যে তার পিতা নরকে পতিত হয়েছেন। তা দেখে তিনি অত্যন্ত বিস্মিত হলেন। পরদিন ব্রাহ্মণদের ডেকে বলতে লাগলেন, "হে ব্রাহ্মণগণ! গতরাত্রিতে স্বপ্নে নরকযাতনায় পিতাকে কষ্ট পেতে দেখে আমার হৃদয় বিদীর্ণ হচ্ছে। তিনি আমাকে লক্ষ্য করে বলতে লাগলেন, 'হে পুত্র! তুমি আমাকে নরকসমুদ্র থেকে উদ্ধার কর।' তার সেই অবস্থা দেখে আমার অন্তরে সুখ নেই। আমার এই বিশাল রাজ্য, স্ত্রী-পুত্র, কিছুতেই আমি শান্তি পাচ্ছি না। কী করি, কোথায় যাই কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। আমার পূর্বপুরুষেরা মুক্তিলাভ করতে পারেন এমন কোন পুণ্য ব্রত, তপস্যা ও যোগের কথা আমাকে উপদেশ করুন। আমি তা অনুষ্ঠান করব। আমার মতো পুত্র বর্তমান থাকা সত্ত্বেও যদি পিতা-মাতা, পূর্বপুরুষেরা নরক যাতনা ভোগ করতে থাকেন, তবে সে পুত্রের কী প্রয়োজন?''
ব্রাহ্মণগণ বললেন, "হে মহারাজ! আপনার রাজ্যের কাছেই মহর্ষি পর্বত মুনির আশ্রম রয়েছে। তিনি ত্রিকালজ্ঞ। তাঁর কাছে আপনার মুক্তির উপায় জানতে পারবেন।" ব্রাহ্মণদের উপদেশ শ্রবণ করে মহাত্মা বৈখানস তাঁদের সঙ্গে নিয়ে সেই পর্বত মুনির আশ্রমে গমন করলেন। তাঁরা দূর থেকে ঋষিবরকে সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করে তাঁর কাছে গেলেন। মুনিবর রাজার কুশলবার্তা জিজ্ঞাসা করলেন। রাজা বললেন, "হে প্রভু! আপনার কৃপায় আমার সবই কুশল। তবে আমি একদিন স্বপ্নযোগে পিতার নরক যাতনা ভোগ ও কাতর আর্তনাদ শুনে অত্যন্ত দুঃখিত ও চিন্তাগ্রস্ত হয়েছি। হে ঋষিবর! কোন পুণ্যের ফলে তিনি সেই দুর্দশা থেকে মুক্তি পাবেন, তার উপায় জানতেই আপনার শরণাগত হয়েছি।"
রাজার কথা শুনে পর্বত মুনি কিছুক্ষণ ধ্যানস্থ হয়ে বললেন, "হে মহারাজ! পূর্বজন্মে তোমার পিতা অত্যন্ত কামাচারী হওয়ায় তার এরকম অধোগতি লাভ হয়েছে। এখন এই পাপ থেকে মুক্তির উপায় বর্ণনা করছি অগ্রহায়ণ মাসের শুক্লপক্ষের মোক্ষদা একাদশী পালন করে সেই পুণ্যফল পিতাকে প্রদান কর। সেই পুণ্য প্রভাবে তোমার পিতার মুক্তি লাভ হবে।"
মুনির কথা শুনে রাজা নিজের প্রাসাদে ফিরে এলেন। সেই পবিত্র তিথির আবির্ভাবে তিনি স্ত্রী-পুত্রাদিসহ যথাবিধি মোক্ষদা একাদশী ব্রত পালন করলেন। ব্রতের পুণ্যফল পিতার উদ্দেশ্যে প্রদান করলেন। ঐ পুণ্যফল দানের সঙ্গে সঙ্গে আকাশ থেকে পুষ্পবৃষ্টি হতে লাগল। 'হে পুত্র! তোমার মঙ্গল হোক।' এই বলতে বলতে বৈখানস রাজার পিতা নরক হতে মুক্ত হয়ে স্বর্গে গমন করলেন।
হে মহারাজ যুধিষ্ঠির! যে ব্যক্তি এই মঙ্গলদায়িনী মোক্ষদা একাদশী ব্রত পালন করে, তার সমস্ত পাপ বিনষ্ট হয় এবং মৃত্যুর পরে মুক্তি লাভ করে। এই ব্রতের পুণ্য সংখ্যা আমিও জানিনা। চিন্তামণির মতো এই ব্রত আমার অত্যন্ত প্রিয়। এই ব্রতকথা যিনি পাঠ করেন এবং যিনি শ্রবণ করেন, উভয়েই বাজপেয় যজ্ঞের ফল প্রাপ্ত হন।"
KRI-alochona
আজ পাপমোচনী একাদশী!
"যেহেতু আজ ভগবান শ্রীহরির দিবস, তাই আজ আমরা আমাদের পারমার্থিক কার্যক্রম বাড়ানোর চেষ্টা করি। মহারাজ যুধিষ্ঠির ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে এই একাদশীর মাহাত্ম্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ব্যাখ্যা করেন, এই একাদশীর ইতিহাসে রয়েছে কিভাবে এটি পালনের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি সবচেয়ে গুরুতর পাপ থেকেও মুক্তি পেতে পারে।
শ্রীল প্রভুপাদের নির্দেশে আমরা এই দিনে কোন প্রকার শস্য, দানা বা ডাল গ্রহণ করি না।"
~শ্রীল জয়পতাকা স্বামী
৭ই এপ্রিল, ২০২১
শ্রীধাম মায়াপুর
পাপমোচনী একাদশীর মাহাত্ম্য!
যুধিষ্ঠির শ্রীকৃষ্ণকে এই একাদশীর মাহাত্ম্য জিজ্ঞেস করলে শ্রীকৃষ্ণ বললেন যে, এই একাদশী সমস্ত সুখের আধার, সিদ্ধি প্রদানকারী ও পরম মঙ্গলময়। সমস্ত পাপ থেকে নিস্তার বা মোচন করে বলে এই তিথির নাম 'পাপমোচনী একাদশী।'
প্রাচীনকালে মেধাবী ঋষি চৈত্ররথ নামে পুষ্প উদ্যানে বসে তপস্যা করছিলেন। মঞ্জুঘোষা নামে এক সুন্দরী অপ্সরা তাঁকে বশীভূত করতে চাইলেও অভিশাপের ভয়ে আশ্রমের ২ মাইল দূরে বীণা বাজিয়ে গান গাইতে লাগলো। একদিন দুইজন দুইজনকে দেখে উভয়েই কামবাণে পীড়িত হলো। ঋষি তাঁর সাধন-ভজন ছেড়ে সেই অপ্সরার সাথে প্রায় ৫৬ বছর অবস্থান করলেন। যদিও তাঁরা বহু বছর একত্রে থাকলেন, ঋষির কাছে অর্ধরাত্রি বলে মনে হলো। যখন তিনি জানতে পারলেন প্রকৃতপক্ষে তাঁর ৫৬ বছর সহবাসে অতিবাহিত হয়েছে, তখন তিনি রেগে অপ্সরাকে পিশাচী হওয়ার অভিশাপ দিলেন। সে ক্ষমা চাইলে ঋষি তাকে শাপ মোচনের জন্য চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষীয়া পাপমোচনী একাদশী পালনের কথা বললেন। পিতার আশ্রমে ফিরে গিয়ে মেধাবী প্রায়শ্চিত্ত করতে চাইলে তাঁর পিতা তাঁকে চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষীয়া পাপমোচনী একাদশী পালনের কথা বললেন। এই একাদশী পালনে উভয়েই পাপ থেকে মুক্ত হলেন।
যারা এই একাদশী পালন করে, তাদের পূর্বকৃত সমস্ত পাপই ক্ষয় হয়। এই ব্রতকথা পাঠ ও শ্রবণে সহস্র গো-দানের ফল লাভ হয়।
4 months ago | [YT] | 13
View 2 replies
KRI-alochona
জয় বিজয়া একাদশী 🙏
জয় শ্রী রাধাকৃষ্ণ 🙏🙏
5 months ago | [YT] | 15
View 0 replies
KRI-alochona
📌একটি শিশু ঈশ্বরকে জিজ্ঞেস করল," সবাই বলছে যে, তুমি আমাকে আগামীকাল পৃথিবীতে পাঠাচ্ছো। কিন্তু আমি এতো ছোট এবং অসহায় হয়ে কীভাবে বাঁচব?"
ঈশ্বর বললেন☝️, " তোমার দেবদূত তোমার জন্য অপেক্ষা করবে এবং তোমার যত্ন নেবে। "
তখন শিশুটি আবার জিজ্ঞাসা করল," তবে আমাকে বলুন, এখানে স্বর্গে আমি এতো খুশি আছি, সারাক্ষণ গান হাসি..... কতো আনন্দ..."
ঈশ্বর বললেন, ☝️" তোমার দেবদূত তোমার জন্য গান করবেন এবং তোমার জন্য হাসবেন। "
বাচ্চাটি বলল, " কিন্তু ভাষা না জানলে সবাই আমার সাথে কথা বলবে কীভাবে? আর আমিই বা তাদের ভাষা কীভাবে বুঝতে সক্ষম হব?"
ঈশ্বর বললেন,☝️" তোমার দেবদূত তোমাকে সবচেয়ে সুন্দর এবং মধুর শব্দগুলি শোনাবে যা তুমি শুনবে এবং খুব ধৈর্য্য এবং যত্ন সহকারে তোমার দেবদূত তোমাকে কীভাবে কথা বলতে হয় তা শিখিয়ে দেবে। "
" এবং আমি যখন আপনার সাথে কথা বলতে চাইব তখন কী করব?" -- বাচ্চাটি জিজ্ঞাসা করল ঈশ্বরকে।
ঈশ্বর বললেন,"☝️ তোমার দেবদূত তোমার হাত একসাথে রাখবেন এবং তোমাকে কীভাবে প্রার্থনা করতে হয় তা শিখিয়ে দেবেন। "
বাচ্চাটি জিজ্ঞেস করল," কে আমাকে রক্ষা করবে? "
ঈশ্বর বললেন," ☝️তোমার দেবদূত তোমাকে রক্ষা করবেন। দরকার পড়লে সে তার নিজের জীবন দিয়ে তোমাকে রক্ষা করবেন। "
বাচ্চাটি আবারও জিজ্ঞাসা করল," প্রভু আমি এতো ছোট, ঠিকমতো খেতে পাব তো?"
ঈশ্বর বললেন,"☝️ আমি যাকে জন্ম দিই তার খাবারের ব্যবস্থা করেই রাখি। কিন্তু মনে রাখবে, আমি খাবারের ব্যবস্থা করি কিন্তু নিজের শরীরের রক্ত খাওয়াই না। কিন্তু তোমার দেবদূত নিজের শরীরের রক্ত পর্যন্ত তোমাকে খাওয়াতে প্রস্তুত। ভবিষ্যতেও দরকার পড়লে সে নিজে না খেয়ে তোমাকে খাওয়াবে। "
" কিন্তু তাও আমি সর্বদা দুঃখিত থাকব কারণ আপনাকে আর দেখতে পাব না। " বাচ্চাটি বলল।
ঈশ্বর বললেন,☝️" তোমার দেবদূত সর্বদা তোমার সাথে আমার সম্পর্কে কথা বলবেন এবং আমার কাছে ফিরে আসার উপায় তোমাকে শিখিয়ে দেবেন। যদিও আমি সর্বদাই তোমার পাশে থাকব "
সেই মুহুর্তে স্বর্গে অনেক শান্তি ছিল কিন্তু পৃথিবী থেকে ডাক শোনা গেল এবং শিশুটি তাড়াতাড়ি জিজ্ঞাসা করল, " ঈশ্বর, আমি যদি এখনই চলে যাই দয়া করে আমার দেবদূতের নাম তো বলুন। "
ঈশ্বর বললেন☝️, একজন নয় - দুজন। তুমি তাদের শুধু " মা " আর " বাবা "বলে ডাকবে। 🙏🙏
🙏🙏#হরে_কৃষ্ণ 🙏🙏
5 months ago | [YT] | 8
View 0 replies
KRI-alochona
#যখন কলিযুগ দরজায় কড়া নাড়ল: পাঁচ পাণ্ডব ও পাঁচ ভবিষ্যদ্বাণী!!!
মহাভারতের সেই মহাবিধ্বংসী যুদ্ধ তখন সমাপ্ত। কুরুক্ষেত্রের প্রান্তর শান্ত, আর হস্তিনাপুরের সিংহাসনে ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির অধিষ্ঠিত। কিন্তু সময়ের চাকা কখনো থেমে থাকে না। দ্বাপরযুগ শেষ নিশ্বাস নিচ্ছিল, আর নিঃশব্দ পায়ে এগিয়ে আসছিল কলিযুগ।
এক শান্ত সন্ধ্যায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পাঁচ পাণ্ডবকে নিজের কাছে ডাকলেন। তাঁর মুখে ছিল এক রহস্যময় হাসি। তিনি বললেন—
“হে পাণ্ডবগণ, আজ তোমাদের একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে বনে পাঠাচ্ছি। তোমরা পাঁচজন পাঁচটি ভিন্ন দিকে যাবে। যেখানে যা কিছু অদ্ভুত, বিস্ময়কর বা বোধগম্যতার বাইরে দেখবে, তা দেখে ফিরে আসবে। তার অন্তর্নিহিত অর্থ আমি তোমাদের বুঝিয়ে দেব।”
প্রভুর আদেশ মাথায় নিয়ে পাঁচ ভাই বনের পথে রওনা হলেন।
তাঁরা জানতেন না—আজ তাঁরা শুধু বনেই নয়, ভবিষ্যতের গর্ভে উঁকি দিতে চলেছেন।
প্রথম দৃশ্য: যুধিষ্ঠিরের বিস্ময়
(দুটি শুঁড়ওয়ালা হাতি)
ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির গভীর অরণ্যে পৌঁছে এক ভয়ংকর দৃশ্য দেখলেন। সামনে দাঁড়িয়ে এক বিশাল হাতি—কিন্তু সে সাধারণ নয়। তার ছিল দুটি শুঁড়! আর সেই দুই শুঁড় দিয়েই সে দ্রুত খাবার তুলে তুলে খাচ্ছিল। প্রকৃতির এই বিকৃত রূপ দেখে যুধিষ্ঠির হতবাক হয়ে গেলেন।
দ্বিতীয় দৃশ্য: অর্জুনের বিস্ময়
(বেদলিপ্ত মাংসাশী পাখি)
অন্যদিকে মহারথী অর্জুন দেখলেন এক দীপ্তিমান পাখি। পাখিটির ডানায় খোদাই করা ছিল বেদের পবিত্র ঋচা— দেখে মনে হচ্ছিল সে যেন জ্ঞানের মূর্ত প্রতীক। কিন্তু অর্জুনের হৃদয় কেঁপে উঠল,
যখন তিনি দেখলেন—বেদের মন্ত্রধারী সেই পাখিই পচা মৃত প্রাণীর মাংস ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাচ্ছে। পবিত্রতা আর নিষ্ঠুরতার এই অদ্ভুত মিল তাঁর বোধগম্য হলো না।
তৃতীয় দৃশ্য: ভীমের বেদনা
(গাভী ও বাছুর)
মহাবলী ভীম দেখলেন এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। এক গাভী তার সদ্যোজাত বাছুরকে স্নেহভরে চাটছে। কিন্তু সে থামল না।
চাটতেই থাকল… চাটতেই থাকল…এতটাই যে বাছুরের কোমল চামড়া উঠে গিয়ে রক্ত বেরিয়ে এলো। মায়ের অতিরিক্ত স্নেহই সন্তানের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠল। ভীমের হৃদয় গভীর বেদনায় ভরে উঠল।
চতুর্থ দৃশ্য: সহদেবের ধাঁধা
(ভরা কুয়ো ও শুকনো কুয়ো)
সহদেব দেখলেন— বনে পাশাপাশি ছয়–সাতটি কুয়ো রয়েছে। সব কুয়োতেই টইটম্বুর মিষ্টি জল, কিন্তু মাঝখানের কুয়োটি—যেটি সবচেয়ে গভীর—সেটি পুরোপুরি শুকনো। চারপাশে জল উপচে পড়লেও মাঝের কুয়োর তৃষ্ণা মেটাতে পারছে না।
পঞ্চম দৃশ্য: নকুলের অভিজ্ঞতা
(বিশাল শিলা ও ক্ষুদ্র চারাগাছ)
নকুল দেখলেন—পাহাড়ের চূড়া থেকে এক বিশাল, ভারী শিলা গড়িয়ে নিচে নামছে। তার গতি প্রবল। পথে এল বিশাল বৃক্ষ, বড় বড় পাথর—কিন্তু কেউই তাকে থামাতে পারল না। সবকিছু গুঁড়িয়ে সে এগিয়ে চলল। কিন্তু শেষে এক অতি ক্ষুদ্র ও কোমল চারাগাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে সেই বিশাল শিলাই থেমে গেল। যা বড় বড় বৃক্ষ পারল না, তা করে দেখাল এক নরম ছোট্ট গাছ।
শ্রীকৃষ্ণের মুখে ভবিষ্যতের উন্মোচন....
সন্ধ্যায় পাঁচ ভাই ব্যাকুল চিত্তে শ্রীকৃষ্ণের চরণে ফিরে এলেন।
তাঁদের মুখে অসংখ্য প্রশ্ন।
কৃষ্ণ মৃদু হাসি দিয়ে বললেন—
“আমি জানি, তোমরা বিস্মিত। তোমরা যা দেখেছ, তা কেবল দৃশ্য নয়—এগুলো আসন্ন কলিযুগের ভবিষ্যদ্বাণী।”
১️⃣ দুটি শুঁড়ওয়ালা হাতি
(শাসন ও শোষণ)
“যুধিষ্ঠির, কলিযুগে এমন শাসক আসবে যারা দুই শুঁড়ওয়ালা হাতির মতো হবে। বলবে এক কথা, করবে আরেক কথা। দুই হাতেই জনগণকে শোষণ করবে। নীতি ও নৈতিকতার মধ্যে থাকবে ফারাক। ক্ষমতার নেশায় তারা প্রজাদের লুণ্ঠন করবে।”
২️⃣ বেদলিপ্ত মাংসাশী পাখি
(ভণ্ড ধার্মিক)
“পার্থ, কলিযুগে এমন মানুষ হবে যারা বাইরে থেকে সাধু, পণ্ডিত ও ধার্মিক বলে মনে হবে। মুখে থাকবে বেদ–শাস্ত্রের কথা, কিন্তু অন্তরে থাকবে লোভ আর ভোগের দুর্গন্ধ। ধর্ম হবে তাদের ব্যবসা।”
৩️⃣ গাভী ও বাছুর
(অন্ধ মোহ)
“ভীম, এই গাভী সেইসব পিতা-মাতার প্রতীক যারা সন্তানকে অন্ধ মোহে বেঁধে রাখবে। প্রেমের নামে সন্তানের বিকাশই রুদ্ধ করে দেবে। সংগ্রাম করতে দেবে না, ফলে সন্তান দুর্বল হবে। ধর্মের পথে গেলে তারা কাঁদবে—এ প্রেম নয়, এ মোহ, যা সর্বনাশ ডেকে আনে।”
4️⃣ শুকনো কুয়ো
(ঐশ্বর্য ও অসংবেদনশীলতা)
“সহদেব, ভরা কুয়োগুলো ধনী মানুষের প্রতীক। বিয়ে, উৎসব আর প্রদর্শনে তারা কোটি কোটি ব্যয় করবে। মদ ও ভোগে অর্থ ঢালবে।
কিন্তু পাশে যদি কেউ ক্ষুধার্ত থাকে—তাকে এক পয়সাও দেবে না।
মানবতা তৃষ্ণায় মারা যাবে।”
5️⃣ শিলা ও ক্ষুদ্র চারাগাছ
(হরি নামই আশ্রয়)
নকুলের দিকে তাকিয়ে কৃষ্ণের চোখ দীপ্ত হয়ে উঠল—
“তুমি কলিযুগের একমাত্র সমাধান দেখেছ। গড়িয়ে পড়া শিলা মানে মানুষের চরিত্রের পতন। কলিযুগে মানুষ দ্রুত অধঃপাতে যাবে। না ধন, না ক্ষমতা, না শক্তি—কিছুই তাকে থামাতে পারবে না। কিন্তু হরি নামের সেই ছোট্ট চারাগাছ, কীর্তনের সেই কোমল বীজ—মানুষকে পতন থেকে রক্ষা করবে। কলিযুগে একমাত্র ঈশ্বরের নামই মুক্তির পথ।”
পাঁচ পাণ্ডব স্তব্ধ হয়ে গেলেন। তাঁরা বুঝলেন—ভবিষ্যৎ অন্ধকারময় হলেও আলো নিভে যাবে না।
🌼 সারকথা 🌼
এই কাহিনি আজকের সমাজের জীবন্ত ছবি। সিদ্ধান্ত আমাদের—
আমরা কি শিলার মতো গড়িয়ে পড়ব, নাকি হরি নামের আশ্রয়ে চারাগাছের মতো স্থির থাকব?
5 months ago | [YT] | 5
View 0 replies
KRI-alochona
#কুরুক্ষেত্র প্রস্তুত হচ্ছিলো!!!
🐦🐦🐦🐦
হাতি চলছিল, গাছ উপড়ে ফেলা হচ্ছিল, যুদ্ধের জন্য মাটি সমতল করা হচ্ছিল। সেই ভয়াবহ ব্যস্ততার মধ্যেই…একটি গাছে বাস করা একটি ছোট্ট গৌরেয়া পাখি তার চারটি নিষ্পাপ ছানাকে নিয়ে সর্বস্ব হারাল। বাসা ভেঙে পড়ল— ছানাগুলো বেঁচে গেল, কিন্তু তখনও তারা উড়তে পারে না।
অসহায় মা… চারদিকে সাহায্যের খোঁজে ঘুরে বেড়াতে লাগল।
ঠিক তখনই সে দেখল— শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনের সঙ্গেযুদ্ধভূমি পরিদর্শন করতে আসছেন। সাহস সঞ্চয় করে, কাঁপতে থাকা ডানায় ভর দিয়ে সে কৃষ্ণের রথের কাছে পৌঁছাল। “হে প্রভু, যুদ্ধ শুরু হলে
আমার ছানারা পিষে মারা যাবে… দয়া করে তাদের রক্ষা করুন।”
কৃষ্ণ বললেন—“আমি তোমার দুঃখ বুঝতে পারছি, কিন্তু আমি প্রকৃতির নিয়ম ভাঙতে পারি না।”
গৌরেয়া বলল—“প্রভু, আমি নিয়ম জানি না,আমি শুধু এটুকুই জানি—আপনিই সবকিছু। আমার সন্তানদের ভাগ্য আপনার চরণেই সমর্পিত।”
কৃষ্ণ শান্ত কণ্ঠে বললেন—“তোমার বাসায় তিন সপ্তাহের খাবার জড়ো করে রাখো।” সবকিছু দেখে অর্জুন বিস্মিত হয়ে গেল। কিন্তু মা গৌরেয়া— পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে নিঃশব্দে ফিরে গেল। দু’দিন পর যুদ্ধ শুরু হলো। শঙ্খনাদে আকাশ-বাতাস কেঁপে উঠল। হঠাৎ কৃষ্ণ বললেন— “অর্জুন, আমাকে তোমার ধনুক দাও।” অর্জুন চমকে উঠল, কারণ কৃষ্ণ তো অস্ত্র না ধরার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। তবুও তিনি ধনুক তুলে দিলেন।
কৃষ্ণ বাণ ছুড়লেন— কিন্তু বাণ হাতিকে লাগল না…তার গলায় বাঁধা ঘণ্টাটি ভেঙে পড়ল। অর্জুন হেসে বলল—“প্রভু, হাতিটা তো বেঁচে গেল!”কৃষ্ণ নীরব রইলেন। আঠারো দিন পর যুদ্ধ শেষ হলো।
পাণ্ডবরা বিজয়ী হলেন। একদিন কৃষ্ণ অর্জুনকে যুদ্ধক্ষেত্রের এক প্রান্তে নিয়ে গেলেন। সেখানে পড়ে ছিল সেই ভাঙা ঘণ্টিটি। কৃষ্ণ বললেন—“অর্জুন, এটি তুলে নাও।” যেই না ঘণ্টিটি তোলা হলো—
চারটি ছোট্ট পাখি আর তাদের মা ভেতর থেকে বেরিয়ে এল!
অর্জুনের চোখ অশ্রুতে ভরে গেল। টানা ১৮ দিন ধরে…ওই ভাঙা ঘণ্টিটিই ওই পাখি পরিবারের নিরাপদ আশ্রয় হয়ে ছিল। অর্জুন হাত জোড় করে বললেন—“প্রভু, আমি আপনাকে একজন সাধারণ মানুষ ভেবে ফেলেছিলাম…ভুলে গিয়েছিলাম আপনি তো কালেরও নিয়ন্তা।”
🌼 বার্তা 🌼
আজকের সময়টাও ওই ভাঙা ঘণ্টিটির মতো। ভয়, সংঘাত, অনিশ্চয়তা—সবই বাইরে। ভেতরে থেকে সংযম, বিশ্বাস আর ধৈর্য ধরে রাখুন।
🚪 যেদিন প্রভু চাইবেন— সেদিন তিনিই নিজ হাতেআমাদের নিরাপদে বাইরে নিয়ে আসবেন।
5 months ago | [YT] | 7
View 0 replies
KRI-alochona
#পুত্রদা একাদশীর ব্রত মাহাত্ম্য!!!
যুধিষ্ঠির বললেন- হে কৃষ্ণ! পৌষ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশীর নাম কি, বিধিই বা কি, কোন দেবতা ঐ দিনে পূজিত হন এবং আপনি কার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে সেই ব্রতফল প্রদান করেছিলেন কৃপা করে আমাকে সবিস্তারে তা বলুন।
শ্রীকৃষ্ণ বললেন- হে মাহারাজ! এই একাদশী ‘পুত্রদা’ নামে প্রসিদ্ধ। সর্বপাপবিনাশিনী এই একাদশীর অধিষ্ঠাতৃ দেবতা হলেন সিদ্ধিদাতা নারায়ণ। ত্রিলোকে এর মতো শ্রেষ্ঠ ব্রত নেই। এই ব্রতকারীকে নারায়ণ বিদ্ধান ও যশস্বী করে তোলেন। এখন আমার কাছে ব্রতের মাহাত্ম্য শ্রবণ করুন।
ভদ্রাবতী পুরীতে সুকেতুমান নামে এক রাজা ছিলেন। তার রানীর নাম ছিল শেব্যা। রাজদম্পতি বেশ সুখেই দিনযাপন করছিলেন।
বংশরক্ষার জন্য বহুদিন ধরে ধর্ম-কর্মের অনুষ্ঠান করেও যখন পুত্রলাভ হল না, তখন রাজা দুশ্চিন্তায় কাতর হয়ে পড়লেন। তাই সকল ঐশ্বর্যবান হয়েও পুত্রহীন রাজার মনে কোন সুখ ছিল না।
তিনি ভাবতেন পুত্রহীনের জন্ম বৃথা ও গৃহশূণ্য। পিতৃ-দেব মনুষ্যলোকের কাছে যে ঋণ শাস্ত্রে উল্লেখ আছে, তা পুত্র বিনা পরিশোধ হয় না। পুত্রবান জনের এ জগতে যশলাভ ও উত্তম গতি লাভ হয় এবং তাদের আয়ু, আরোগ্য, সম্পত্তি প্রভৃতি বিদ্যমান থাকে। নানা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত রাজা আত্মহত্যা করবেন বলে স্থির করলেন। কিন্তু পরে বিচার করে দেখলেন- ‘আত্মহত্যা মহাপাপ, এরফলে কেবল দেহের বিনাশমাত্র হবে, কিন্তু আমার পুত্রহীনতা তো দূর হবে না। তারপর একদিন রাজা নিবিড় বনে গমন করলেন। বন ভ্রমণ করতে করতে দ্বিপ্রহর অতিক্রান্ত হলে রাজা ক্ষুধা-তৃষ্ণায় অত্যন্ত কাতর হলেন। এদিক ওদিক জলাদির অনুসন্ধান করতে লাগলেন।
তিনি চক্রবাক, রাজহংস এবং নানারকম মাছে পরিপূর্ণ একটি মনোরম সরোবর দেখতে পেলেন। সরোবর দেখতে পেলেন। সরোবরের কাছে মুনিদের একটি আশ্রম ছিল। তিনি সেখানে উপস্থিত হলেন। সরোবর তীরে মুনিগণ বেদপাঠ করছিলেন। মুনিবৃন্দের শ্রীচরণে তিনি দন্ডবৎ প্রণাম করলেন।
মুনিগণ রাজাকে বললেন-হে মহারাজ! আমরা ‘বিশ্বদেব’ নামে প্রসিদ্ধ। এই সরোবরে স্নান করতে এসেছি। আজ থেকে পাাঁচদিন পরেই মাঘ মাস আরম্ভ হবে। আজ পুত্রদা একাদশী তিথি। পুত্র দান করে বলেই এই একাদশীর নাম ‘পুত্রদা’।
তাঁদের কথা শুনে রাজা বললেন-হে মুনিবৃন্দ! আমি অপুত্রক। তাই পুত্র কামনায় অধীর হয়ে পড়েছি। এখন আপনাদের দেখে আমার হৃদয়ে আশার সঞ্চার হয়ে। এ দুর্ভাগা পুত্রহীনের প্রতি অনুগ্রহ করে একটি পুত্র প্রদান করুন।
মুনিগণ বললেন- হে মহারাজ! আজ সেই পুত্রদা একাদশী তিথি। তাই এখনই আপনি এই ব্রত পাল করুন। ভগবান শ্রীকেশবের অনুগ্রহে অবশ্যই আপনার পুত্র লাভ হবে।
মুনিদের কথা শোনার পর যথাবিধানে রাজা কেবল ফলূমূলাদি আহার করে সেই ব্রত অনুষ্ঠান করলেন। দ্বাদশী দিনে উপযুক্ত সময়ে শস্যাদি সহযোগে পারণ করলেন। মুনিদের প্রণাম নিবেদন করে নিজগৃহে ফিরে এলেন। প্রতভাবে রাজার যথাসময়ে একটি তেজস্বী পুত্র লাভ হল।
হে মাহারাজ! এ ব্রত সকলেরই পালন করা কর্তব্য। মানব কল্যাণ কামনায় আপনার কাছে আমি এই ব্রত কথা বর্ণনা করলাম।
নিষ্ঠাসহকারে যারা এই পুত্রদা একাদশী ব্রত পালন করবে, তারা ‘পুত’ নামক নরক থেকে পরিত্রাণ লাভ করবে। আর এই ব্রত কথা শ্রবণ কীর্তনে অগ্নিষ্টোম যজ্ঞের ফল পাওয়া যায়। ব্রহ্মান্ডপুরাণে এই মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে।
6 months ago | [YT] | 12
View 0 replies
KRI-alochona
ওঁ কৃষ্ণায় বাসুদেবায় হরয়ে পরমাত্মনে।
প্রণত ক্লেশনাশায় গোবিন্দায় নমো নমঃ।।
6 months ago | [YT] | 26
View 1 reply
KRI-alochona
🌿✨ আগামী ২৫শে ডিসেম্বর — পবিত্র তুলসী পূজা দিবস ✨🌿
শাস্ত্রে বলা হয়েছে —
তুলসী সর্বমঙ্গলময়ী।
তাঁর দর্শনে পাপ নাশ হয়,
স্পর্শে শরীর শুদ্ধ হয়,
জল সেচনে ভয় দূর হয়,
রোপণে ভগবদ্ভক্তি বৃদ্ধি পায়,
আর প্রণামে শ্রীকৃষ্ণচরণে অগাধ প্রেম লাভ হয়। 🙏
এইজন্য মা তুলসী কেবল একটি গাছ নন — তিনি ভক্তি, পবিত্রতা, শান্তি ও কল্যাণের জীবন্ত প্রতীক 🌿💛
যেখানে তুলসী থাকেন, সেখানে নারায়ণের কৃপা বিরাজ করে।
আগামীকাল সকলে মিলে স্নান করে পবিত্র বস্ত্র ধারণ করে মা তুলসীকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে সকাল আটটা থেকে দশটা, কিংবা বিকাল সাড়ে পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা এই সময়ে পূজা করুন।
🕉 তুলসী প্রণাম মন্ত্র
“ওঁম বৃন্দায়ৈ তুলসী দেব্যৈ প্রিয়ায়ৈ কেশবস্য চ।
বিষ্ণুভক্তি প্রদে দেবী সত্যবত্যৈ নমো নমঃ॥”
🙏 এই ২৫শে ডিসেম্বর আমরা সকলে মিলে মা তুলসীর চরণে প্রণাম জানাই এবং প্রার্থনা করি — আমাদের ঘরে ঘরে শান্তি, সুস্থতা, ভক্তি ও মঙ্গল বর্ষিত হোক।
✨🌿 শুভ তুলসী পূজা দিবসের অগ্রিম প্রণাম 🌿✨
6 months ago | [YT] | 8
View 1 reply
KRI-alochona
পক্ষবর্ধিনী মহাদ্বাদশীর ব্রতোপবাস ✨
শ্রীল উদ্ধারণ দত্ত ঠাকুর ও শ্রীল মহেশ পণ্ডিত ঠাকুরের তিরোভাব ✨
১৬ ডিসেম্বর ,২০২৫ 📌
পারণ- পরের দিন দি ৯।৪৫ মিঃ মধ্যে মহাদ্বাদশী ব্রতের পারণ
উন্মীলনী ব্যঞ্জুলী চ ত্রিস্পৃশা পক্ষবর্ধিনী ।
জয়া চ বিজয়া চৈব জয়ন্তী পাপনাশিনী ।।
দ্বাদশ্যোষ্টৌ মহাপুণ্যাঃ সর্বাপাপহরা দ্বিজ।
তিথিযোগেন জায়ন্তে চতস্রশ্চাপরাস্তথা।
নক্ষত্রযোগাচ্চ বলাৎ পাপং প্রশময়ন্তি তাঃ।।
(হঃ ভঃ বিঃ ১৩।২৬৫-৬৬ ব্রহ্ম বৈবর্ত্ত পুরাণ বাক্য)
ব্রহ্ম বৈবর্ত্ত পুরাণে সুতশৌনক সংবাদে যথা—হে দ্বিজ! উন্মীলনী, ব্যঙ্গুলী, ত্রিস্পৃশা, পক্ষবর্ধিনী, জয়া, বিজয়া, জয়ন্তী ও পাপনাশিনী-এই অষ্টদ্বাদশী মহাপুণ্যস্বরূপা ও নিখিল পাপনাশী। এই অষ্ট মহাদ্বাদশীর মধ্যে তিথিযোগে চারিটি ও নক্ষত্রযোগে অবশিষ্ট চারিটি হয়। এই সকল দ্বাদশী পাতকরাশি বিনাশিনী ।
পক্ষবর্ধিনী দ্বাদশী নিরূপণ—যে দ্বাদশীর পরে পূর্ণিমা বা অমাবস্যা ৬০ দণ্ড ভোগের পর পরের দিন কিঞ্চিৎ বৃদ্ধি হয়, তার পূর্বের দ্বাদশীকে পক্ষবর্ধিনী বলা হয়। একাদশীকে বৰ্জ্জনপূর্বক এই দ্বাদশীতে উপবাস করাই উচিত।
#GaudiyaMission #gaudiyamath #prabhupad #srilaprabhupad #srilaprabhupada #prabhupada150 #prabhupad150
7 months ago | [YT] | 16
View 2 replies
KRI-alochona
মোক্ষদা একাদশীর মাহাত্ম্য:
যুধিষ্ঠির বললেন, ''হে বিষ্ণু! আপনাকে আমি বন্দনা করি। আপনি ত্রিলোকের সুখ প্রদানকারী, বিশ্বেশ্বর, পুরুষোত্তম। আমার একটি সংশয় আছে। অগ্রহায়ণ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশীর নাম কী, বিধিই বা কী এবং কোন দেবতা এই একাদশীতে পূজিত হন, তা আমাকে বলুন।''
শ্রীকৃষ্ণ বললেন, "হে মহারাজ! আপনি উত্তম প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেছেন, যার মাধ্যমে আপনার যশ চতুর্দিকে বিস্তৃত হবে। এখন এই একাদশীর কথা বর্ণনা করছি যা শোনামাত্রেই বাজপেয় যজ্ঞের ফল লাভ হয়।
অগ্রহায়ণ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী 'মোক্ষদা' নামে পরিচিত। সর্বপাপবিনাশিনী ও ব্রত মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠা এই একাদশীর দেবতা শ্রী দামোদর। তুলসী, তুলসী মঞ্জরী, ধূপ, দীপ ইত্যাদি উপচারে শাস্ত্রবিধি অনুসারে শ্রী দামোদরের পূজা করতে হবে। পূর্ববর্ণিত বিধি অনুসারে দশমী ও একাদশী পালন করতে হবে। এই উপবাস দিনে স্তব-স্তুতি, নৃত্য-গীত আদি সহ রাত্রি জাগরণ করা কর্তব্য।
হে মহারাজ! প্রসঙ্গক্রমে একটি অলৌকিক কাহিনী আমি বলছি। মনোযোগ দিয়ে এই ইতিহাস শ্রবণ মাত্রই সর্বপাপ ক্ষয় হয়। যে পিতৃপুরুষেরা নিজ নিজ পাপে অধঃযোনি প্রাপ্ত হয়েছে, এই ব্রত পালনের পুণ্যফল বিন্দুমাত্র তাদেরকে দান করলে তারাও মুক্তিলাভের যোগ্য হন। কোন এক সময় মনোরম চম্পক নগরে বৈখানস নামে এক রাজা ছিলেন। তিনি ছিলেন সমস্ত বৈষ্ণব সদ্গুণে বিভূষিত। প্রজাদের তিনি পুত্রের মতো পালন করতেন। তার রাজ্যে বহু বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণ বাস করতেন। রাজ্যের সকলেই ছিল বেশ সমৃদ্ধশালী। একবার রাজা স্বপ্নে দেখলেন যে তার পিতা নরকে পতিত হয়েছেন। তা দেখে তিনি অত্যন্ত বিস্মিত হলেন। পরদিন ব্রাহ্মণদের ডেকে বলতে লাগলেন, "হে ব্রাহ্মণগণ! গতরাত্রিতে স্বপ্নে নরকযাতনায় পিতাকে কষ্ট পেতে দেখে আমার হৃদয় বিদীর্ণ হচ্ছে। তিনি আমাকে লক্ষ্য করে বলতে লাগলেন, 'হে পুত্র! তুমি আমাকে নরকসমুদ্র থেকে উদ্ধার কর।' তার সেই অবস্থা দেখে আমার অন্তরে সুখ নেই। আমার এই বিশাল রাজ্য, স্ত্রী-পুত্র, কিছুতেই আমি শান্তি পাচ্ছি না। কী করি, কোথায় যাই কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। আমার পূর্বপুরুষেরা মুক্তিলাভ করতে পারেন এমন কোন পুণ্য ব্রত, তপস্যা ও যোগের কথা আমাকে উপদেশ করুন। আমি তা অনুষ্ঠান করব। আমার মতো পুত্র বর্তমান থাকা সত্ত্বেও যদি পিতা-মাতা, পূর্বপুরুষেরা নরক যাতনা ভোগ করতে থাকেন, তবে সে পুত্রের কী প্রয়োজন?''
ব্রাহ্মণগণ বললেন, "হে মহারাজ! আপনার রাজ্যের কাছেই মহর্ষি পর্বত মুনির আশ্রম রয়েছে। তিনি ত্রিকালজ্ঞ। তাঁর কাছে আপনার মুক্তির উপায় জানতে পারবেন।" ব্রাহ্মণদের উপদেশ শ্রবণ করে মহাত্মা বৈখানস তাঁদের সঙ্গে নিয়ে সেই পর্বত মুনির আশ্রমে গমন করলেন। তাঁরা দূর থেকে ঋষিবরকে সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করে তাঁর কাছে গেলেন। মুনিবর রাজার কুশলবার্তা জিজ্ঞাসা করলেন। রাজা বললেন, "হে প্রভু! আপনার কৃপায় আমার সবই কুশল। তবে আমি একদিন স্বপ্নযোগে পিতার নরক যাতনা ভোগ ও কাতর আর্তনাদ শুনে অত্যন্ত দুঃখিত ও চিন্তাগ্রস্ত হয়েছি। হে ঋষিবর! কোন পুণ্যের ফলে তিনি সেই দুর্দশা থেকে মুক্তি পাবেন, তার উপায় জানতেই আপনার শরণাগত হয়েছি।"
রাজার কথা শুনে পর্বত মুনি কিছুক্ষণ ধ্যানস্থ হয়ে বললেন, "হে মহারাজ! পূর্বজন্মে তোমার পিতা অত্যন্ত কামাচারী হওয়ায় তার এরকম অধোগতি লাভ হয়েছে। এখন এই পাপ থেকে মুক্তির উপায় বর্ণনা করছি অগ্রহায়ণ মাসের শুক্লপক্ষের মোক্ষদা একাদশী পালন করে সেই পুণ্যফল পিতাকে প্রদান কর। সেই পুণ্য প্রভাবে তোমার পিতার মুক্তি লাভ হবে।"
মুনির কথা শুনে রাজা নিজের প্রাসাদে ফিরে এলেন। সেই পবিত্র তিথির আবির্ভাবে তিনি স্ত্রী-পুত্রাদিসহ যথাবিধি মোক্ষদা একাদশী ব্রত পালন করলেন। ব্রতের পুণ্যফল পিতার উদ্দেশ্যে প্রদান করলেন। ঐ পুণ্যফল দানের সঙ্গে সঙ্গে আকাশ থেকে পুষ্পবৃষ্টি হতে লাগল। 'হে পুত্র! তোমার মঙ্গল হোক।' এই বলতে বলতে বৈখানস রাজার পিতা নরক হতে মুক্ত হয়ে স্বর্গে গমন করলেন।
হে মহারাজ যুধিষ্ঠির! যে ব্যক্তি এই মঙ্গলদায়িনী মোক্ষদা একাদশী ব্রত পালন করে, তার সমস্ত পাপ বিনষ্ট হয় এবং মৃত্যুর পরে মুক্তি লাভ করে। এই ব্রতের পুণ্য সংখ্যা আমিও জানিনা। চিন্তামণির মতো এই ব্রত আমার অত্যন্ত প্রিয়। এই ব্রতকথা যিনি পাঠ করেন এবং যিনি শ্রবণ করেন, উভয়েই বাজপেয় যজ্ঞের ফল প্রাপ্ত হন।"
7 months ago | [YT] | 13
View 0 replies
Load more