*হে বীর ক্ষমা করো* (ক্ষুদিরামের আত্মবলিদান দিবস ও আমরা)
কলমে: শুভব্রত মহারাজ
হে বীর তুমি ক্ষমা করো আমাদের। তুমি যে ভারতমাতাকে আমাদের হাতে তুলে দিয়ে গিয়েছিলে সেই ভারতমাতাকে কতটা ভালো রাখতে পেরেছি সেটা কি তুমি দেখবে না?? স্বাধীনতার মূল্য বুঝিনি অথচ স্বাধীন হয়ে গেছি। তাই সেই স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারিনি। হে বীর ক্ষমা করো। তাজা তাজা রক্তের ও জীবনের বিনিময়ে স্বাধীনতা এসেছে কিন্ত তোমাদের এই আত্মত্যাগের কথা আমরা মনে রাখিনি। হে বীর ক্ষমা করো। তোমরাও তো পারতে নিজেদের মেধার বিনিময়ে টাকা, গাড়ি, বাড়ি, স্ত্রী পুত্র নিয়ে সুখের বিলাসিতার জীবন যাপন করতে। না তা তোমরা করোনি। বদলে দেশমাতার কান্না তোমাদের কানে প্রাণে লেগেছিল। তাই তোমরা নিজেদের ব্যাক্তিগত স্বার্থ সুখ একবিন্দু চিন্তা না করে জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছিলে। কাদের জন্য? শুধু আমাদের জন্য। কিন্ত বর্তমানে আমরা যেভাবে জীবন যাপন করছি তাতে মনে হয় না আমরা তোমাদের এই স্বার্থত্যাগ মনে রেখেছি। হে বীর ক্ষমা করো আমাদের। এই ভারতে আমরা শিক্ষিত হয়েও দূর্নীতিগ্রস্থ। চাকরি পাওয়ার জন্য ঘুষ দিতে রাজী ও ঘুষ নেয়ার জন্যও চরিত্রহীন ক্ষমতালোভীরা বাধ্য করে থাকে। হে বীর ক্ষমা করো। শিক্ষক, ডাক্তার, অধ্যাপক, ইঞ্জিনিয়ার, শিল্পী, ব্যবসায়ী প্রায় সকলেই আদর্শকে ছেড়ে কেমন যেন সীমাহীন লোভ ও অর্থের পিছনে ছুটছে। হে বীর ক্ষমা করো। মহৎ হওয়া নয়, সুখী হওয়াকে জীবনের লক্ষ্য ভেবে নিয়েছি আমরা তা সে সৎ বা অসৎ যেকোনো ভাবেই হোক না কেন । হে বীর ক্ষমা করো। মেধাবী ছেলে মেয়েরা character নয়, শুধু carrier নিয়েই ব্যস্ত। মূল্যবোধ শিকেই তুলে দিয়েছে। কি পেলাম এই ভাবনা। কি দিলাম এইটা নিয়ে ভাবনা নেই। ক্ষমা করো বীর। কেমন সব গোল্ডেন বয় ও গোল্ডেন গার্ল ছিলেন আপনারা - আপনি, সুভাষ, বিনয় -বাদল -দীনেশ, ভগৎ সিং, কানাইলাল, অরবিন্দ, রাজগুরু, শুকদেব, যতীন দাস, হেমচন্দ্র, প্রীতিলতা, মাতঙ্গিনী প্রমুখ। কাকে ছেড়ে কার কথা বলবো। আরো কত হীরের টুকরো সন্তান। যথার্থ দেশপ্রেমিক। যথার্থ বীর। আর আমরা কাপুরুষ, লোভী, বিলাষী, স্বার্থপর, আদর্শহীন, দুর্নীতিগ্রস্থ, অসৎ, উদাসীন। হ্যাঁ ব্যাতিক্রম অবশ্যই আছেন। হ্যাঁ তারাই তো যথার্থ উত্তরাধিকার আপনাদের। হে বীর ক্ষুদিরাম আপনি আমাদের নিজ গুনে ক্ষমা করে দিন। ব্যতিক্রমীরা আপনাকে কোটি কোটি প্রণাম জানাই আপনার জন্মদিনে। আপনারা না থাকলে আমরা স্বাধীনতার আকাশ দেখতে পেতাম না। আপনি আমাদের আশীর্বাদ করুন আমরা যেন এই কাপুরুষতা, লোভ, হিংসা, উদাসীনতা, আদর্শহীনতা থেকে মুক্ত হয়ে প্রকৃত মানুষ হয়ে প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ গ্রহন করতে পারি ও আপনারা যে ভারতমাতাকে আমাদের হাতে দিয়ে গেছেন তার যথার্থ মর্যাদা রক্ষা করতে পারি আমাদের চরিত্র গঠনের মধ্যে দিয়ে। জয় ভারতমাতা। জয় ক্ষুদিরাম।
স্বামীজিকে আমরা বেশিরভাগই মনে হয় ঠিকঠাক বুঝে উঠতে পারিনি। স্বামীজী *Cyclonic Hindu Monk* হিসাবে জগতের সামনে মহান সনাতন ধর্ম অর্থাৎ হিন্দুধর্মকে বিজয়ীর আসনে বসিয়ে দিয়েছিলেন। সকল ধর্মকে শ্রদ্ধা জানানোর অর্থ নিজের ধর্মকে অবহেলা করা নয়। স্বধর্ম পালন শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা নির্দেশ করেছে। স্বামীজী সকল ধর্মকে শ্রদ্ধা করলেও হিন্দু ধর্মকে মাতৃজ্ঞানে শ্রদ্ধা করতেন। গীতা- গঙ্গা-গুরু- মাতৃভূমি তাঁর প্রাণ ছিল। যারা স্বামীজীর শিকাগো বক্তৃতা পড়েছেন তারা বুঝতে পারবেন। স্বামীজী হিন্দুধর্মের জয়গান করেছেন কারণ একমাত্র এই হিন্দু জাতিই সকল জাতিকে বিনা শর্তে বিনা স্বার্থে আশ্রয় দিয়েছে। ঠকেছে তবুও ভালোবাসতে ছাড়েনি। সবচেয়ে বেশী অবতার ও মহাপুরুষ হিন্দু জাতিই জগৎকে দান করেছে। হিন্দু কোনো বিশেষ ব্যক্তির সৃষ্ট মত নয় বরং হিন্দু হচ্ছে ঋষি মুনি দের শাশ্বত সনাতন মুক্ত এক জীবন দর্শন। সত্য, পবিত্রতা, ক্ষমা, দয়া, নিঃস্বার্থতা, ভালোবাসা, অহিংসা ইত্যাদি মানবিক ও দৈব গুণগুলির পরিপোষক ও ধারক-বাহক। একজন প্রকৃত হিন্দু একজন প্রকৃত মানুষ। মনুষ্যত্ত্ব যার আছে সেইই মানুষ। আর যার মনুষ্যত্ত্বই নেই সে না হিন্দু না মুসলিম না খ্রিস্টান না বৌদ্ধ না অন্য কিছু। তাই আজ জগতের কল্যাণের জন্য এই উদার শাশ্বত হিন্দু ধর্মকে সসম্মানে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। গাছের গোড়াতে জল দিলে তবেই গাছ বড় হয় ঠিকঠাক।
আহা! কি মধুর মিষ্টি অমৃত তোমার নাম। *রামকৃষ্ণ রামকৃষ্ণ রামকৃষ্ণ রামকৃষ্ণ* *এই একটি নামের মধ্যেই সর্ব দেবদেবীর নামের ফল লুকিয়ে আছে*। সর্ব দেবদেবীস্বরূপায় শ্রীরামকৃষ্ণ। এবারে মহা আবির্ভাব। এরকম পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম। এক একজন অবতার যুগ প্রয়োজনে এক একটি ভাবের ওপর সাধন করেছিলেন। কিন্তু শ্রীরামকৃষ্ণ এবারে একাধারে একজীবনে সব ধর্ম সব ভাব একসাথে সাধন করে গেলেন। হিন্দু, ইসলাম, খ্রিস্টান, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন ইত্যাদি সকল মতে সাধন করলেন। শাক্ত, বৈষ্ণব, সাকার, নিরাকার, দ্বৈত, অদ্বৈত এরকম প্রায় সব ভাবে তিনি সাধন করলেন। সিদ্ধান্তে এলেন যত মত তত পথ। সকল পথ দিয়েই ভগবানকে পাওয়া যায়। কেই কারোর থেকে বড় বা ছোট নয়। সব মত বিরোধের অবসান করে দিলেন। অপূর্ব এই আবিষ্কার। কি অপূর্ব মহাজীবন। কি অপূর্ব সমন্বয়। তাই স্বামীজী তাঁকে " অবতার বরিষ্ঠ" বললেন। কাউকে ছোট করার জন্য বলেননি। আসলে এবারে ভগবানের লীলা সব বারের লীলাকে ছাপিয়ে গেছে। জ্ঞান ভক্তি যোগ কর্ম সব পথ খুলে দেয়া হয়েছে। যে যে পথের উপযুক্ত সে সেইভাবেই ভগবানকে পাবে। 1. *রামকৃষ্ণ নাম করলে রাম নামের ফল পাওয়া যায়* কারণ রাম নামটি এখানে আছে। পুঁথিতে আছে, " *আমি সেই রঘুবীর*..." (আরো অজস্র উদাহরণ আছে) 2. *রামকৃষ্ণ নামটি করলে কৃষ্ণ নামের ফলও পাওয়া যায়* কারণ কৃষ্ণ কথাটিও এখানে আছে। নিজমুখেই বলেছেন, *"যে রাম যে কৃষ্ণ সেইই ইদানিং এই শরীরে রামকৃষ্ণ*..." ( আরো অজস্র উদাহরণ আছে) 3. *রামকৃষ্ণ* নামের যে অপূর্ব মধুমাখা ফল সেটিও পাওয়া যায়।ভাবলেই আনন্দ হয়। কি অপূর্ব নাম নিয়ে প্রভু এসেছেন। (আরো অজস্র উদাহরণ আছে) 4. *মহা পবিত্র হরিনাম করলে যে ফল সেটিও এই রামকৃষ্ণ নামেই* নিহিত আছে কারণ হরি আর কেউ নন স্বয়ং শ্রীরামকৃষ্ণ যিনি গয়াতে নারায়ণ রূপ ধরে তাঁর পিতাকে বললেন, *" আমি তোমার পুত্র হয়ে আবির্ভুত হবো।"* সেই শঙ্খ চক্রগদাপদ্মধারী নারায়ণই শ্রীরামকৃষ্ণ। (আরো অজস্র উদাহরণ আছে) 5. *রামকৃষ্ণ নাম করলে শিব নামেরও ফল লাভ হয়ে থাকে*। কারণ শ্রীরামকৃষ্ণ হচ্ছেন স্বয়ং সাক্ষাৎ শিব। জীবনীতে আছে, যুগিদের শিব মন্দিরের শিব লিঙ্গ থেকে জ্যোতি বেরিয়ে এসে মাতা চন্দ্রমণি দেবীর গর্ভে প্রবেশ করেছিল। তারপরে জন্ম হয় শ্রীরামকৃষ্ণের। ( আরো অজস্র উদাহরণ আছে) 6. *রামকৃষ্ণ নাম করলে কালী নামেরও ফল পাওয়া যায়*। কারণ কালী আর কেউ নন স্বয়ং শ্রীরামকৃষ্ণ। তিনি নিজেই বলেছেন, *"আমি ও আমার মা এক*।" আবার শ্রীমা নিজে ঠাকুরকে কালী বলে ডাকতেন। মথুরবাবু সাদা চোখে দর্শন করেন ঠাকুর একদিকে যাচ্ছেন তখন কালী আবার অন্যদিকে হাঁটছেন তখন শিব। ঠাকুর বলতেন, *"আমার ভিতরে মা কালী ও অন্য সব দেবতা আছে।"* ( আরো অজস্র উদাহরণ আছে) 7. *শ্রীরামকৃষ্ণকে স্মরণ করা মানে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেবকেই স্মরণ করা হলো। ঠাকুর একদিন পঞ্চবটিতে মাস্টার মশাইকে বলছেন, " *আমি, ক্রাইস্ট আর গৌরাঙ্গ একইজন*।" ভৈরবী ব্রাহ্মনী ঠাকুরকে অবতার বললেন ও মহাভাবের লক্ষণ দেখে শাস্ত্র প্রমান দিয়ে বললেন স্বয়ং গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু অবতরণ করেছেন। নিত্যানন্দের খোলে চৈতন্যের আবির্ভাব। (আরো অজস্র উদাহরণ আছে) 8. *শ্রীরামকৃষ্ণকে স্মরণ করকে জগন্নাথদেবকেই স্মরণ করা হয়।* শ্রীম পুরী যাবেন শুনে ঠাকুর একদিন তাঁকে বলছেন, " *আমিই পুরীর জগন্নাথ*।" পুরী গেলে তাঁর দেহ থাকবে না তাই তিনি পুরী গেলেন না। (আরো অজস্র উদাহরণ আছে) 9. *শ্রীরামকৃষ্ণই যে যীশুখ্রিস্ট* তারও প্রমান আছে। ঠাকুর মাস্টারকে একদিন বললেন, *"আমি আর ক্রাইস্ট একইজন।"* যীশুকে বলতেন ঋষিকৃষ্ণ। কাউকে কাউকে দেখে তিনি বলতেন তোমাকে ঋষি কৃষ্ণের দলে দেখেছিলাম। বাইবেলে যীশুর রূপের যে বর্ননা আছে তা ঠাকুর বাইবেল না পড়েই হুবুহু বলে দিয়েছিলেন। (আরো অজস্র উদাহরন আছে)
একজন মানুষের কাছে সবচেয়ে আনন্দের ডাক হচ্ছে "মা"। একজন শিশুর কাছেই মা ই পৃথিবী। সেই সন্তান যখন বড় হয় তাই তার প্রথম কর্তব্য সেই মাকে সব উপায়ে সুখে রাখা ভালো রাখা আনন্দে রাখা। যে মায়ের বুকভরা ভালোবাসায় সন্তান বড় হয়, সেই মা যাতে কোনোভাবে আঘাত না পায় সেটা সন্তানের অবশ্যই দেখা কর্তব্য। পৃথিবীর সবচেয়ে মিষ্টি শব্দ হলো মা। ছোট্ট এই শব্দের মধ্যে লুকিয়ে আছে শর্তহীন ভালোবাসা ও আব্দার। মা মানে নিশ্চিন্ত আশ্রয়। মায়ের কোল যেকোনো সন্তানের কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ শান্তির ঠিকানা। মাতৃহীন জীবন তো মরুভূমি। জাগতিক সব সম্পদ থাকলেও যদি মা না থাকে তো সব ফাঁকা। মা থাকলে আর স্বর্গ খুঁজতে যাওয়ার দরকার হয় না। ভগবান কতটা প্রেমময় সেটা বোঝানোর জন্য "মা" সৃষ্টি করেছেন। মা ডাকটা শুনলেই ভালোবাসা এমনিই তৈরি হয়ে যায়। এ যেন জন্মজন্মান্তরের সম্পর্ক। স্বয়ং ভগবানকে মা বলে ডাকতে সবচেয়ে মিষ্টি লাগে। ভগবানের মাতৃরূপ সেইজন্য ভারতবর্ষে সবচেয়ে আদরের স্থান। মা বড় আপনার। শাস্ত্রে আছে " মাতৃদেব ভব।" পৃথিবীর সকল মায়ের চরণে আমার প্রনাম। ভগবানের সাক্ষাৎ প্রতিমূর্তি মায়েরা ভালো থাকুন আনন্দে থাকুন শান্তিতে থাকুন।
*সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নারী ও সর্বশ্রেষ্ঠ আশ্রয়দাত্রী জননী শ্রীমা সারদাদেবীর উদ্দেশ্যে কোটি কোটি শ্রদ্ধাপূর্ন প্রণাম*
(আন্তজার্তিক নারী দিবসে শ্রদ্ধা)
মাতৃ স্মরণে শুভব্রত মহারাজ
হারিট শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ কৃপাপ্রার্থী সঙ্ঘ
*সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নারী ও সর্বশ্রেষ্ঠ মা হলেন "শ্রী শ্রী মা সারদাদেবী*।" একজন আদৰ্শ নারীর সব গুনগুলি মায়ের জীবনে প্রকাশিত হয়েছিল। গর্ভে সন্তান ধারণ না করেও কিভাবে তিনি হয়ে উঠলেন বিশ্বজননী তা আজ কারোরই অজানা নয়। *যে একবারও মায়ের কথা পড়েছে বা একবারও তাঁর ছবির দিকে দেখেছে মাতৃ অনুভূতি তার হবেই হবে।* স্বয়ং ভগবান নিজে এসেছেন। সাথে আমাদের জন্য একজন মা সাথে এনেছেন। *কেমন মা? বেদিতে বসে থাকা মা নয়, সন্তানের সুখ দুঃখের নিত্য সঙ্গী তিনি। কোনো কিছু তার চাহিদা নেই, শুধু একবার মা বলে ডাকলেই তিনি কোলে তুলে নেন নির্বিচারে। তবে সেটি আন্তরিক হতে হবে।* সন্তানের জন্য তিনি সব করতে পারেন। সৎ, অসৎ, সাধু, অসাধু সকলের তিনি মা। এমনকি ইতর জীবজন্তু, পাখি পক্ষীরও তিনি মা। কোনো কঠিন মন্ত্র বলে তাঁকে ডাকতে হয়না। *"মা " এই ডাকটি যদি হৃদয়ের অন্তর থেকে হয় তাহলেই মা সাড়া দেন।* সন্তানের ভার তিনি নিজেই নেন। রক্ষা করেন বিপদ থেকে। যেটি যার পক্ষে কল্যাণকর সেটি বলে দেন। সন্তান কিভাবে পবিত্র আধ্যাত্মিক জীবন যাপন করবে এই নিয়ে তাঁর ওহরহ চিন্তা। সন্তানের জন্য ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করেন তিনি। সন্তান তাকে ভুলে থাকলেও তিনি সন্তানকে একমুহূর্তও ভুলে থাকেন না। তিনি যে মা। তাঁর ওই 'বাবা ' ডাকে সন্তানের জন্য যে ভালোবাসা বিচ্ছুরিত হয় আজও সেই ডাক সৌভাগ্যবান সন্তানরা শুনতে পায়। *পৃথিবীর ইতিহাসে এমন মা কোথায় যিনি বলেন, " মনে ভাববে আর কেউ না থাক, আমার একজন মা আছেন।"*
এমন মায়ের কৃপা পাওয়াই মনুষ্যজন্মের প্রধান সার্থকতা।
*কেন বিবেকানন্দ পড়বো আমরা? বিবেকানন্দ পড়লে ও ঠিকঠিক অনুসরণ করলে কি হবে?* কলমে: শুভব্রত মহারাজ হারিট শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ কৃপাপ্রার্থী সঙ্ঘ হারিট, হুগলি
রোজ বিবেকানন্দ পড়ুন। একদিনও বাদ যেন না যায়। বিবেকানন্দ একজন মানুষ নন। বিবেকানন্দ হচ্ছে সম্পূর্ণ মানবদর্শন। বিবেকানন্দ হচ্ছে পূর্ন আদর্শ। একজন মানুষের পূর্ণতার নাম বিবেকানন্দ। একজন মানুষের জীবনে নীতি-সত্য-পবিত্রতা-নিঃস্বার্থতা-সংযম ইত্যাদি গুণগুলি জীবনে কিভাবে প্রকাশ করতে হয় সেটি বিবেকানন্দ পড়লে বোঝা যাবে। মানব জীবনের সব সমস্যার সহজ সমাধান হচ্ছে বিবেকানন্দ। বিবেকানন্দ না পড়লে রামকৃষ্ণ মিশনের আদর্শ ও কাজের ভাবধারা কিছুই বোঝা যাবে না। স্বামী সারদানন্দ মহারাজ বলতেন, "*স্বামীজীকে কেন্দ্র করে রামকৃষ্ণ মিশন তৈরি হয়েছে।" স্বয়ং ঠাকুর বলতেন, তিনি আর স্বামীজী অভেদ। বলেছিলেন, "*ওর(স্বামীজীর) জন্যই তো সব গা*।" শ্রীমা বলেছিলেন, "**যেখানে নরেনের পূজা হয় না সেখানে ঠাকুর পূজা নেন না*।"
বিবেকানন্দ পড়লে ও অনুসরণ করলে একজন গৃহস্থ আদর্শ গৃহস্থ হবে। একজন সাধু আদর্শ সাধু হবে। একজন ছাত্র আরো ভালো ছাত্র হবে। একজন শিক্ষক আরো ভালো শিক্ষক হবে। একজন মা-বাবা আরো ভালো মা-বাবা হবে। একজন ব্যবসায়ী আরো ভালো ব্যবসায়ী হবে। একজন কর্মচারী আরো ভালো কর্মচারী হবে। একজন রাজনীতিবিদ আরো ভালো রাজনীতিবিদ হবে। একজন ডাক্তার আরো ভালো ডাক্তার হবে। একজন ইঞ্জিনিয়ার আরো ভালো ইঞ্জিনিয়ার হবে। একজন কৃষক আরো ভালো কৃষক হবে। একজন শিল্পী আরো ভালো শিল্পী হবে। এককথায় বিবেকানন্দ হচ্ছে সম্পূর্ণ আদর্শ যা অনুসরণ করলে একজন প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠবে। সকল ধর্মের সকল জাতির সকল বর্ণের মানুষ বিবেকানন্দ-অনুসরণ করতে পারে। আজ আমাদের একটাই অভাব। প্রকৃত চরিত্রবান-হৃদয়বান-মনুষ্যত্ত্ববোধসম্পন্ন-নীতিবান-সৎ-নিঃস্বার্থপর-সংযমী-শ্রদ্ধাবান মানুষ। প্রকৃত মানুষ হওয়ার মধ্যেই সব সমস্যার সমাধান লুকিয়ে আছে। আসুন আমরা বিবেকানন্দ পড়ি-বিবেকানন্দ শুনি-বিবেকানন্দ অনুসরণ করি। বিবেকানন্দ সকলের। আসুন আমরা আগে নিজেরা অনুসরণ করি তারপরে অপরের সামনে যেই আদর্শ তুলে ধরি। নিজে মানুষ হবো ও অপরকে মানুষ হতে সাহায্য করবো। এই হোক আমাদের এই মহূর্তের একমাত্র সাধনা-তপস্যা-কর্তব্য-উপাসনা।
1. একজন আদর্শ ছাত্র সর্বদা ব্রহ্মচর্যব্রত পালন করে চলবে অর্থাৎ তার জীবন হবে কায়মনবাক্যে সংযমী। শরীরে সংযমী, মনে ও চিন্তায় সংযমী এবং বাক্যে সংযমী। 2. "ছাত্রানামাধ্যয়নং তপ" অর্থাৎ অধ্যয়নই একজন ছাত্রের তপস্যা। সাধনা জ্ঞানে পড়াশোনা করতে হবে। প্রতিটি সাবজেক্ট এর উপরে তার দক্ষতা থাকবে। প্রবল আত্মবিশ্বাস থাকবে । দক্ষতা র পরিশ্রম উভয়ই দরকার সাফল্যের জন্য। 3. একজন আদর্শ ছাত্রকে শুধু মেধাবী হলেই হবে না, হতে হবে হৃদয়বান, হতে হবে চরিত্রবান। 4. একজন আদর্শ ছাত্র শারীরিক ভাবে সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিত ব্যায়াম অনুশীলন করবে। 5. একজন আদর্শ ছাত্র সর্বদা নৈতিক হবে। কোনো অনৈতিক কাজ সে করবে না। 6. শিক্ষক শিক্ষিকাদের অন্তর থেকে শ্রদ্ধা করবে। কোনো অসৎ ব্যাবহার শিক্ষিকদের প্রতি সে করবে না। শিক্ষক শিক্ষিকাদের সে মাতা পিতা জ্ঞানে শ্রদ্ধা করবে। 7. পড়াশোনায় এমন আত্মবিশ্বাস থাকবে যে সে সর্বদা সর্বোচ্চ লক্ষ্যতে পৌঁছাতে সচেষ্ট থাকবে। 8. একজন আদর্শ ছাত্র সর্বদা সদচারী, শৃঙ্খলাপরায়ণ ও শিষ্টাচারী হবে। 9. একজন আদর্শ ছাত্রের লক্ষণই হবে সে কোনো অসৎ কাজের সাথে একমুহূর্ত যুক্ত থাকবে না। এমকনকি অসৎ সঙ্গ সে পরিত্যাগ করবে। 10. একজন আদর্শ ছাত্রের পড়াশোনা, খাওয়া, ঘুমানো, ব্যায়াম, খেলাধুলা, বেড়ানো ইত্যাদির নির্দিষ্ট টাইম থাকবে। সারাদিনের একটা সুন্দর রুটিন থাকবে। সুন্দর রুটিন তার ছাত্র জীবনকে আরো সুন্দর করে তুলবে ও সাফল্য এনে দেবে। 11. একজন আদর্শ ছাত্র পড়াশোনায় খুব একাগ্র হবে। তার জন্য দিনে অন্তত দুবার কমপক্ষে 5 মিনিট একাগ্রতা বা মনসংযোম অভ্যাস করবে। এতে সর্বকাজে সে অনেক বেশি শক্তি ও উৎসাহ অনুভৱ করবে। 12. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটা একজন আদর্শ ছাত্রের থাকবে সেটা হলো সে চরিত্রগঠনকারী শিক্ষা লাভ করার জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকবে। চরিত্র গঠনের জন্য একজন ছাত্রের স্বামী বিবেকানন্দের বইয়ের চেয়ে উৎকৃষ্ট বই আর দুটি নেই। নেতাজী সুভাষচন্দ্র বলেছিলেন, "চরিত্র গঠনের জন্য রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ সাহিত্য অপেক্ষা উৎকৃষ্ট সাহিত্য আমি কল্পনা করিতে পারিনা।" মানসিক, বৌদ্ধিক ও সর্বোপরি আধ্যাত্মিক বিকাশের জন্য একজন ছাত্র কে রোজ অন্তত 15 মিনিট বাধ্যতামূলক স্বামীজীর বই পড়তেই হবে। তবেই সে আদর্শ ছাত্র বরেলে বিবেচিত হবে। আর এটাও তাকে খেয়াল রাখতে হবে যা সে স্বামীজীর বইয়ে পড়ছে তা যেন সে জীবনে পালন করে তবেই হবে তার শিক্ষাজীবনের পূর্ণতা, সাফল্য ও যথার্থ জীবন গঠন। স্বামীজী বলতেন, মানুষ-তৈরিই তার ব্রত। তাই এমন এমন শিক্ষা লাভ করতে হবে যাতে প্রকৃত মনুষত্ব লাভ করা যায়। প্রকৃত মনুষত্ব লাভই শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য। তাই স্বামীজী বারবার "Man-Making education" এবং "Character-Building education" এর কথা বলতেন। 13. একজন আদর্শ ছাত্র বিদ্যালয় কে নিজের বাড়ি মনে করবে ও সেইমত যত্ন করবে। বিদ্যালয় হবে তার কাছে মন্দিরের মতো। 14. একজন আদর্শ ছাত্র তার মা বাবাকে দেবদেবী জ্ঞানে শ্রদ্ধা করবে। মা বাবা যে তার জন্য কত পরিশ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করছে তাকে পড়ানোর জন্য সেটা যেন সে সর্বদা মনে রাখে ও সেইরূপ শ্রদ্ধাশীল হয় ও আচরন করে। 15. একজন আদর্শ ছাত্র পড়াশোনায় অবশ্যই মেধাবী হবে, কিন্ত তার সাথে নিঃস্বার্থপরও হবে। অসহায় মানুষের সাহায্যের জন্য সদা প্রস্তুত থাকবে। মস্তিস্ক ও হৃদয়ের সমান বিকাশে সে হবে আদর্শ ছাত্র। 16. একজন আদর্শ ছাত্রের জীবন শুধু নিজের জন্যই নয় বরং সমাজেরও যাতে কিছু কল্যানকর কাজ করা যায় সেই দিকেও তার সজাগ দৃষ্টি থাকবে। স্বামীজী বলেছেন,"ত্যাগ ও সেবা ভারতের জাতীয় আদর্শ।"
* আদর্শ শিক্ষক কে????*
"অন্ধকারে যিনি আলো দেখান, হতাশায় যিনি আশা জাগান, মিস্টি শাসনে যাঁর অন্তরের ভালোবাসা থাকে, যিনি ছাত্র বা ছাত্রীর অবস্থায় নিজেকে অনুভব করে সেখান থেকে তাদের উঁচুতে উঠতে সাহায্য করেন, যিনি ছাত্রের সহস্র প্রশ্নেও এতটুকু ক্রোধ প্রকাশ করেন না বরং তাকে সহানুভুতির সঙ্গে বুঝিয়ে দিতে চেষ্টা করেন, যিনি ছাত্রের মধ্যে বিষয়ের প্রতি উৎসাহের মধ্যে দিয়ে ভালোবাসা বাড়িয়ে দেন, যিনি সর্বদা বন্ধুর মতো পাশে থাকেন, পিতার মত গাইড করেন, মায়ের মত শর্তহীনভাবে ভালোবাসেন, যিনি শেখান শুধু অর্থ রোজগার নয়, তার সাথে চরিত্র অর্জন করাই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য এবং যিনি জীবনের মূল লক্ষ্যের দিকে তাকে এগিয়ে যেতে নিজের এক আদর্শ জীবন সামনে উপস্থাপন করেন তিনিই হচ্ছেন প্রকৃত শিক্ষক বা শিক্ষিকা।"
1. ঠাকুর-মা-স্বামীজিকে যথার্থ যিনি অনুসরণ করবেন তার জীবন হবে *সৎ ও পবিত্র*। 2. *সংযমের জীবন হবে*। কোনো অবস্থাতেই তিনি লোভ বা কামনার বশবর্তী হয়ে সততা বিসর্জন দেবেন না। 3. তিনি *নিঃস্বার্থপর* হবেন। স্বামীজী বলছেন, "পবিত্র ও নিঃস্বার্থ হতে চেষ্টা করো তার মধ্যেই সমস্ত ধর্ম।" 4. তিনি মনুষ্যত্ববোধে পরিপূর্ণ হবেন। মানবিক হবেন। স্বামীজী বলছেন,"এসো মানুষ হও " অর্থাৎ *প্রকৃত মানুষ* হতে হবে। 5. তার মধ্যে থাকবে *প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস ও সাথে ঈশ্বরে বিশ্বাস*। 6. তিনি *অবশ্যই চরিত্রবান হবেন*। স্বামীজী বলছেন, "মনে রাখবে, ব্যাক্তিগত চরিত্র ও জীবনই শক্তির উৎস অন্য কিছু নয়।" 7. তিনি হবেন *খুব শ্রদ্ধাশীল*। 8. সকলকে নিয়ে মিলেমিশে কাজ করার যোগ্যতা থাকতে হবে। 9. তিনি হবেন *অকপট*। কোনো রকম ছল বা শঠতা তার মধ্যে থাকবে না। 10. তিনি হবেন *সাহসী ও সহানুভুতিসম্পন্ন*। খুব *উদ্যমী* হবেন। I 11. *মাতৃজাতীর প্রতি তার থাকবে বিনম্র শ্রদ্ধা*। মেয়েদের সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। মেয়েদের ঈশ্বরজ্ঞানে দেবীজ্ঞানে শ্রদ্ধা করতে হবে। শুধু তাই নয় মেয়েদের উন্নতির জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব নিতে হবে। স্বামীজী বলেছেন,"মেয়েদের নিচে ফেলে কেউ উঠতে পারে না।" তিনি আরো বলেছেন," যেখানে স্ত্রী লোকের আদর নেই, স্ত্রীলোকেরা নিরানন্দে অবস্থান করে, সে-সংসারের সে-দেশের উন্নতির কখনো আশা নেই।" 12. তিনি *সত্যকে সর্বদা ধরে থাকবেন*। কোনো অবস্থাতেই তিনি সত্যকে ছাড়বেন না। তিনি সত্যবাদী হবেন। স্বামীজী বলছেন,"সত্যের জন্য সবকিছুকেই ত্যাগ করা চলে কিন্ত কোনো কিছুর জন্য সত্যকে ত্যাগ করা চলে না।" 13. তিনি *সরল* হবেন। সরল নাহলে তিনি কখনো যথার্থ আধ্যাত্মিক হতে পারবেন না। 14. তিনি সর্বদা *নিজের লক্ষ্যে দৃঢ় ও অবিচল* থাকবেন। 15. তিনি *নাম যশ ও প্রভুত্বস্পৃহা বিসর্জন দেবেন* ও কাজ করবেন। 16. *তিনি সর্বদা দীন দরিদ্র অসহায় মানুষের সাহায্যের জন্য এগিয়ে যাবেন। তাদের দেবতাজ্ঞানে সেবা করবেন*। 17. তিনি তার *মাতা পিতাকে দেবদেবী জ্ঞানে সেবা করবেন ও শ্রদ্ধা* করবেন। 18. তিনি *প্রকৃত শিক্ষিত হবেন ও ওপরের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা* করবেন। 19. তিনি *সমদর্শী* হবেন। সকলের ওপর তার সমান ভালোবাসা থাকবে। তিনি সকলকে ভালবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করবেন। 20. তিনি *নিজে আদর্শ জীবন যাপন করবেন* ও *অপরকে উৎসাহ দেবেন নৈতিক আদর্শ জীবন যাপনের জন্য*। তার জীবনই হবে সকলের কাছে উদাহরণস্বরূপ।
আরও আছে। মোটামুটি এই লক্ষণগুলি বা সদগুনগুলিকে যদি জীবনে ফুটিয়ে তোলা যায় তবেই হবে ঠাকুর-মা-স্বামীজীকে যথার্থ অনুসরণ। এইগুলি যে পুরুষ বা নারীর মধ্যে প্রকাশ হতে শুরু করেছে বা অনুশীলন করছেন তাকেই বলা যাবে প্রকৃত *রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ অনুরাগী*। তিনি একজন সাধু হতে পারেন। তিনি শিক্ষক বা শিক্ষিকা হতে পারেন, ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে পারেন, তিনি একজন ছাত্র বা ছাত্রী হতে পারেন, তিনি একজন অফিসার বা সাধারণ কর্মী হতে পারেন, বা তিনি একজন ব্যবসাদারও হতে পারেন।
Swami Basudevananda
"They alone live who live for others."
1 year ago | [YT] | 64
View 5 replies
Swami Basudevananda
"স্বার্থহীন প্রেম যে সম্বল...
1 year ago | [YT] | 60
View 10 replies
Swami Basudevananda
*হে বীর ক্ষমা করো*
(ক্ষুদিরামের আত্মবলিদান দিবস ও আমরা)
কলমে: শুভব্রত মহারাজ
হে বীর তুমি ক্ষমা করো আমাদের। তুমি যে ভারতমাতাকে আমাদের হাতে তুলে দিয়ে গিয়েছিলে সেই ভারতমাতাকে কতটা ভালো রাখতে পেরেছি সেটা কি তুমি দেখবে না??
স্বাধীনতার মূল্য বুঝিনি অথচ স্বাধীন হয়ে গেছি। তাই সেই স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারিনি। হে বীর ক্ষমা করো।
তাজা তাজা রক্তের ও জীবনের বিনিময়ে স্বাধীনতা এসেছে কিন্ত তোমাদের এই আত্মত্যাগের কথা আমরা মনে রাখিনি। হে বীর ক্ষমা করো।
তোমরাও তো পারতে নিজেদের মেধার বিনিময়ে টাকা, গাড়ি, বাড়ি, স্ত্রী পুত্র নিয়ে সুখের বিলাসিতার জীবন যাপন করতে। না তা তোমরা করোনি। বদলে দেশমাতার কান্না তোমাদের কানে প্রাণে লেগেছিল। তাই তোমরা নিজেদের ব্যাক্তিগত স্বার্থ সুখ একবিন্দু চিন্তা না করে জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছিলে। কাদের জন্য? শুধু আমাদের জন্য। কিন্ত বর্তমানে আমরা যেভাবে জীবন যাপন করছি তাতে মনে হয় না আমরা তোমাদের এই স্বার্থত্যাগ মনে রেখেছি। হে বীর ক্ষমা করো আমাদের।
এই ভারতে আমরা শিক্ষিত হয়েও দূর্নীতিগ্রস্থ। চাকরি পাওয়ার জন্য ঘুষ দিতে রাজী ও ঘুষ নেয়ার জন্যও চরিত্রহীন ক্ষমতালোভীরা বাধ্য করে থাকে। হে বীর ক্ষমা করো।
শিক্ষক, ডাক্তার, অধ্যাপক, ইঞ্জিনিয়ার, শিল্পী, ব্যবসায়ী প্রায় সকলেই আদর্শকে ছেড়ে কেমন যেন সীমাহীন লোভ ও অর্থের পিছনে ছুটছে। হে বীর ক্ষমা করো।
মহৎ হওয়া নয়, সুখী হওয়াকে জীবনের লক্ষ্য ভেবে নিয়েছি আমরা তা সে সৎ বা অসৎ যেকোনো ভাবেই হোক না কেন । হে বীর ক্ষমা করো।
মেধাবী ছেলে মেয়েরা character নয়, শুধু carrier নিয়েই ব্যস্ত। মূল্যবোধ শিকেই তুলে দিয়েছে। কি পেলাম এই ভাবনা। কি দিলাম এইটা নিয়ে ভাবনা নেই। ক্ষমা করো বীর।
কেমন সব গোল্ডেন বয় ও গোল্ডেন গার্ল ছিলেন আপনারা - আপনি, সুভাষ, বিনয় -বাদল -দীনেশ, ভগৎ সিং, কানাইলাল, অরবিন্দ, রাজগুরু, শুকদেব, যতীন দাস, হেমচন্দ্র, প্রীতিলতা, মাতঙ্গিনী প্রমুখ। কাকে ছেড়ে কার কথা বলবো। আরো কত হীরের টুকরো সন্তান। যথার্থ দেশপ্রেমিক। যথার্থ বীর।
আর আমরা কাপুরুষ, লোভী, বিলাষী, স্বার্থপর, আদর্শহীন, দুর্নীতিগ্রস্থ, অসৎ, উদাসীন। হ্যাঁ ব্যাতিক্রম অবশ্যই আছেন। হ্যাঁ তারাই তো যথার্থ উত্তরাধিকার আপনাদের।
হে বীর ক্ষুদিরাম আপনি আমাদের নিজ গুনে ক্ষমা করে দিন। ব্যতিক্রমীরা আপনাকে কোটি কোটি প্রণাম জানাই আপনার জন্মদিনে। আপনারা না থাকলে আমরা স্বাধীনতার আকাশ দেখতে পেতাম না। আপনি আমাদের আশীর্বাদ করুন আমরা যেন এই কাপুরুষতা, লোভ, হিংসা, উদাসীনতা, আদর্শহীনতা থেকে মুক্ত হয়ে প্রকৃত মানুষ হয়ে প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ গ্রহন করতে পারি ও আপনারা যে ভারতমাতাকে আমাদের হাতে দিয়ে গেছেন তার যথার্থ মর্যাদা রক্ষা করতে পারি আমাদের চরিত্র গঠনের মধ্যে দিয়ে। জয় ভারতমাতা। জয় ক্ষুদিরাম।
1 year ago | [YT] | 27
View 4 replies
Swami Basudevananda
*স্বামীজী চাইতেন আমরা যেন কর্মে ঘোর পাশ্চাত্য আর ধর্ম ও সাধনায় ঘোর হিন্দু(সনাতন) হই*
আলোচনায়: শুভব্রত মহারাজ
হারিট শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ কৃপাপ্রার্থী সঙ্ঘ
হারিট, হুগলী
স্বামীজিকে আমরা বেশিরভাগই মনে হয় ঠিকঠাক বুঝে উঠতে পারিনি।
স্বামীজী *Cyclonic Hindu Monk* হিসাবে জগতের সামনে মহান সনাতন ধর্ম অর্থাৎ হিন্দুধর্মকে বিজয়ীর আসনে বসিয়ে দিয়েছিলেন। সকল ধর্মকে শ্রদ্ধা জানানোর অর্থ নিজের ধর্মকে অবহেলা করা নয়। স্বধর্ম পালন শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা নির্দেশ করেছে। স্বামীজী সকল ধর্মকে শ্রদ্ধা করলেও হিন্দু ধর্মকে মাতৃজ্ঞানে শ্রদ্ধা করতেন। গীতা- গঙ্গা-গুরু- মাতৃভূমি তাঁর প্রাণ ছিল।
যারা স্বামীজীর শিকাগো বক্তৃতা পড়েছেন তারা বুঝতে পারবেন।
স্বামীজী হিন্দুধর্মের জয়গান করেছেন কারণ একমাত্র এই হিন্দু জাতিই সকল জাতিকে বিনা শর্তে বিনা স্বার্থে আশ্রয় দিয়েছে। ঠকেছে তবুও ভালোবাসতে ছাড়েনি। সবচেয়ে বেশী অবতার ও মহাপুরুষ হিন্দু জাতিই জগৎকে দান করেছে।
হিন্দু কোনো বিশেষ ব্যক্তির সৃষ্ট মত নয় বরং হিন্দু হচ্ছে ঋষি মুনি দের শাশ্বত সনাতন মুক্ত এক জীবন দর্শন। সত্য, পবিত্রতা, ক্ষমা, দয়া, নিঃস্বার্থতা, ভালোবাসা, অহিংসা ইত্যাদি মানবিক ও দৈব গুণগুলির পরিপোষক ও ধারক-বাহক।
একজন প্রকৃত হিন্দু একজন প্রকৃত মানুষ। মনুষ্যত্ত্ব যার আছে সেইই মানুষ। আর যার মনুষ্যত্ত্বই নেই সে না হিন্দু না মুসলিম না খ্রিস্টান না বৌদ্ধ না অন্য কিছু।
তাই আজ জগতের কল্যাণের জন্য এই উদার শাশ্বত হিন্দু ধর্মকে সসম্মানে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।
গাছের গোড়াতে জল দিলে তবেই গাছ বড় হয় ঠিকঠাক।
2 years ago | [YT] | 28
View 2 replies
Swami Basudevananda
*সর্বদেবদেবীস্বরূপ শ্রীরামকৃষ্ণ*: *এক নামে সর্বনামের ফললাভ*
কলমে: ব্রহ্মচারী শুভব্রত মহারাজ
হারিট শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ কৃপাপ্রার্থী সঙ্ঘ
হারিট, হুগলী
আহা! কি মধুর মিষ্টি অমৃত তোমার নাম।
*রামকৃষ্ণ রামকৃষ্ণ রামকৃষ্ণ রামকৃষ্ণ*
*এই একটি নামের মধ্যেই সর্ব দেবদেবীর নামের ফল লুকিয়ে আছে*। সর্ব দেবদেবীস্বরূপায় শ্রীরামকৃষ্ণ। এবারে মহা আবির্ভাব। এরকম পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম। এক একজন অবতার যুগ প্রয়োজনে এক একটি ভাবের ওপর সাধন করেছিলেন। কিন্তু শ্রীরামকৃষ্ণ এবারে একাধারে একজীবনে সব ধর্ম সব ভাব একসাথে সাধন করে গেলেন। হিন্দু, ইসলাম, খ্রিস্টান, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন ইত্যাদি সকল মতে সাধন করলেন। শাক্ত, বৈষ্ণব, সাকার, নিরাকার, দ্বৈত, অদ্বৈত এরকম প্রায় সব ভাবে তিনি সাধন করলেন। সিদ্ধান্তে এলেন যত মত তত পথ। সকল পথ দিয়েই ভগবানকে পাওয়া যায়। কেই কারোর থেকে বড় বা ছোট নয়। সব মত বিরোধের অবসান করে দিলেন। অপূর্ব এই আবিষ্কার। কি অপূর্ব মহাজীবন। কি অপূর্ব সমন্বয়। তাই স্বামীজী তাঁকে " অবতার বরিষ্ঠ" বললেন। কাউকে ছোট করার জন্য বলেননি। আসলে এবারে ভগবানের লীলা সব বারের লীলাকে ছাপিয়ে গেছে। জ্ঞান ভক্তি যোগ কর্ম সব পথ খুলে দেয়া হয়েছে। যে যে পথের উপযুক্ত সে সেইভাবেই ভগবানকে পাবে।
1. *রামকৃষ্ণ নাম করলে রাম নামের ফল পাওয়া যায়* কারণ রাম নামটি এখানে আছে। পুঁথিতে আছে, " *আমি সেই রঘুবীর*..." (আরো অজস্র উদাহরণ আছে)
2. *রামকৃষ্ণ নামটি করলে কৃষ্ণ নামের ফলও পাওয়া যায়* কারণ কৃষ্ণ কথাটিও এখানে আছে। নিজমুখেই বলেছেন, *"যে রাম যে কৃষ্ণ সেইই ইদানিং এই শরীরে রামকৃষ্ণ*..." ( আরো অজস্র উদাহরণ আছে)
3. *রামকৃষ্ণ* নামের যে অপূর্ব মধুমাখা ফল সেটিও পাওয়া যায়।ভাবলেই আনন্দ হয়। কি অপূর্ব নাম নিয়ে প্রভু এসেছেন। (আরো অজস্র উদাহরণ আছে)
4. *মহা পবিত্র হরিনাম করলে যে ফল সেটিও এই রামকৃষ্ণ নামেই* নিহিত আছে কারণ হরি আর কেউ নন স্বয়ং শ্রীরামকৃষ্ণ যিনি গয়াতে নারায়ণ রূপ ধরে তাঁর পিতাকে বললেন, *" আমি তোমার পুত্র হয়ে আবির্ভুত হবো।"* সেই শঙ্খ চক্রগদাপদ্মধারী নারায়ণই শ্রীরামকৃষ্ণ। (আরো অজস্র উদাহরণ আছে)
5. *রামকৃষ্ণ নাম করলে শিব নামেরও ফল লাভ হয়ে থাকে*। কারণ শ্রীরামকৃষ্ণ হচ্ছেন স্বয়ং সাক্ষাৎ শিব। জীবনীতে আছে, যুগিদের শিব মন্দিরের শিব লিঙ্গ থেকে জ্যোতি বেরিয়ে এসে মাতা চন্দ্রমণি দেবীর গর্ভে প্রবেশ করেছিল। তারপরে জন্ম হয় শ্রীরামকৃষ্ণের। ( আরো অজস্র উদাহরণ আছে)
6. *রামকৃষ্ণ নাম করলে কালী নামেরও ফল পাওয়া যায়*। কারণ কালী আর কেউ নন স্বয়ং শ্রীরামকৃষ্ণ। তিনি নিজেই বলেছেন, *"আমি ও আমার মা এক*।" আবার শ্রীমা নিজে ঠাকুরকে কালী বলে ডাকতেন। মথুরবাবু সাদা চোখে দর্শন করেন ঠাকুর একদিকে যাচ্ছেন তখন কালী আবার অন্যদিকে হাঁটছেন তখন শিব। ঠাকুর বলতেন, *"আমার ভিতরে মা কালী ও অন্য সব দেবতা আছে।"* ( আরো অজস্র উদাহরণ আছে)
7. *শ্রীরামকৃষ্ণকে স্মরণ করা মানে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেবকেই স্মরণ করা হলো। ঠাকুর একদিন পঞ্চবটিতে মাস্টার মশাইকে বলছেন, " *আমি, ক্রাইস্ট আর গৌরাঙ্গ একইজন*।" ভৈরবী ব্রাহ্মনী ঠাকুরকে অবতার বললেন ও মহাভাবের লক্ষণ দেখে শাস্ত্র প্রমান দিয়ে বললেন স্বয়ং গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু অবতরণ করেছেন। নিত্যানন্দের খোলে চৈতন্যের আবির্ভাব। (আরো অজস্র উদাহরণ আছে)
8. *শ্রীরামকৃষ্ণকে স্মরণ করকে জগন্নাথদেবকেই স্মরণ করা হয়।* শ্রীম পুরী যাবেন শুনে ঠাকুর একদিন তাঁকে বলছেন, " *আমিই পুরীর জগন্নাথ*।" পুরী গেলে তাঁর দেহ থাকবে না তাই তিনি পুরী গেলেন না। (আরো অজস্র উদাহরণ আছে)
9. *শ্রীরামকৃষ্ণই যে যীশুখ্রিস্ট* তারও প্রমান আছে। ঠাকুর মাস্টারকে একদিন বললেন, *"আমি আর ক্রাইস্ট একইজন।"* যীশুকে বলতেন ঋষিকৃষ্ণ। কাউকে কাউকে দেখে তিনি বলতেন তোমাকে ঋষি কৃষ্ণের দলে দেখেছিলাম। বাইবেলে যীশুর রূপের যে বর্ননা আছে তা ঠাকুর বাইবেল না পড়েই হুবুহু বলে দিয়েছিলেন।
(আরো অজস্র উদাহরন আছে)
2 years ago | [YT] | 21
View 6 replies
Swami Basudevananda
*মা*- এক পরম আনন্দময় অনুভূতি
(আন্তর্জাতিক মাতৃদিবসে নিবেদিত)
কলমে: শুভব্রত মহারাজ
হারিট শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ কৃপাপ্রার্থী সঙ্ঘ
একজন মানুষের কাছে সবচেয়ে আনন্দের ডাক হচ্ছে "মা"। একজন শিশুর কাছেই মা ই পৃথিবী। সেই সন্তান যখন বড় হয় তাই তার প্রথম কর্তব্য সেই মাকে সব উপায়ে সুখে রাখা ভালো রাখা আনন্দে রাখা। যে মায়ের বুকভরা ভালোবাসায় সন্তান বড় হয়, সেই মা যাতে কোনোভাবে আঘাত না পায় সেটা সন্তানের অবশ্যই দেখা কর্তব্য। পৃথিবীর সবচেয়ে মিষ্টি শব্দ হলো মা। ছোট্ট এই শব্দের মধ্যে লুকিয়ে আছে শর্তহীন ভালোবাসা ও আব্দার। মা মানে নিশ্চিন্ত আশ্রয়। মায়ের কোল যেকোনো সন্তানের কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ শান্তির ঠিকানা। মাতৃহীন জীবন তো মরুভূমি। জাগতিক সব সম্পদ থাকলেও যদি মা না থাকে তো সব ফাঁকা। মা থাকলে আর স্বর্গ খুঁজতে যাওয়ার দরকার হয় না। ভগবান কতটা প্রেমময় সেটা বোঝানোর জন্য "মা" সৃষ্টি করেছেন। মা ডাকটা শুনলেই ভালোবাসা এমনিই তৈরি হয়ে যায়। এ যেন জন্মজন্মান্তরের সম্পর্ক। স্বয়ং ভগবানকে মা বলে ডাকতে সবচেয়ে মিষ্টি লাগে। ভগবানের মাতৃরূপ সেইজন্য ভারতবর্ষে সবচেয়ে আদরের স্থান। মা বড় আপনার। শাস্ত্রে আছে " মাতৃদেব ভব।"
পৃথিবীর সকল মায়ের চরণে আমার প্রনাম। ভগবানের সাক্ষাৎ প্রতিমূর্তি মায়েরা ভালো থাকুন আনন্দে থাকুন শান্তিতে থাকুন।
2 years ago | [YT] | 17
View 0 replies
Swami Basudevananda
*সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নারী ও সর্বশ্রেষ্ঠ আশ্রয়দাত্রী জননী শ্রীমা সারদাদেবীর উদ্দেশ্যে কোটি কোটি শ্রদ্ধাপূর্ন প্রণাম*
(আন্তজার্তিক নারী দিবসে শ্রদ্ধা)
মাতৃ স্মরণে শুভব্রত মহারাজ
হারিট শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ কৃপাপ্রার্থী সঙ্ঘ
*সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নারী ও সর্বশ্রেষ্ঠ মা হলেন "শ্রী শ্রী মা সারদাদেবী*।" একজন আদৰ্শ নারীর সব গুনগুলি মায়ের জীবনে প্রকাশিত হয়েছিল।
গর্ভে সন্তান ধারণ না করেও কিভাবে তিনি হয়ে উঠলেন বিশ্বজননী তা আজ কারোরই অজানা নয়। *যে একবারও মায়ের কথা পড়েছে বা একবারও তাঁর ছবির দিকে দেখেছে মাতৃ অনুভূতি তার হবেই হবে।*
স্বয়ং ভগবান নিজে এসেছেন। সাথে আমাদের জন্য একজন মা সাথে এনেছেন। *কেমন মা? বেদিতে বসে থাকা মা নয়, সন্তানের সুখ দুঃখের নিত্য সঙ্গী তিনি। কোনো কিছু তার চাহিদা নেই, শুধু একবার মা বলে ডাকলেই তিনি কোলে তুলে নেন নির্বিচারে। তবে সেটি আন্তরিক হতে হবে।* সন্তানের জন্য তিনি সব করতে পারেন। সৎ, অসৎ, সাধু, অসাধু সকলের তিনি মা। এমনকি ইতর জীবজন্তু, পাখি পক্ষীরও তিনি মা। কোনো কঠিন মন্ত্র বলে তাঁকে ডাকতে হয়না। *"মা " এই ডাকটি যদি হৃদয়ের অন্তর থেকে হয় তাহলেই মা সাড়া দেন।* সন্তানের ভার তিনি নিজেই নেন। রক্ষা করেন বিপদ থেকে। যেটি যার পক্ষে কল্যাণকর সেটি বলে দেন।
সন্তান কিভাবে পবিত্র আধ্যাত্মিক জীবন যাপন করবে এই নিয়ে তাঁর ওহরহ চিন্তা।
সন্তানের জন্য ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করেন তিনি। সন্তান তাকে ভুলে থাকলেও তিনি সন্তানকে একমুহূর্তও ভুলে থাকেন না। তিনি যে মা। তাঁর ওই 'বাবা ' ডাকে সন্তানের জন্য যে ভালোবাসা বিচ্ছুরিত হয় আজও সেই ডাক সৌভাগ্যবান সন্তানরা শুনতে পায়।
*পৃথিবীর ইতিহাসে এমন মা কোথায় যিনি বলেন, " মনে ভাববে আর কেউ না থাক, আমার একজন মা আছেন।"*
এমন মায়ের কৃপা পাওয়াই মনুষ্যজন্মের প্রধান সার্থকতা।
2 years ago | [YT] | 24
View 1 reply
Swami Basudevananda
*কেন বিবেকানন্দ পড়বো আমরা? বিবেকানন্দ পড়লে ও ঠিকঠিক অনুসরণ করলে কি হবে?*
কলমে: শুভব্রত মহারাজ
হারিট শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ কৃপাপ্রার্থী সঙ্ঘ
হারিট, হুগলি
রোজ বিবেকানন্দ পড়ুন। একদিনও বাদ যেন না যায়। বিবেকানন্দ একজন মানুষ নন। বিবেকানন্দ হচ্ছে সম্পূর্ণ মানবদর্শন। বিবেকানন্দ হচ্ছে পূর্ন আদর্শ। একজন মানুষের পূর্ণতার নাম বিবেকানন্দ। একজন মানুষের জীবনে নীতি-সত্য-পবিত্রতা-নিঃস্বার্থতা-সংযম ইত্যাদি গুণগুলি জীবনে কিভাবে প্রকাশ করতে হয় সেটি বিবেকানন্দ পড়লে বোঝা যাবে।
মানব জীবনের সব সমস্যার সহজ সমাধান হচ্ছে বিবেকানন্দ। বিবেকানন্দ না পড়লে রামকৃষ্ণ মিশনের আদর্শ ও কাজের ভাবধারা কিছুই বোঝা যাবে না। স্বামী সারদানন্দ মহারাজ বলতেন, "*স্বামীজীকে কেন্দ্র করে রামকৃষ্ণ মিশন তৈরি হয়েছে।" স্বয়ং ঠাকুর বলতেন, তিনি আর স্বামীজী অভেদ। বলেছিলেন, "*ওর(স্বামীজীর) জন্যই তো সব গা*।" শ্রীমা বলেছিলেন, "**যেখানে নরেনের পূজা হয় না সেখানে ঠাকুর পূজা নেন না*।"
বিবেকানন্দ পড়লে ও অনুসরণ করলে একজন গৃহস্থ আদর্শ গৃহস্থ হবে। একজন সাধু আদর্শ সাধু হবে।
একজন ছাত্র আরো ভালো ছাত্র হবে। একজন শিক্ষক আরো ভালো শিক্ষক হবে। একজন মা-বাবা আরো ভালো মা-বাবা হবে। একজন ব্যবসায়ী আরো ভালো ব্যবসায়ী হবে। একজন কর্মচারী আরো ভালো কর্মচারী হবে। একজন রাজনীতিবিদ আরো ভালো রাজনীতিবিদ হবে। একজন ডাক্তার আরো ভালো ডাক্তার হবে। একজন ইঞ্জিনিয়ার আরো ভালো ইঞ্জিনিয়ার হবে। একজন কৃষক আরো ভালো কৃষক হবে। একজন শিল্পী আরো ভালো শিল্পী হবে।
এককথায় বিবেকানন্দ হচ্ছে সম্পূর্ণ আদর্শ যা অনুসরণ করলে একজন প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠবে।
সকল ধর্মের সকল জাতির সকল বর্ণের মানুষ বিবেকানন্দ-অনুসরণ করতে পারে।
আজ আমাদের একটাই অভাব। প্রকৃত চরিত্রবান-হৃদয়বান-মনুষ্যত্ত্ববোধসম্পন্ন-নীতিবান-সৎ-নিঃস্বার্থপর-সংযমী-শ্রদ্ধাবান মানুষ।
প্রকৃত মানুষ হওয়ার মধ্যেই সব সমস্যার সমাধান লুকিয়ে আছে।
আসুন আমরা বিবেকানন্দ পড়ি-বিবেকানন্দ শুনি-বিবেকানন্দ অনুসরণ করি। বিবেকানন্দ সকলের। আসুন আমরা আগে নিজেরা অনুসরণ করি তারপরে অপরের সামনে যেই আদর্শ তুলে ধরি। নিজে মানুষ হবো ও অপরকে মানুষ হতে সাহায্য করবো। এই হোক আমাদের এই মহূর্তের একমাত্র সাধনা-তপস্যা-কর্তব্য-উপাসনা।
2 years ago | [YT] | 41
View 6 replies
Swami Basudevananda
*একজন আদর্শ ছাত্র*
ব্রহ্মচারী শুভব্রত মহারাজ
হারিট শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ কৃপাপ্রার্থী সঙ্ঘ
1. একজন আদর্শ ছাত্র সর্বদা ব্রহ্মচর্যব্রত পালন করে চলবে অর্থাৎ তার জীবন হবে কায়মনবাক্যে সংযমী। শরীরে সংযমী, মনে ও চিন্তায় সংযমী এবং বাক্যে সংযমী।
2. "ছাত্রানামাধ্যয়নং তপ" অর্থাৎ অধ্যয়নই একজন ছাত্রের তপস্যা। সাধনা জ্ঞানে পড়াশোনা করতে হবে। প্রতিটি সাবজেক্ট এর উপরে তার দক্ষতা থাকবে। প্রবল আত্মবিশ্বাস থাকবে । দক্ষতা র পরিশ্রম উভয়ই দরকার সাফল্যের জন্য।
3. একজন আদর্শ ছাত্রকে শুধু মেধাবী হলেই হবে না, হতে হবে হৃদয়বান, হতে হবে চরিত্রবান।
4. একজন আদর্শ ছাত্র শারীরিক ভাবে সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিত ব্যায়াম অনুশীলন করবে।
5. একজন আদর্শ ছাত্র সর্বদা নৈতিক হবে। কোনো অনৈতিক কাজ সে করবে না।
6. শিক্ষক শিক্ষিকাদের অন্তর থেকে শ্রদ্ধা করবে। কোনো অসৎ ব্যাবহার শিক্ষিকদের প্রতি সে করবে না। শিক্ষক শিক্ষিকাদের সে মাতা পিতা জ্ঞানে শ্রদ্ধা করবে।
7. পড়াশোনায় এমন আত্মবিশ্বাস থাকবে যে সে
সর্বদা সর্বোচ্চ লক্ষ্যতে পৌঁছাতে সচেষ্ট থাকবে।
8. একজন আদর্শ ছাত্র সর্বদা সদচারী, শৃঙ্খলাপরায়ণ ও শিষ্টাচারী হবে।
9. একজন আদর্শ ছাত্রের লক্ষণই হবে সে কোনো অসৎ কাজের সাথে একমুহূর্ত যুক্ত থাকবে না। এমকনকি অসৎ সঙ্গ সে পরিত্যাগ করবে।
10. একজন আদর্শ ছাত্রের পড়াশোনা, খাওয়া, ঘুমানো, ব্যায়াম, খেলাধুলা, বেড়ানো ইত্যাদির নির্দিষ্ট টাইম থাকবে। সারাদিনের একটা সুন্দর রুটিন থাকবে। সুন্দর রুটিন তার ছাত্র জীবনকে আরো সুন্দর করে তুলবে ও সাফল্য এনে দেবে।
11. একজন আদর্শ ছাত্র পড়াশোনায় খুব একাগ্র হবে। তার জন্য দিনে অন্তত দুবার কমপক্ষে 5 মিনিট একাগ্রতা বা মনসংযোম অভ্যাস করবে। এতে সর্বকাজে সে অনেক বেশি শক্তি ও উৎসাহ অনুভৱ করবে।
12. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটা একজন আদর্শ ছাত্রের থাকবে সেটা হলো সে চরিত্রগঠনকারী শিক্ষা লাভ করার জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকবে। চরিত্র গঠনের জন্য একজন ছাত্রের স্বামী বিবেকানন্দের বইয়ের চেয়ে উৎকৃষ্ট বই আর দুটি নেই। নেতাজী সুভাষচন্দ্র বলেছিলেন, "চরিত্র গঠনের জন্য রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ সাহিত্য অপেক্ষা উৎকৃষ্ট সাহিত্য আমি কল্পনা করিতে পারিনা।" মানসিক, বৌদ্ধিক ও সর্বোপরি আধ্যাত্মিক বিকাশের জন্য একজন ছাত্র কে রোজ অন্তত 15 মিনিট বাধ্যতামূলক স্বামীজীর বই পড়তেই হবে। তবেই সে আদর্শ ছাত্র বরেলে বিবেচিত হবে। আর এটাও তাকে খেয়াল রাখতে হবে যা সে স্বামীজীর বইয়ে পড়ছে তা যেন সে জীবনে পালন করে তবেই হবে তার শিক্ষাজীবনের পূর্ণতা, সাফল্য ও যথার্থ জীবন গঠন। স্বামীজী বলতেন, মানুষ-তৈরিই তার ব্রত। তাই এমন এমন শিক্ষা লাভ করতে হবে যাতে প্রকৃত মনুষত্ব লাভ করা যায়। প্রকৃত মনুষত্ব লাভই শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য। তাই স্বামীজী বারবার "Man-Making education" এবং "Character-Building education" এর কথা বলতেন।
13. একজন আদর্শ ছাত্র বিদ্যালয় কে নিজের বাড়ি মনে করবে ও সেইমত যত্ন করবে। বিদ্যালয় হবে তার কাছে মন্দিরের মতো।
14. একজন আদর্শ ছাত্র তার মা বাবাকে দেবদেবী জ্ঞানে শ্রদ্ধা করবে। মা বাবা যে তার জন্য কত পরিশ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করছে তাকে পড়ানোর জন্য সেটা যেন সে সর্বদা মনে রাখে ও সেইরূপ শ্রদ্ধাশীল হয় ও আচরন করে।
15. একজন আদর্শ ছাত্র পড়াশোনায় অবশ্যই মেধাবী হবে, কিন্ত তার সাথে নিঃস্বার্থপরও হবে। অসহায় মানুষের সাহায্যের জন্য সদা প্রস্তুত থাকবে। মস্তিস্ক ও হৃদয়ের সমান বিকাশে সে হবে আদর্শ ছাত্র।
16. একজন আদর্শ ছাত্রের জীবন শুধু নিজের জন্যই নয় বরং সমাজেরও যাতে কিছু কল্যানকর কাজ করা যায় সেই দিকেও তার সজাগ দৃষ্টি থাকবে। স্বামীজী বলেছেন,"ত্যাগ ও সেবা ভারতের জাতীয় আদর্শ।"
* আদর্শ শিক্ষক কে????*
"অন্ধকারে যিনি আলো দেখান, হতাশায় যিনি আশা জাগান, মিস্টি শাসনে যাঁর অন্তরের ভালোবাসা থাকে, যিনি ছাত্র বা ছাত্রীর অবস্থায় নিজেকে অনুভব করে সেখান থেকে তাদের উঁচুতে উঠতে সাহায্য করেন, যিনি ছাত্রের সহস্র প্রশ্নেও এতটুকু ক্রোধ প্রকাশ করেন না বরং তাকে সহানুভুতির সঙ্গে বুঝিয়ে দিতে চেষ্টা করেন, যিনি ছাত্রের মধ্যে বিষয়ের প্রতি উৎসাহের মধ্যে দিয়ে ভালোবাসা বাড়িয়ে দেন, যিনি সর্বদা বন্ধুর মতো পাশে থাকেন, পিতার মত গাইড করেন, মায়ের মত শর্তহীনভাবে ভালোবাসেন, যিনি শেখান শুধু অর্থ রোজগার নয়, তার সাথে চরিত্র অর্জন করাই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য এবং যিনি জীবনের মূল লক্ষ্যের দিকে তাকে এগিয়ে যেতে নিজের এক আদর্শ জীবন সামনে উপস্থাপন করেন তিনিই হচ্ছেন প্রকৃত শিক্ষক বা শিক্ষিকা।"
2 years ago | [YT] | 44
View 6 replies
Swami Basudevananda
*যথার্থ* *রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ* *অনুসরণ*
( *চাই* *একটি* *আদর্শ* *জীবন* )
কলমে: শুভব্রত মহারাজ
হারিট শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ কৃপাপ্রার্থী সঙ্ঘ
হারিট, হুগলী
1. ঠাকুর-মা-স্বামীজিকে যথার্থ যিনি অনুসরণ করবেন তার জীবন হবে *সৎ ও পবিত্র*।
2. *সংযমের জীবন হবে*। কোনো অবস্থাতেই তিনি লোভ বা কামনার বশবর্তী হয়ে সততা বিসর্জন দেবেন না।
3. তিনি *নিঃস্বার্থপর* হবেন। স্বামীজী বলছেন, "পবিত্র ও নিঃস্বার্থ হতে চেষ্টা করো তার মধ্যেই সমস্ত ধর্ম।"
4. তিনি মনুষ্যত্ববোধে পরিপূর্ণ হবেন। মানবিক হবেন। স্বামীজী বলছেন,"এসো মানুষ হও " অর্থাৎ *প্রকৃত মানুষ* হতে হবে।
5. তার মধ্যে থাকবে *প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস ও সাথে ঈশ্বরে বিশ্বাস*।
6. তিনি *অবশ্যই চরিত্রবান হবেন*। স্বামীজী বলছেন, "মনে রাখবে, ব্যাক্তিগত চরিত্র ও জীবনই শক্তির উৎস অন্য কিছু নয়।"
7. তিনি হবেন *খুব শ্রদ্ধাশীল*।
8. সকলকে নিয়ে মিলেমিশে কাজ করার যোগ্যতা থাকতে হবে।
9. তিনি হবেন *অকপট*। কোনো রকম ছল বা শঠতা তার মধ্যে থাকবে না।
10. তিনি হবেন *সাহসী ও সহানুভুতিসম্পন্ন*। খুব *উদ্যমী* হবেন। I
11. *মাতৃজাতীর প্রতি তার থাকবে বিনম্র শ্রদ্ধা*। মেয়েদের সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। মেয়েদের ঈশ্বরজ্ঞানে দেবীজ্ঞানে শ্রদ্ধা করতে হবে। শুধু তাই নয় মেয়েদের উন্নতির জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব নিতে হবে। স্বামীজী বলেছেন,"মেয়েদের নিচে ফেলে কেউ উঠতে পারে না।" তিনি আরো বলেছেন," যেখানে স্ত্রী লোকের আদর নেই, স্ত্রীলোকেরা নিরানন্দে অবস্থান করে, সে-সংসারের সে-দেশের উন্নতির কখনো আশা নেই।"
12. তিনি *সত্যকে সর্বদা ধরে থাকবেন*। কোনো অবস্থাতেই তিনি সত্যকে ছাড়বেন না। তিনি সত্যবাদী হবেন। স্বামীজী বলছেন,"সত্যের জন্য সবকিছুকেই ত্যাগ করা চলে কিন্ত কোনো কিছুর জন্য সত্যকে ত্যাগ করা চলে না।"
13. তিনি *সরল* হবেন। সরল নাহলে তিনি কখনো যথার্থ আধ্যাত্মিক হতে পারবেন না।
14. তিনি সর্বদা *নিজের লক্ষ্যে দৃঢ় ও অবিচল* থাকবেন।
15. তিনি *নাম যশ ও প্রভুত্বস্পৃহা বিসর্জন দেবেন* ও কাজ করবেন।
16. *তিনি সর্বদা দীন দরিদ্র অসহায় মানুষের সাহায্যের জন্য এগিয়ে যাবেন। তাদের দেবতাজ্ঞানে সেবা করবেন*।
17. তিনি তার *মাতা পিতাকে দেবদেবী জ্ঞানে সেবা করবেন ও শ্রদ্ধা* করবেন।
18. তিনি *প্রকৃত শিক্ষিত হবেন ও ওপরের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা* করবেন।
19. তিনি *সমদর্শী* হবেন। সকলের ওপর তার সমান ভালোবাসা থাকবে। তিনি সকলকে ভালবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করবেন।
20. তিনি *নিজে আদর্শ জীবন যাপন করবেন* ও *অপরকে উৎসাহ দেবেন নৈতিক আদর্শ জীবন যাপনের জন্য*। তার জীবনই হবে সকলের কাছে উদাহরণস্বরূপ।
আরও আছে। মোটামুটি এই লক্ষণগুলি বা সদগুনগুলিকে যদি জীবনে ফুটিয়ে তোলা যায় তবেই হবে ঠাকুর-মা-স্বামীজীকে যথার্থ অনুসরণ। এইগুলি যে পুরুষ বা নারীর মধ্যে প্রকাশ হতে শুরু করেছে বা অনুশীলন করছেন তাকেই বলা যাবে প্রকৃত *রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ অনুরাগী*। তিনি একজন সাধু হতে পারেন। তিনি শিক্ষক বা শিক্ষিকা হতে পারেন, ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে পারেন, তিনি একজন ছাত্র বা ছাত্রী হতে পারেন, তিনি একজন অফিসার বা সাধারণ কর্মী হতে পারেন, বা তিনি একজন ব্যবসাদারও হতে পারেন।
2 years ago | [YT] | 30
View 7 replies
Load more